ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নতুন দাবি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
ফাইল ছবি

নবম জাতীয় পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতনে কাটছাঁটের শঙ্কায় বিবৃতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও কাটছাঁট করা হলে, তা মেনে নেওয়া হবে না। বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়িয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সেই হিসাবে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতনে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে তা দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকায়। এই সুপারিশ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মতে, অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সেই তুলনায় বর্তমান প্রস্তাব অপর্যাপ্ত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম এবং কর্মচারীদের ধারাবাহিক দাবির পর নবম পে স্কেল আসছে। কিন্তু, এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বেতন বাড়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, নবম পে স্কেলে যে পরিমাণ বেতন বাড়ানো হতে পারে, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি দ্রব্যমূল্য ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে। ফলে পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আরও বলেছে, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের বর্তমান আর্থিক অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে দুটি পে স্কেলের সমন্বয় করে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। কিন্তু, ওই দাবির তুলনায় কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, এর ফলে বৈষম্যের আরেকটি স্তর তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও আরও কমিয়ে দেয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্যই থাকবে না। এতে সাধারণ কর্মচারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একইসঙ্গে কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা, হতাশা ও অভাব আরও বেড়ে যাবে।

সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা দাবি জানিয়েছেন, সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও কিছুটা বাড়ানো হোক।

বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশেরও আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এবারের দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি
চলতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচদিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন।
এবারের দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি
সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: ডিএনসিসি প্রশাসক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই পরিচয়ে বাংলাদেশি এবং এ দেশের সমান নাগরিক।’
সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: ডিএনসিসি প্রশাসক
বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা চলছে: তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির ‘বয়ান’ তৈরির চেষ্টা চলছে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির নাম জড়ানোর প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা আসলে রয়েছে। এটা রাজনীতি। আমি এটা বলছি না এই সরকারের সময়ে, এই সরকারের সঙ্গে কানেক্টেড বা এই সরকারের দলের নাম নিয়ে কেউ এটা করছে না। তিনি বলেন, আমরা ন্যারেটিভের কথা বলছি, এই চেষ্টা ইন্টেরিমের সময় থেকেই আসলে রয়েছে। এই চেষ্টা চলছে এবং এটা রাজনীতি। এই রাজনীতি করার চেষ্টা তারা করতেই পারেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, হামলার শিকার হওয়ায় সালমানের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই চাঁদাবাজি ও বিএনপির সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ সামনে এসেছিল, পরবর্তী সময়ে সেই বক্তব্যের কিছু অংশ পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে জনপ্রিয় ও ব্যাপক অনুসারী থাকা কোনো ব্যক্তি অভিযোগ করলে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি হয়। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পরবর্তী সময়ে সালমান সরাসরি তার কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য সংশোধন করেছেন। ফলে প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে যেসব রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রচার হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।  জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমানের প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াতের আমির সরকার ও সরকারি দলকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। পরে নতুন তথ্য সামনে এলেও সেই পোস্ট প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কেউ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। কিন্তু পরে সেই তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ বলে প্রতীয়মান হলে নিজের অবস্থান সংশোধন করাও দায়িত্বশীল আচরণের অংশ। এনসিপির কয়েকজন নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিএনপি, দলটির নেতৃত্ব এবং সরকারকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য সামনে এলেও সেসব বক্তব্যের অনেকগুলো সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার ক্ষমতায় থাকলে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। এ জন্য অপতথ্যের প্রয়োজন নেই। তবে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে সরকার হালকাভাবে দেখছে না বলে জানান তিনি। তার বক্তব্য, কোনো নাগরিকের প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর বা তার ওপর হামলা হলে তা ঠেকানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এমন ঘটনা ঘটলে সরকার বিব্রত ও দুঃখিত হবে। হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানান তথ্য উপদেষ্টা।  তিনি বলেন, তদন্তে ক্ষমতাসীন দলের কোনো ব্যক্তি, পুলিশ সদস্য বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করাই তদন্তের শেষ নয়। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/এসআর
বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা চলছে: তথ্য উপদেষ্টা
১৮ দেশের বাজারকেন্দ্রিক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার: বাণিজ্য সচিব
বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেছেন, দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমাতে পণ্য ও বাজার— উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনতে সমন্বিত কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার।
১৮ দেশের বাজারকেন্দ্রিক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার: বাণিজ্য সচিব
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
আরও পড়ুন
পে-স্কেল নিয়ে এবার সুখবর পেতে যাচ্ছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
নতুন বেতন স্কেল: সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ল, সাধারণ মানুষের কী
নতুন পে-স্কেলে প্রাথমিকের শিক্ষকদের জন্য দুঃসংবাদ!
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, কার বেতন কত হলো