ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

আগামী দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান : ছবি সংগৃহীত

আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিনটি দেশ সফরের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে জাপানে বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানি, তুরস্কে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম (কপ৩১) সম্মেলনে অংশ নিতে, আর সৌদি আরব যাবেন দ্বিপক্ষীয় সফরে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের নতুন সময়সূচি নির্ধারণে দুই দেশ আলোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সফরটি হতে পারে।

টোকিও, রিয়াদ ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্র জানা গেছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপান সফরে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। এরপর নভেম্বরের প্রথম দিকে তুরস্ক, দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফর হওয়ার কথা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন এই তিন সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।

ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সেদেশ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তিন থেকে চার দিনের এই সফর আয়োজনের বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকায় দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

আঙ্কারা সূত্রে জানা গেছে, তুরস্কের আনাতোলিয়ায় আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হবে। এই বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের যুবরাজ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াদ সফরে যেতে পারেন। সফরটি আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়েছে।

জাপান সফর
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তারেক রহমানের তিন থেকে চার দিনের টোকিও সফর যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ইন্টেরিম সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস টোকিও সফর করেছিলেন। সেসময় জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। পাঁচ বছরে জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়ছিল। তখন জাপান জানিয়েছিল, ‘বে অব বেঙ্গল’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নসহ জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তারা সহযোগিতা জোরদার করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ীদের সম্মেলন আয়োজন ও জনশক্তি রপ্তানির অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রাধান্য পেতে পারে।

সৌদি সফর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত জনশক্তি রপ্তানির বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। গত আগস্টে সৌদির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেজি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পিত সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জ্বালানি আমদানি, বিনিয়োগ চুক্তি এবং আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রশ্নে সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

তুরস্ক সফর
তুরস্কের আনাতোলিয়ায় কপ৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ৯ থেকে ২০ নভেম্বর। আর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর। এই দুই দিনের জন্য তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির এক দশকের বেশি সময় পর এখন মূল প্রশ্ন, নতুন লক্ষ্য ঠিক করা নয়। বরং প্রশ্ন, আগে ঘোষিত লক্ষ্য কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, জলবায়ু অর্থায়নসহ ক্ষতিপূরণ তহবিল কতটা কার্যকর হবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার’
বুধবার (২১ অক্টোবর) কক্সবাজারের লিংক রোড সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত বায়োগ্যাস প্লান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এ পরিকল্পনার কথা জানান।
‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার’
১৩ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার
দেশে ১৩ বছরে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত হয়েছেন আর আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন। বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় এতগুলো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির জন্য বিগত সরকারের ভুলনীতি, রেল ও নৌপথ সংকুচিত করা এবং সড়কনির্ভর যাতায়াত ব্যবস্থা দায়ী। মোজাম্মেল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে দেশের প্রধান যাতায়াতমাধ্যম ছিল নৌপথ, দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রেলপথ। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এই দুই মাধ্যমে তখন ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত হতো। সড়কপথে যাতায়াত করতেন ২০ শতাংশ মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার পর রেল ও নৌপথ সংকুচিত করে একের পর এক সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ফলে মানুষের যাতায়াত সড়কনির্ভর হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সড়ক দুর্ঘটনার ওপরও।’ সড়ক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক, সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, বেপরোয়া গতি এবং মাদক সেবন করে যানবাহন চালানোর মতো কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন সমিতির মহাসচিব। চালকদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা যাচাইয়ে দুর্বলতা এবং অযোগ্য যানবাহনকে ফিটনেস সনদ দেয়ার বিষয়টিও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেন তিনি। মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া বৃদ্ধি ও চলাচল, সড়কে ডিভাইডার না থাকা, গাছপালার কারণে বাঁকে দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং মহাসড়কের নির্মাণত্রুটি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে যানবাহন চলাচল, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং চালকদের বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সমিতির অভিযোগ, উন্নত গণপরিবহন ও সমন্বিত যাতায়াতব্যবস্থার অভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নসিমন-করিমন, লেগুনাসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে। এতে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা—দুটিই বাড়ছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপরিশ সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করতে হবে। চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন নির্মাণ, পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা দরকার। মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেওয়ার পদ্ধতি আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন চলাচল বন্ধ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক ট্রেনিং একাডেমি প্রতিষ্ঠারও সুপারিশ করেছে সমিতি। আরটিভি/এমএ  
১৩ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার
সাত রোগে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে দেবে সরকার, আবেদন যেভাবে
ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ সাতটি জটিল ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন এক লাখ টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা দেবে সরকার।
সাত রোগে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে দেবে সরকার, আবেদন যেভাবে
৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে উপসচিব ওয়ালীউল দামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি
সিঁদুর খেলায় দুর্গার বিদায়, ‘আসছে বছর আবার হবে’
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ।
সিঁদুর খেলায় দুর্গার বিদায়, ‘আসছে বছর আবার হবে’
আরও পড়ুন
রাবণের মুখে মোদি-ট্রাম্প-দোভাল-আম্বানির ছবি লাগিয়ে কুশপুত্তলিকা দাহ 
তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
‘স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক প্রত্যাহার প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত মনোভাবের প্রমাণ’