
৭১ সালের ২৫ শে মার্চের পর থেকেই সারাদেশে গণহত্যার পাশাপাশি সুপরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী নিধন চালাতে থাকে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী ও তাদের দোসররা। তবে পরাজয় টের পেয়ে ডিসেম্বরের শেষ ভাগে হত্যাকাণ্ড ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। এসব হত্যাকাণ্ডে পাকবাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করে জামায়াতে ইসলামী ও তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ।
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জাতিকে মেধাশূন্য করতে, নয় মাস ধরেই বুদ্ধিজীবীদের ধরে ধরে হত্যা করতে থাকে পাক হানাদারবাহিনী। এই হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানীদের সহায়তা করে তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে গড়া রাজাকার, আল বদর ও আল সামস নামে বিশেষ কিলিং স্কোয়ার্ড। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর রাষ্ট্রীয় তদন্তে এসব উঠে আসলেও বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার আটকে আছে কেবল আইনের সীমাবদ্ধতায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, ২৫ শে মার্চের পর থেকেই সারা দেশে বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদেরকে জেলা থেকে থানা পর্যায় পর্যন্ত ধরে ধরে হত্যা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে জামায়াতের সাবেক দুই আমির, সেক্রেটারি জেনারেল এবং চৌধুরী মঈনউদ্দিন ও আশরাফুজ্জামানের মামলার বিচারের রায়ে আদালত দল হিসেবেও জামায়াত ইসলামীকে দায়ী করে। তবে দেশের প্রচলিত আইনে দলের বিচারে সীমাবদ্ধতা আছে বলে জানালেন এই প্রসিকিউটর।
প্রসিকিউটর আরও বলেন, আইনের এই সীমাবদ্ধতার কারণে অপরাধী সংগঠন হিসেবে তখন শাস্তি প্রধান করা হয় নাই। ঐ সংগঠনটাকে তার শাস্তি দেয়ার জন্য সে নিষিদ্ধ হইতে পারে তার স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত বিষয় সম্পত্তি কনফিক্সিশন হতে পারে। ট্রাইব্যুনালের মন্তব্য কিন্তু এখন পর্যন্ত আপিল ভিবাগে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতও ট্রাইব্যুনালের এই মতামতের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
আর আইনমন্ত্রী জানালেন আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করেছে। ফের ক্ষমতায় গেলে বুদ্ধিজীবী হত্যারও বিচার করবে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সব সময় এ বিষয়ে কথা হচ্ছে এই বিচার হবে থ্রু ডিও প্রসেস। এই আইন এর মাধ্যমে অনেক বিচারই সম্পন্ন করেছি। আর আগামীতে যদি জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী বানায়, আমি আপনাকে কথা দিতে পারি যে আইনি প্রক্রিয়া এটা চলমান থাকবে। সেটা ব্যক্তি হোক বা দল হোক সবার ব্যাপারে সত্য।
মন্ত্রী আরও বললেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে বর্তমান সরকার তাদের বিগত নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া কথা রেখেছে। নতুন করে নির্বাচিত হলে, বাকী কাজগুলো শেষ করা হবে।
জেএম/




