ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

‘পোশাকশ্রমিক-হকারদের মাঠে নামিয়ে ভয়ংকর ছক কষছে নিষিদ্ধ আ.লীগ’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি গোয়েন্দা সূত্রের। তবে আগাম তথ্য থাকার পরও সরকার কার্যকর প্রস্তুতি নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য- এরকম খবর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশের প্রায় সব পত্রিকার প্রথম পাতায় জায়গা পেয়েছে।

নয়াদিগন্তের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরকে ঘিরে নভেম্বর মাসজুড়ে সংঘাত-সহিংসতার পরিকল্পনা নিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে ছিল। সীমান্তের ওপারে কলকাতায় বসে নাশকতার ছক তৈরির বিষয়েও সরকারের কাছে স্পষ্ট তথ্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

এরপরও আগাম প্রস্তুতির ঘাটতিতে গত রোববার থেকে শুরু হওয়া পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। রাজধানীর মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে প্রায় ৬৯০টি পোশাক কারখানা বন্ধের খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শ্রমিকদের আন্দোলনে ঢুকে পড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে নেওয়ার পেছনে দলটির নেতাকর্মীদের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ কাজে শক্তি ও অর্থের জোগানদাতা হিসেবে শিল্পমালিকদের একটি অংশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।

গাজীপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানার ২৬৭ জন মালিক আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও সরকার জোরালো ভূমিকা নেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমান পরিস্থিতির খেসারত দিতে হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এদিকে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ প্রভাবশালী নেতারা বিদেশে বসে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন। ডিসেম্বর ঘিরে সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টির এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পোশাকশ্রমিক ও হকারদের মাঠে নামানোর ছক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তিনদিন ধরে চলা পোশাকশিল্পের অস্থিরতা এবং প্রায় ৬৯০টি কারখানা বন্ধের ঘটনা দেশের শিল্প খাতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এসব ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, অর্থের জোগান ও নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে তাদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
শ্রমিক আন্দোলনকে সহিংসতার পথে নিয়ে যাচ্ছে কারা?
পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব, সহিংসতা ও উসকানির পেছনে পতিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
শ্রমিক আন্দোলনকে সহিংসতার পথে নিয়ে যাচ্ছে কারা?
‘একটি রাজনৈতিক দল আন্দোলনে ঢুকে অরাজকতার চেষ্টা করছে’
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। 
‘একটি রাজনৈতিক দল আন্দোলনে ঢুকে অরাজকতার চেষ্টা করছে’
ডিসেম্বরকে টার্গেট করে শ্রমিক আন্দোলন, নেপথ্যে আওয়ামী লীগ: গোয়েন্দা প্রতিবেদন
তৈরি পোশাক খাতে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন ও নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কাজে লাগিয়ে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, কারখানা ভাঙচুর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিসেম্বরকে টার্গেট করে শ্রমিক আন্দোলন, নেপথ্যে আওয়ামী লীগ: গোয়েন্দা প্রতিবেদন
‘কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে অবশ্যই সাশ্রয়ী পন্থায় বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব।  তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ সোলার এক্সপোর আয়োজন করে। বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর এবারের মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। ফলে চলমান জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা করা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো,  জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা  এবং দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এসব বিষয়গুলো নিয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এরই অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আপনারাই এ উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যেন শুধু অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন সরকার সেটি নিশ্চিত করতে চায়। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু একটি সম্ভাবনাময় খাতই নয় বরং এক অনিবার্য বাস্তবতা। দেশের জ্ঞানের প্রতিযোগিতা চলমান রাখার প্রত্যাশা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ কয়েকটি বিষয়ে কয়েকজন তাদের ইনোভেটিভ আইডিয়া উপস্থাপন করে পুরস্কৃত হলেন। আগামীর বাংলাদেশে এভাবে জ্ঞানের প্রতিযোগিতা চলুক। চলুক নিত্য নতুন উদ্ভাবনী আইডিয়ার প্রতিযোগিতা। একটি ইনোভেটিভ আইডিয়া বাংলাদেশের জন্য হতে পারে গেইম চেঞ্জিং। তিনি বলেন, ‘অর্থের অভাবে যাতে তারুণ্যের কোনো উদ্ভাবনী আইডিয়া হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে বর্তমান চলতি বাজেটে ‘স্টার্ট আপ’ এর জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’ তারেক রহমান বলেন, আপনারা জানেন, দেশটাকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার কারণে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশেকে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের প্রায় সমপরিমাণ চাহিদা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ডিজেলের মজুদ বাড়িয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুদ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতোমধ্যেই ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা কিংবা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে  আগামী দিনগুলোতে কীভাবে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যায়, বাসা-বাড়ি এবং ব্যবসা বাণিজ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, বর্তমান সরকারের কাছে সেটিই প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে সরকার ইতোমধ্যেই ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতি সহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নিয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই সরকার জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎযুক্ত করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে। তিনি বলেন, নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম থেকে নিজস্ব ব্যবহারের পর যারা বাড়তি সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে সক্ষম হবেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রণোদনাসহ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে ক্রয় করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। আমি নিজেও আমার বাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন করেছি। ইতোমধ্যেই আমার বাসায় ব্যবহারের পর বিদ্যুতের কিছু অতিরিক্ত ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতেও সক্ষম হয়েছি।  তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ যন্ত্রপাতির দাম কমানো হচ্ছে। জনগণের ব্যবহারের জন্য বিদ্যুতের খরচ কমানোও সরকারের অগ্রাধিকার। সৌরবিদ্যুৎ খাতে সম্পৃক্ত সার্ভিস প্রোভাইডারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পর সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না এবং গ্রাহক প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, অনুগ্রহপূর্বক সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান থাকবে, দয়া করে আপনারা উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রতি আন্তরিক থাকুন । কৃষিতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। সরকার পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পকে সৌরচালিত সেচ পাম্পে রূপান্তর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সংরক্ষিত হবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎও সাশ্রয় হবে। তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের দায়,  অপরদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার জনগণের দায়িত্ব। তাই সবার প্রতি অনুরোধ, দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস উপভোগের পাশাপাশি বাসা অফিসে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাল্ব, ফ্যান অথবা নানারকমের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বন্ধ রাখুন। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে দেশটির উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, শুধু বড় প্রকল্পে নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দ্বারা সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগেও অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আপনাদের সহায়তার সুযোগ রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও বিনিয়োগের সহজ সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। আসুন, আমরা সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করি। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে বিজয়ীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এর আগে সোলার সিস্টেম নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এ সময়ে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/আইএম
‘কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব’
আরও পড়ুন
ডিসেম্বরকে টার্গেট করে শ্রমিক আন্দোলন, নেপথ্যে আওয়ামী লীগ: গোয়েন্দা প্রতিবেদন
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণার দাবি শ্রমিক নেতাদের, ফিরতে পারে স্বস্তি 
বেতনভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মিরপুরে আজও পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ
শ্রমিক বিক্ষোভে ৬৮১ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত