ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান। পুরনো ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

তিনি জানান, সভায় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, কার্যকর পাঠদান, শিক্ষকদের যুগোপযোগী ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে কর্মরত অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তারা শিক্ষাক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন।

পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা শনাক্তে জাপানের ১.৪৫ লাখ ডলারের সহায়তা
ঢাকার বস্তি এলাকায় যক্ষ্মা রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে ১ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে জাপান সরকার।  সোমবার (৬ অক্টোবর) জাপানি দূতাবাসে একটি অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ’ (icddr,b)-এর প্রতিনিধিরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। জাপানের ‘গ্রাসরুটস হিউম্যান সিকিউরিটি প্রজেক্টস’ (GGP) বা তৃণমূল পর্যায়ের মানব নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অনুদানের অর্থে ‘ঢাকা জেলায় যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি সংগ্রহ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে।  প্রকল্পের আওতায় icddr,b একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার এবং একটি ফুজিফিল্ম পোর্টেবল ডিজিটাল এক্স-রে ইউনিট সংগ্রহ করবে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা দলগুলো স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে সীমাবদ্ধতা থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি যক্ষ্মা স্ক্রিনিং সেবা পৌঁছে দেবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৯ হাজার মানুষকে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আগে শনাক্ত হয়নি এমন যক্ষ্মা রোগীদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি তাদের উপযুক্ত চিকিৎসার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং যক্ষ্মার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে প্রকল্পটি সহায়ক হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, জাপান মানব নিরাপত্তাকে, অর্থাৎ মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যারা বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখোমুখি হন, তাদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে এই প্রকল্প জাপানের সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। বাংলাদেশে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে icddr,b ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ও সম্প্রসারণযোগ্য সমাধান উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নে কাজ করে থাকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দক্ষতার সঙ্গে জাপানি প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটবে। অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে টয়োটা সুশো কর্পোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিদানিও উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে টয়োটা সুশো কর্পোরেশন এবং ফুজিফিল্ম গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করবে। জাপান সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের মানব নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৯৮৯ সাল থেকে জিজিপি (GGP)-এর আওতায় ২২৪টি এনজিও প্রকল্পকে সহায়তা দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে জিজিপির আওতায় দেয়া অনুদানের মোট পরিমাণ প্রায় ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আরটিভি/এসআর
ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা শনাক্তে জাপানের ১.৪৫ লাখ ডলারের সহায়তা
সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি পাচ্ছেন জুলাইযোদ্ধারা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি নিশ্চিতের পাশাপাশি এর বীর রাজনৈতিক ও সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের (জুলাই যোদ্ধা) সুনির্দিষ্ট তফসিলে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা বা দায়মুক্তি দিতে যাচ্ছে সরকার।
সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি পাচ্ছেন জুলাইযোদ্ধারা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা, ডায়াগনস্টিক কিট, ওষুধ এবং স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করেছে সরকার। ফলে বিগত তিন বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে ডেঙ্গু চিকিৎসা সহজলভ্য করা, ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার ০.৩১ শতাংশে রাখা সম্ভব হয়েছে। এ বছর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৮১ জনের মৃত্যুর হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুতে এই হার ছিল ০.৫৩ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৪৮২ জনের মৃত্যুতে ০.৪৯ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৩২৩ জনের মৃত্যুতে এই হার ছিল ০.৩৪ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে মৃত্যুর হার ছিল ০.৪২ শতাংশ। সরকারি নির্দেশনার আলোকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সার্ভিস ও ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু, পর্যাপ্ত ডায়াগনস্টিক কিট ও স্যালাইনের মজুত এবং বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু এনএস১ পরীক্ষা নিশ্চিতকরণসহ দেশব্যাপী ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।  রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ২২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। সেখানে দুটি ফ্লোরকে ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রূপান্তর করে হাসপাতালটি তাদের মোট শয্যা সংখ্যা ৬০টি (শিশুদের জন্য ২০টি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪০টি) থেকে বাড়িয়ে ২০০টিতে উন্নীত করেছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যাতে তারা ওয়ার্ড থেকে বের না হয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন। তিনি জানান, ডেঙ্গু চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা সম্প্রতি একটি ইন-হাউস সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। তাছাড়াও মেডিসিন ও শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা নিয়মিত সকালে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেশন পরিচালনা করছেন, যা মৃত্যুর হার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে ৪০২, ৫০২ এবং ৭০২ নম্বর ডেডিকেটেড ওয়ার্ডের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডটি নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত। ঢামেক ডেঙ্গু ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক শাহনুর শারমিন মুন্নি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্ধারিত ক্ষমতা প্রায় ৫০টি শয্যা হলেও রোগীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারণ ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম বেশি হয়। তিনি জানান, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় জরুরি পণ্যসামগ্রী, যেমন- আইভি ফ্লুইড (স্যালাইন), আইভি সেট, প্যারাসিটামল, বমি ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ এবং বিশেষ তরল হিসেবে ব্যবহৃত প্লাজমা সলিউশনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে হাসপাতালে। কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সক্ষমতা আরও ১০০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের অষ্টম তলায় আরও ১০০টি শয্যা চালু করেছি, যার মধ্যে ৫০টি পুরুষ এবং ৫০টি নারী রোগীদের জন্য।  ইতোমধ্যেই সেখানে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য আলাদাভাবে ৬ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্স নিয়োগ দিয়েছে। সাইদুর রহমান জানান, ১ হাজার ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে জরুরি বিভাগে ৫০টি শয্যা ছাড়াও প্রায় ২০০টি শয্যা বিশেষভাবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে। সব ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রোগী—যাদের রক্তপাত, তীব্র ডায়রিয়া বা অনিয়ন্ত্রিত বমির মতো গুরুতর লক্ষণ রয়েছে, তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। বাসসের খুলনা প্রতিনিধি জানান: ডেঙ্গু সংক্রমণের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হটস্পট হিসেবে খুলনা আবির্ভূত হওয়ায় সেখানকার বিভিন্ন সরকারি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংক্রমণের তীব্রতা বিবেচনায় খুলনা শহরের বিভিন্ন স্থানে ৯টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সপ্তাহজুড়ে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা সেবা প্রদান করা হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি ওয়ার্ড ও সংলগ্ন বারান্দায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কেসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে হাসপাতালে ৩০টি শয্যা সরবরাহ করেছে, যার ফলে হাসপাতালের মোট ডেঙ্গু শয্যা সক্ষমতা ১৫০টিতে পৌঁছেছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেও ডেঙ্গু রোগীদের ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা সেবা ও অস্থায়ী হাসপাতাল চালু করেছে এবং খুলনা ডায়াবেটিক সমিতি মাত্র ১০০ টাকা খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ সুবিধা চালু করেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নুরুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, দেশজুড়ে বিশেষ করে রাজধানীতে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেওয়ায় ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে ঢামেক প্রাঙ্গণে ফিল্ড হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার কথা বিবেচনা করছে সরকার। একই সাথে, ডেঙ্গু চিকিৎসা সহজতর করতে পর্যাপ্ত জায়গা সাপেক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কিছু রোগীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের কথাও বিবেচনা করছেন কর্তৃপক্ষ। ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে স্যালাইনের মজুতের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে প্রত্যাশিত চাহিদার কথা মাথায় রেখে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি) এবং এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)-কে পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পরিচালক জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইডস কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট প্রদান করেছে। এর ফলে দেশের যেকোনো অংশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া, চিকিৎসকরা যাতে ডেঙ্গু রোগীদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেন এবং ব্যবস্থাপনার ভুলে মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়—সে লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ডেঙ্গু চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডা. নুরুল ইসলাম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আরও জানান, হাসপাতালে যেন ডেঙ্গু থেকে নতুন করে সংক্রমণ না ছড়ায়, সেজন্য রোগীরা যাতে মশারি ব্যবহার করেন তা নিশ্চিত করছেন কর্তৃপক্ষ। আরটিভি/এসআর
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের
একনেকে উঠছে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং কার্বন নির্গমন কমাতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার এক বিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। 
একনেকে উঠছে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব
রোহিঙ্গা সংকট এখন বৃহত্তর নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে জড়িত: ঢাকা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক উদ্বেগের বিষয় নয়, এর সঙ্গে বৃহত্তর নিরাপত্তা ও অনিয়মিত অভিবাসনের বিষয়ও জড়িত। সেই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আরও জোরালো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশবিষয়ক যুক্তরাজ্যের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ার ও এমপি আফসানা বেগমের নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদারে এপিপিজির অব্যাহত আগ্রহের প্রশংসা করেন। প্রতিনিধিদলে হাউস অব লর্ডসের সদস্য শওকত আদম এমপি ও লর্ড কুরবান হুসেইনও ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংহতি ও সংস্কার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে এপিপিজির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ততা তৈরিতে এপিপিজির সহযোগিতা চান। প্রতিনিধিদলটি বুধবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবে উল্লেখ করে এপিপিজির প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুর্দশা মোকাবিলায় তাদের সমর্থনের কথা জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সোচ্চার থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিনিধিদলটি। আলোচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময় জোরদার গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংহতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি কাজে লাগানো এবং মানবাধিকারের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করে এবং সংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চ্যানেলের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে। আরটিভি/এসআর
রোহিঙ্গা সংকট এখন বৃহত্তর নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে জড়িত: ঢাকা
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন বুটেক্সের ১৩ শিক্ষার্থী
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ শিক্ষার্থী
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য চূড়ান্ত মনোনীত হয়েছে জবির ১৬ শিক্ষার্থী 
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী