ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

গুলশান-ধানমন্ডি-নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমন্ডি লেকের দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাজধানীর লেকগুলোর দূষণ রোধ, সংস্কার ও পরিবেশগত উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে জুলাইয়েও ধানমন্ডি ও গুলশান লেকের উন্নয়ন ও অবৈধ বর্জ্য সংযোগ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক হয়েছিল।

বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমন্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে লেকে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ করছে। সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ উপস্থাপন করে।

লেকের দূষণ রোধে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া তৈরির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম নিয়োজিত করা হয়েছে।

বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সচিবালয়ে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব জানান । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে রোববার (১ নভেম্বর) মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সোমবার সেই বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে অথবা সম্ভাব্য খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন। এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হবে এবং সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যথা-শিগগির সম্ভব তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে সেটি ঘোষণা হতে পারে। আশা করি, তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে পারবেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন যেন শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয় এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়। শ্রমিকদের বিষয়গুলো যেন অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হয়। সুতরাং, বাস্তবতার নিরিখে মজুরি নির্ধারিত হবে। এখানে অসন্তোষের কিছু নেই। গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শিল্প মালিকদের সহযোগিতা চেয়েছি এবং তারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। সেই সঙ্গে তারা বলেছেন কিছু শিল্প মালিক আছে এবং শিল্প কারখানা আছে, যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিল্প কারখানা বন্ধ করেছে। তাদের তালিকা তারা আমাদের প্রদান করবেন। এ ছাড়াও কিছু কিছু শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এখানে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য পাঁয়তারা করছে, সে সব সংগঠন এবং নামের তালিকাও আমরা তাদের সরবরাহ করতে বলেছি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিক এবং কোনো শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থাকতে পারেন না। আন্দোলনের নামে সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। তাদের পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তারা চিহ্নিত হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে কিছু শিল্প-মিল মালিক জড়িত আছে এবং শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে কিছু লোকজন অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টি করেছে, যা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না। আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দিতে চাই যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আরটিভি/এসকে
সচিবালয়ে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার ‘আগাম বার্তা’ পাবেন কৃষকরা
কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস। এর ফলে বৃষ্টি, তাপমাত্রার পরিবর্তন কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হতে পারবেন কৃষকরা। 
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার ‘আগাম বার্তা’ পাবেন কৃষকরা
পোশাক শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠনের আলোচনার মধ্যে পোশাক শিল্পে এমন অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা যারা করছে তাদের পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছেন তারা চিহ্নিত হয়েছে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, এখানে দুঃখজনক হলেও কিছু শিল্প মালিকরা জড়িত আছেন এবং কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে যারা শ্রমিকদের কল্যাণ চায় কিনা সেটা প্রশ্নবিদ্ধ সে সমস্ত লোকজন এই অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। রাস্তায় আন্দোলনের নামে দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে যেটা কোনভাবেই শ্রমিকদের কোন কাজে আসবে না। সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের দুইটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব শিল্প মালিকদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, যারা নিষিদ্ধ সংগঠনের হয়তো কোন কোন সময় কেউ এমপি বা কেউ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিল সেসমস্ত শিল্প মালিকরা তারা এ সমস্ত অস্থিরতার পেছনে কাজ করছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে এবং সেটার প্রমাণও আছে। একইসঙ্গে, যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির কাজে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। শিল্প মালিকদের বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা বলেছেন, কিছু শিল্প মালিক আছে এবং শিল্প কারখানা আছে যারা উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে শিল্প কারখানা বন্ধ করেছে তাদের তালিকা তারা আমাদেরকে প্রদান করবে। আর কিছু কিছু শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এখানে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য পাঁয়তারা করছে সে সমস্ত সংগঠন এবং নামের তালিকাও দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, কোন শ্রমিক এবং শ্রমিকদের সংগঠন শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী কোন কাজে জড়িত থাকতে পারে না বলে সরকার বিশ্বাস করে। যদি ভুলক্রমে এ সমস্ত কাজে কেউ ইন্ধন দিয়ে থাকে বা জড়িত থাকে তাহলে আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাবো, তারা যেন সে সমস্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে। কারণ আমরা কঠোরভাবে সেটা দমনের চেষ্টা করবো যারা যেভাবেই হোক অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, ঘৃণ্য পলিটিকেল কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় যা কিছু তারা করা চেষ্টা করছে যেভাবেই হোক তা আমরা প্রতিহত করব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা কোন শিল্প কারখানা বন্ধ হোক সেটা চাই না, একমূহুর্তের জন্যও হোক চাই না। কোন অস্থিরতা সৃষ্টি হোক সেটা চাই না। আরটিভি/এসকে
পোশাক শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে :  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পদ্মা ব্যারাজে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বছরে মিলবে বড় অর্থনৈতিক সুবিধা
শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট, বর্ষায় বন্যা-জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংকট। এসব সংকট মোকাবিলায় বড় সম্ভাবনা সরকারের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। 
পদ্মা ব্যারাজে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বছরে মিলবে বড় অর্থনৈতিক সুবিধা
মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, লিখতে হবে যেভাবে
মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক লাইনে লেখার অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, লিখতে হবে যেভাবে