ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে।

তিনি বলেন, আমরা সব শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সেটিকে এই যড়যন্ত্রকারীরা ভেস্তে দিতে চাইছে।

তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আজ জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই দেশের শ্রমিক ভাইদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে, যাতে কোনভাবেই সেই ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ না পায়। কারণ আজ সময় এসেছে দেশ গঠন করার, আজ সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার।

ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সরকার প্রধান বলেন, আমরা সব শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সঠিক জবাব দেব। আমরা সব শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, শ্রমিক ভাই-বোনদেরকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ জবাব দেব। আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই সেটা হলো- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, যারা বিগত ১৫/১৬ বছরে দেশের অবস্থার, মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা এদেশ থেকে মানুষের অর্থ সম্পদ বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল, আমরা দেখেছি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে জনতার অভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে। দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয় তারা দেশের মিল কারখানা ভেঙে দিতে চাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মিল কারখানাগুলো হচ্ছে দেশের মানুষের সম্পদ। এই মিল কারখানাগুলো হচ্ছে এই দেশের শ্রমিকদের সম্পদ। এগুলো যদি ধ্বংস হয়ে যায় প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষ। এই মিল কারখানা যদি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমার শ্রমিক ভাই ও বোনেরা। এই মিল কারখানাগুলো যদি ধ্বংস হয়ে যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনের সন্তানেরা। তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।

মজুরি বোর্ড প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমরা জানি শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া আছে। আপনারা দেখেছেন এরই মধ্যে আমরা সেই দাবিগুলো বিবেচনা করার জন্য, পরিচালনা করার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছি।

তিনি আরও বলেন, মজুরি বোর্ড এরই মধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে। ইনশাল্লাহ আগামী দুই এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা এর চেয়েও ভালো থাকতে পারেন।

সরকার প্রধান বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার রাত-দিন পরিশ্রম করছে। কীভাবে দেশের সমস্যার সমাধান করা যায়, কীভাবে দেশের শিল্পের প্রসার ঘটানো যায়, কীভাবে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদার করা যায় যাতে করে দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একইসঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছিল। আমরা চেষ্টা করব সারাদেশে বিভিন্ন সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল কলকারখানাগুলো চালু করতে।

তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধ করা হবে। কারণ, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।

এর আগে, সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তিনি খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পোশাক খাতে অস্থিরতা: শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ এনবিআরের, নজরদারিতে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চলমান অস্থিরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
পোশাক খাতে অস্থিরতা: শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ এনবিআরের, নজরদারিতে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
আজকের শিশু-কিশোররাই দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশু-কিশোররাই দেশের ভবিষ্যৎ। তারাই আগামী দিনে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এবং দেশ গড়ে তুলতে পারবে। এজন্য শুধু লেখাপড়া করলেই হবে না, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিল্পকলার সঙ্গেও সম্পৃক্ত থাকতে হবে।
আজকের শিশু-কিশোররাই দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী
ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা
ভারতীয় ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। এখন থেকে সব ধরনের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরম্যাটে ‌‌‘Visa Undertaking Form’ বা ভিসা অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হাইকমিশনের ভিসা সংক্রান্ত পোর্টালে এক জরুরি অ্যাডভাইজরিতে এ তথ্য জানানো হয়। অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছে, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ভিসা আবেদনকারীর জন্য নির্ধারিত ফরম্যাটে ভিসা আন্ডারটেকিং ফর্ম জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের যা করতে হবে: হাইকমিশনের দেওয়া লিংক থেকে নির্ধারিত ফরম্যাটে ‘Visa Undertaking Form’ ডাউনলোড করতে হবে। ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। NIC Visa Application Portal-এ অনলাইন ভিসা আবেদনের সঙ্গে ওই পূরণকৃত ফর্মটি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আবেদনকারীদের শুধুমাত্র নির্ধারিত ফরম্যাটের ফর্মটিই ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনও ফরম্যাটে ফর্ম জমা দিলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভারতীয় ভিসা প্রত্যাশীদের নির্ধারিত লিংক থেকে ফর্ম ডাউনলোড করে দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফর্মে যেসব তথ্য লাগবে প্রকাশিত এক পাতার ‘Visa Undertaking Form’ অনুযায়ী আবেদনকারীকে প্রথমে নিজের নাম লিখে অঙ্গীকার করতে হবে যে, তিনি যে উদ্দেশ্যে ভিসার আবেদন করেছেন শুধুমাত্র সেই উদ্দেশ্যেই ভারত সফর করবেন। একইসঙ্গে ঘোষণা দিতে হবে, আবেদনের তারিখে তিনি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের অধিক্ষেত্রে বসবাস করছেন এবং তার দেওয়া সব তথ্য সঠিক।  এরপর ১ নম্বর অংশে Personal Details- এর ঘরে ৫টি তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে পূরণ করতে হবে। এগুলো হলো— পাসপোর্ট অনুযায়ী নাম, পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা, জন্ম তারিখ এবং ঢাকার বর্তমান ঠিকানা। ২ নম্বর অংশে ভারত যাওয়ার উদ্দেশ্য (Purpose of Visit) স্পষ্ট করে লিখতে হবে, যেমন- ট্যুরিজম, বিজনেস, মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট, কনফারেন্স ইত্যাদি। ৩ থেকে ৫ নম্বর অংশে মূলত ৩টি অঙ্গীকারনামা রয়েছে। আবেদনকারীকে অঙ্গীকার করতে হবে যে, সফর শেষ হওয়া মাত্রই তিনি নিজ দেশে ফিরে আসবেন এবং কোনও অবস্থাতেই ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে ভারতে অবস্থান করবেন না।  ভারতে অবস্থানকালে ভারতের সব আইন, বিধি-বিধান ও সংস্কৃতি মেনে চলবেন এবং আইনবিরোধী কোনও কাজে জড়াবেন না। কোনও আইন লঙ্ঘন করলে ভিসা বাতিল এবং ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও ফর্মে উল্লেখ রয়েছে। সবশেষে আবেদনকারীকে স্বাক্ষর এবং স্থান ও তারিখ দিয়ে ফর্মটি সম্পন্ন করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বাবা-মা উভয়কেই স্বাক্ষর করতে হবে বলে ফর্মে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা
গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই আন্দোলন: এমপি দিপু
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেছেন, তিন বছর পর পর মজুরি বোর্ড হয়। এবারও সময়মতো মজুরি বোর্ড হয়েছে। মজুরি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেয় আমাদের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা সেটা মেনে নেয়। তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা না। আসলে এটা গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য এই সমস্যা সৃষ্টি করা হয়েছে। 
গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই আন্দোলন: এমপি দিপু
‘গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ৫২টি নতুন কূপ খনন করবে সরকার’
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বিগত ২০ বছরে নতুন কূপ খনন না করার কারণে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে সরকার ৫২টি নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভোলা, নোয়াখালী ও তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র থেকে নতুন গ্যাস প্রাপ্তির সুখবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারের করণীয় নিয়ে কথা বলেন। দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিকে প্রযুক্তির্ভর ও টেকসই ব্যবহারে রূপান্তরের প্রত্যয়ে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ০৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই মেলায় স্মার্ট কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রিসিশন এগ্রিকালচারকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষকদের মেধার মূল্যায়ন ও গবেষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং সমাজের সম্মান বাড়ানোর ব্যাপারে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এবারের মেলায় ১২টি দেশের প্রায় ২৫০টি কৃষি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ৫৩টি স্টলে বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের কৃষিতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং আরডিএ-র মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে ৪০% পানি সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সারের সঠিক ব্যবহার, অতিরিক্ত সার প্রয়োগ রোধ এবং জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলে উদ্বৃত্ত আলু থেকে স্টার্চ পাউডার তৈরির কারখানা স্থাপনের ওপর জোর দেন।  তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো সুবিধাযুক্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করে উত্তরাঞ্চলের আলু ও সবজি বিদেশে রপ্তানিতে সরকারের  পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান । এ সময় প্রতিমন্ত্রী দেশের কৃষি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ প্রমানিক বলেন,  কৃষির বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিকাশ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্প্রসারণের সময় এসেছে। তিনি কৃষি গবেষণা, শিক্ষা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সভাপতির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, গবেষণালব্ধ জ্ঞানের মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ার্স এন্ড এক্সিবিশনস-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় ১২টি দেশের প্রায় ২৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণের মাধ্যমে মোট ৫৩টি স্টলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং কৃষিজাতীয় বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে। আরটিভি/টিআর
‘গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ৫২টি নতুন কূপ খনন করবে সরকার’
আরও পড়ুন
১০০ টাকা জন্য যে ‘মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটালেন’ কলেজছাত্রী পিংকি
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী
কাটাখালিতে পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান