
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বদলি করা হয়েছে যুগ্মসচিব মো. জসিম উদ্দীনকে। গত ১২ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
জসিম উদ্দীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হক ঢাকা জেলার প্রশাসক (ডিসি) থাকাকালে ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত জসিম উদ্দীন ঢাকা জেলার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে মহিবুল হকের সঙ্গে যোগসাজশে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন জসিম উদ্দীন।
পরবর্তী সময়ে জসিম উদ্দীন ময়মনসিংহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে উপপরিচালক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখায় যুগ্মসচিব হিসেবে যোগ দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন ও ভালো পোস্টিং দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ২০০৫ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের ওসি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ঠেকাতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা জেলার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা থাকাকালে তিনি রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে দোকানের পজিশন কেনেন। এ ছাড়া ভোলায় একাধিক চিংড়ি হিমাগার এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছ থেকে নিজের বাড়ি সাজিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা জসিম উদ্দীনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হকের নামে থাকা ২১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার নামে বাগেরহাটের ফকিরহাট ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ছয়টি দলিলে থাকা মোট ১ দশমিক ৭২ একর জমি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মহিবুল হকের মেয়ে মোশরেকা মৌমিতা হকের নামে বাগেরহাটের ফকিরহাটে ০ দশমিক ১২৪৩ একর জমি এবং স্ত্রী সৈয়দা আফরোজা বেগমের নামে ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় ২ হাজার ৭০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটও জব্দের আদেশের আওতায় এসেছে। এছাড়া আটটি ব্যাংক ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে মহিবুল হক ও তার স্ত্রী সৈয়দা আফরোজা বেগমের নামে ২১টি হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
মহিবুল হকের বিরুদ্ধে নেওয়া এসব পদক্ষেপের পর তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরটিভি/টিআর


