ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ অন্য খেলোয়াড়দের ‘দাবার বোর্ড’ হতে চায় না: শামা ওবায়েদ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন এমন একটি অবস্থানে রয়েছে যেখানে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা অন্য খেলোয়াড়দের খেলার জন্য দাবার বোর্ড হতে চাই না।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের নিজেদের শর্তে খেলতে চাই। আমরা মাথা উঁচু রেখে বাকি বিশ্বের সঙ্গে আলোচনা, সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্ব করতে প্রস্তুত। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো আমাদের জনগণের স্বার্থ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘নতুন করে লেখা এক বিশ্ব’ শীর্ষক এক সেশনে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশকেও উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। যেখানে আমাদের দুটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

এর মধ্যে একটি হলো অপ্রত্যাশিত জ্বালানি সংকট এবং অন্যটি হলো বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাস ও কাজ করেন। এটি আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে, সেই সময়ে আমরা উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে কর্মরত ১৪ জন বাংলাদেশিকে হারিয়েছি।

তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে আমাদের নতুন সরকারের মূলনীতি সবসময়ই ছিল অর্থনৈতিক, কূটনীতি এবং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমল থেকে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় যেমন ছিল এবং এখন তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক- আর তা হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বৈচিত্র্যকরণ, নতুন উৎস এবং নতুন ক্ষেত্রগুলোর দিকে নজর দিচ্ছি যেখান থেকে আমরা জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারি। সেই সাথে দেশে আমাদের নিজস্ব গ্যাস এবং এলএনজি-এর উৎস রয়েছে, যা এর আগে বা বিগত সরকারের আমলে কখনো অনুসন্ধান করা হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আমরা ইতোমধ্যেই এর অনুসন্ধান শুরু করেছি। আমরা সৌরবিদ্যুতের দিকে নজর দিচ্ছি এবং প্রতিটি নাগরিককে জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছি।

শামা ওবায়েদ বলেন, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা ইতোমধ্যেই আমাদের অর্থনীতির ওপর একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ সবসময়ই এই বিষয়ে অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। কিন্তু একই সাথে, আমরা আমাদের অংশীদার, বন্ধু, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলছি, যাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানজনক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবাসন সম্ভব করার জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

'নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা' ’ স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। এতে বিভিন্ন দেশের সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন আগামী ৫ অক্টোবর শেষ হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাইক, গাড়ির মালিক-চালকদের বড় সুখবর দিল বিআরটিএ
জরিমানা ছাড়া মোটরযানের যাবতীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
বাইক, গাড়ির মালিক-চালকদের বড় সুখবর দিল বিআরটিএ
শেখ হাসিনাকে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া ভারতের বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী
শেখ হাসিনাকে ভারতে ঢুকতে দেয়া ছাড়া ওই সময় ভারতের হাতে আর কোনো সুযোগ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে এক সেশনে প্রশ্নের জবা‌বে ভারতীয় হাইক‌মিশনার এ কথা ব‌লেন।  দীনেশ ত্রিবেদী করেন, ঐতিহাসিক ও পুরোনো বন্ধু হিসেবে তৎকালীন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতের যা করা উচিত ছিল, তারা ঠিক সেটাই করেছে। শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজটিকে ভারতে অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনুমতি না দিলে কী ঘটতে পারত তা কারও জানা নেই। তিনি বলেন, ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে শেখ হাসিনাকে আমাদের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সেসময় বাংলাদেশের মর্মান্তিক পরিস্থিতির কারণেই এমনটা হয়েছিল এবং আমরা আশা করি, প্রার্থনা করি যে, এমনটা যেন আর কখনো না ঘটে, যেখানে নির্দোষ মানুষ নিহত হয়। সেটা পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন। তি‌নি আরও ব‌লেন, সামরিক বিমানটি ভারতে এসেছিল, যার জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল না। আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম এবং স্ক্রলে লেখা আসছিল যে তিনি অন্য কোথাও, অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। তাই সেই সময়ে, শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল। ভারতীয় হাইক‌মিশনার ব‌লেন, অনেক সময় পরিস্থিতি এমন হয় যেখানে আপনি এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। আমাদের কাছে আর কী বিকল্প ছিল? আমরা যদি বলতাম যে, না আমরা তাকে গ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেব না, তবে পরিস্থিতি যে কী দাঁড়াতো তা আমার জানা নেই। সুতরাং এটিই হলো ঐতিহাসিক কারণ। তি‌নি আরও বলেন, বাকিটা আমার জানা নেই। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, সে বিষয়ে আপনি পুরোপুরি নিশ্চিত থাকতে পারেন। বাংলাদেশের মতো ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং আপনিও আইনি ব্যবস্থাকে সম্মান করবেন বলে আশা করি। আর আইনি ব্যবস্থা তার কাজ করছে। আরটিভি/টিআর
শেখ হাসিনাকে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া ভারতের বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী
গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কেরানীগঞ্জ: ডিএমপি কমিশনার
আগামী তিন মাসের মধ্যে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়াতে গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, মিরপুরের উচ্ছেদ অভিযানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে মহাখালী বাস টার্মিনালের নতুন জায়গা দেখতে এসে এ কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। মহাখালী বাস টার্মিনালের নতুন করে বরাদ্দকৃত জায়গা দেখতে আসেন বাস মালিক সমিতির নেতারা। এ সময় ৮০টি বাস রাখার মতো নতুন জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ডিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান সরকার বাস ডিপো ও টার্মিনাল আলাদা করার কাজ করছে। মহাখালী টার্মিনাল নিজ জায়গায় থাকলেও ডিপো নিয়ে যাওয়া হবে পূর্বাচলে। এ ছাড়া ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল তিন মাসের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেরানীগঞ্জে চুনকুটিয়াতে। আলাদা করা হবে টার্মিনাল ও ডিপো। এদিকে সম্প্রতি মিরপুরের সিটি করপোরেশনে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি। এ সময় মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা বলেন, ঢাকার বাস টার্মিনাল এলাকার যানজট নিরসনে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আরটিভি/ এসকেডি
গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কেরানীগঞ্জ: ডিএমপি কমিশনার
কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাও করার চেষ্টা
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও চিন্ময় দাসের মুক্তির দাবিতে কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাও করার চেষ্টা
ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে অংশগ্রহণের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান