ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

লংমার্চ ছেড়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।  ছবি: সংগৃহীত

লংমার্চ ছেড়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আর যেন কোনো জুলাই জাদুঘর না হয়, সেই জন্য চাই রাজনৈতিক ঐক্য ও বিরোধীদলের সহযোগিতা। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের উত্থানের পথ বন্ধ করতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক ঐক্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

এসময় বিরোধী দলকে লংমার্চ কর্মসূচি ছেড়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে লংমার্চের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

উচ্চকক্ষের ক্ষমতা নির্ধারণের বিষয়টি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আলোচকরা বলে গেছেন উচ্চকক্ষ যদি পিআর পদ্ধতিতে হয়, তাহলে এর ক্ষমতা, কর্মপরিধি ও এখতিয়ার কী হবে, সেটা পরে নির্ধারণ করা যাবে। তবে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসতে হবে। যেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেই নোট অব ডিসেন্টগুলো শিথিল করতে হলে আলোচনা করতে হবে। সেটা লং মার্চে হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে গঠন করা গেলে, সেই উচ্চকক্ষকে কী কী এখতিয়ার দেওয়া যাবে, তা আলোচনা করতে হবে। যদি সেটি অনির্বাচিত হয়, তাহলে নির্বাচিত সিনেটের মতো ক্ষমতা দেওয়া যাবে কি না, সেটিও আলোচনার বিষয়।

উচ্চকক্ষের সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি প্রস্তাব আমার ভাই নজরুল সাহেব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাদের গাড়ি, বাড়ি বরাদ্দ, বেতন-ভাতা না দিলে ভালো হবে। আমি সম্পূর্ণ একমত।

উচ্চকক্ষের মাধ্যমে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এসব বিষয়ে আলোচনায় আসতে হবে। নিম্নকক্ষে পাস হওয়া আইন পর্যালোচনা বা অনুমোদনের জন্য উচ্চকক্ষে পাঠানো হলে, কত দিন তারা সেটি নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন এবং কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে সংসদীয় ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় অসুবিধা হতে পারে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করতে হবে। উচ্চকক্ষে কোন কোন সংশোধনী যাবে, সেটা আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে; যাবে। কিন্তু আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি এলে কত সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হবে, কত দিনের মধ্যে পাস হবে এবং কোন কোন সংশোধনী সেখানে যাবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।

সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি বিচার বিভাগীয় ধারণা আছে—বেসিক স্ট্রাকচার। এই বেসিক স্ট্রাকচার আসলে কী, সেটি নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। এ ধরনের কোনো ধারা বা সংশোধনী উচ্চকক্ষে গেলে কী হবে, তা বিস্তারিত আলোচনার বিষয়। আমি তো আলোচনা চেয়েছি।

সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধীদলের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা চাইলেন সংবিধান সংস্কার করতে হবে। আমার ভাই (আসিফ নজরুল) একটি আদেশ পাস করে দিয়েছিলেন। এখন কি তা অস্বীকার করব? সেই আদেশ পাস না করার জন্য আমি তখন অনুরোধ করেছিলাম। রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও কথা বলেছি। এভাবে আদেশ দিয়ে সংবিধানকে স্পর্শ করা যায় কি না, সেটি প্রশ্ন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান প্রণীত হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে অনেক কিছু হয়েছে। সেগুলো পরবর্তী সময়ে নোটিফিকেশন দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হলে সবাই মিলে প্রতিশ্রুতি দিলে তখন আর আদেশ করতে হয় না। সমঝোতার দলিলে স্বাক্ষর হলে সেটি অঙ্গীকারে পরিণত হয়। যারা সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে, পরবর্তী সংসদে তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। সাধারণত এটাই রাজনৈতিক সমঝোতা।

এ সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বিচারকার্য পরিচালনায় বিচারকরা যথেষ্ট স্বাধীন। সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী দেশ ও জনগণ। জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে সরকার। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অনেক সংকট এড়ানো সম্ভব। রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি না করে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিরোধীদলকে আলোচনায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কৃত্রিমভাবে পাসের হার বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা হয়েছে: মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অতীতে জিপিএ-৫ ও পাসের হার কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে এবার মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ও সততার সঙ্গে উত্তরপত্র পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার আদলে এবারই প্রথম উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্রের পূর্ণাঙ্গ পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শনিবার(৩১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনায় এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে।  তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সময় ও মূল্যবান শিক্ষাজীবন বিবেচনায় নিয়ে এবার একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের যেন পুরো একটি বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সে জন্য দ্রুততম সময়ে, সম্ভব হলে এক মাসের মধ্যেই পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। পরীক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। তিনি আরও জানান, ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে মোট পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন। মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কিংবা অসদুপায় অবলম্বন ঠেকাতে শিক্ষামন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভির আওতা বাড়ানো এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে অত্যন্ত আনন্দমুখর ও ইতিবাচক পরিবেশে এবার উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সাফল্য জাতির জন্য গর্বের। গণমাধ্যমকর্মীদের এসব শিক্ষার্থীর মেধা, সংগ্রাম ও অনুপ্রেরণার গল্প তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি, যাতে তাঁদের সাফল্য অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। তবে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলকে কোনো শিক্ষার্থীর জীবনের সামগ্রিক সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, যারা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি, তাদের প্রতিও সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/এসআর
কৃত্রিমভাবে পাসের হার বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা হয়েছে: মাহ্দী আমিন
বিআইডব্লিউটিএর নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায়, পরীক্ষার্থীর ৩ মাসের কারাদণ্ড
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে এক পরীক্ষার্থীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় অবৈধভাবে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার সময় ওই পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ মন্ত্রণালয়। নিয়োগ পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অসদুপায়ের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কঠোর। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের পরীক্ষার নিয়মনীতি মেনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। আরটিভি/এসআর
বিআইডব্লিউটিএর নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায়, পরীক্ষার্থীর ৩ মাসের কারাদণ্ড
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন / মির্জা ফয়সলকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছিল ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। আজ তাদের অনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে পেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর-১৫৫-এর অনুচ্ছেদ ৩৯-এর দফা (৪) অনুসারে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।  এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১  আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭টি ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪। নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন— জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। এর আগে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গত ২২ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আরটিভি/এসআর
মির্জা ফয়সলকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ
দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণ সবার আগে: চিফ হুইপ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণ সবার আগে। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না। সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ নির্বাচন। তিনি আরও বলেন, জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ভোটের মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠন করবে। আজ শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ বলেন, আন্দোলন করে কি সরকার হতে পারে? সরকার গঠনের পথ হলো নির্বাচন। যারা আন্দোলনের নামে অস্থির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তাদের বুঝতে হবে, দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণ সবার আগে। নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আমরা চাই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভালো কাজ করলে জনগণ তার সুফল পাবে। আর সরকার ভালো কাজ করতে না পারলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে। একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘাত তৈরি করলে তার সুযোগ নেবে অন্যরা। আমরা নিজেরা ঝগড়া করার পরে পথ সুগম হবে কার? যারা আমাদের বিভক্ত দেখতে চায়, তাদের। দুই ভাই যখন ঝগড়া করে, তখন পাশের বাড়ির লোক সালিশ করতে আসে; কিন্তু সেই সুযোগে সে দুই ভাইয়ের সম্পত্তিই কিনতে চায়। চিফ হুইপ আরও বলেন, দেশটা যদি ধ্বংস হয়, তাহলে আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে কী জবাব দেব? ৫৪ বছরে আমরা অনেক সময় নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছি। এখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। জ্বালানি সংকট ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ এখনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে জিম্মি করতে চায়, দেশের ২০ কোটি মানুষকে জিম্মি করতে চায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দক্ষ ও শিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বরিশাল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আপনারা দেশ গড়ার কারিগর। আপনাদের মেধা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। আপনাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব। অনুষ্ঠানে আইডিইবির নেতৃবৃন্দ, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণ সবার আগে: চিফ হুইপ
ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট চালু হচ্ছে কবে, জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত ও পড়ে থাকা সাভারের ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট’ আগামী পহেলা জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট চালু হচ্ছে কবে, জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
আরও পড়ুন
সাত দফা দাবিতে কুষ্টিয়ামুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু
ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মানসিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে আলোচনা চলছে চীন-তুরস্ক-পাকিস্তানের সঙ্গে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী