ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার দূরদর্শী প্রতিফলন

বাসস

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার এক তাৎপর্যপূর্ণ, সময়োপযোগী ও ভারসাম্যের প্রতিফলন।

মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ১৭ মিনিটের এই ঐতিহাসিক ভাষণ একদিকে যেমন বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন ও বহুপাক্ষিকতার বৈশ্বিক দাবিগুলোকে ধারণ করেছে; অন্যদিকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারগুলোকে যথাযথভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বৈধতা ও অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই ভাষণে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন) কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই স্ট্র্যাটেজি স্পষ্ট প্রমাণ করে বর্তমান সরকার কেবল কোনো জোড়াতালির সংস্কারে বিশ্বাসী নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেমেছে। ফ্যাসিবাদের অন্ধকার ফুঁড়ে দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেছেন।

আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর জোর প্রদান এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে, বাংলাদেশ আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক শক্তির করতলগত নয় এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া পবিত্র আমানত নিয়েই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে।

‘গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশ’—প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা বহুগুণে বেড়ে যাবে বলেও আমি প্রত্যাশা করি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবে নয়, আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি পরিপক্ক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।

আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব আরোপ এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ৫টি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ বা ক্লাইমেট জাস্টিস নিশ্চিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ অভ্যন্তরীণ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মহলে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন। সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন।

জিয়া পরিবারের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক ধারাবাহিকতা রয়েছে। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি এক বিরল ইতিহাসও। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ দেন। ২০২৬ সালে একই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বাংলায় ভাষণ দিলেন তারেক রহমানের। এটি কেবল পারিবারিক ধারাবাহিকতাই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াই ও স্বমহিমায় টিকে থাকার এক চিরন্তন স্মারকও।

‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’-এই প্রত্যয় নিয়ে দেওয়া এই ভাষণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত সুদৃঢ় করেছে।

লেখক: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, তথ্য অধিদপ্তর

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘে ভাষণের মাধ্যমে শান্তির দিশারী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলিষ্ঠ, তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর ব্যঞ্জনাময় যে ভাষণ দিয়েছেন তা’ আমার বিবেচনায় বিরলপ্রজ।
জাতিসংঘে ভাষণের মাধ্যমে শান্তির দিশারী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন তারেক রহমান
‘আ.লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারলে পুলিশদের পুরস্কৃত করা হবে’
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের পরিবর্তনটা দেখাতে হবে।
‘আ.লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারলে পুলিশদের পুরস্কৃত করা হবে’
‘জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণই বর্তমান সংকটের মূল কারণ’
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করায় দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটের দায় আগের সরকারের। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের আয়োজনে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। আব্দুল বারী বলেন, দেশে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও এসব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জ্বালানি কোথা থেকে আসবে, তার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়নি। তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতের এসব অপরিকল্পিত প্রকল্প ছিল আগের সরকারের অর্থ লুটপাটের পরিকল্পনার অংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারও দায়িত্ব পালনকালে যথাযথভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবেও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রুনাই ও মালয়েশিয়াসহ নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধানে বাপেক্সকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সরকার দ্রুত সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় উত্তরবঙ্গের আমশিল্পের উন্নয়ন, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পরে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আরটিভি/এসএস
‘জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণই বর্তমান সংকটের মূল কারণ’
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেকটি সুখবর
নবম জাতীয় বেতনকাঠামোর (পে স্কেল) প্রজ্ঞাপনের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরও একটি সুখবর দিয়েছে সরকার। সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) ও প্রদেয় ভবিষ্য তহবিলের (সিপিএফ) জমার বিপরীতে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেকটি সুখবর
মার্কিন ভিসা নিয়ে দূতাবাসের নতুন সতর্কবার্তা
ভিসার অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে ভবিষ্যতে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
মার্কিন ভিসা নিয়ে দূতাবাসের নতুন সতর্কবার্তা
আরও পড়ুন
জাতিসংঘে ভাষণের মাধ্যমে শান্তির দিশারী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ব্যস্ত প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা
এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেতানিয়াহুর ভুয়া ছবি ছড়ালেন ভারতের ময়ূখ
জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী