
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতার প্রার্থিতা বাতিলের হাইকোর্টের রুলের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নামে একটি সংগঠন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আসে।
রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে মিছিল ও শ্লোগান দিয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে অবস্থান নেন তারা।
এসময় ‘যুদ্ধাপরাধী দলের প্রার্থিতা বাতিল চাই, ‘বাংলাদেশে রাজাকারের ঠাঁই নাই ঠাঁই’, ‘মহামান্য হাইকোর্টের রিটের প্রেক্ষিতে জামায়াতের ২৫ প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করে প্রার্থিতা বাতিল চাই, করতে হবে’ বলে শ্লোগান দিতে থাকে। পরে নির্বাচন কমিশন ভবন এলাকায় মিছিল মিটিং নিষিদ্ধ বলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কমিটির প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন কবির, বলেন, ১৯৭১ এ বিরূপ ভূমিকার জন্য অপরাধী দল আখ্যায়িত করে দেশের কোনও শীর্ষপদে স্বাধীনতা বিরোধীদের থাকা উচিত নয় বলে মত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অথচ একটি রাজনৈতিক জোটের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।
তরিকত ফেডারেশনের সম্পাদক মণ্ডলির সদস্য আলী হোসেন বলেন, জামায়াত একটি যুদ্ধাপরাধী দল। এদেশে তাদের রাজনীতি করার কোনও অধিকারই থাকতে পারে না। তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। দলীয়ভাবে তাই তাদের নির্বাচন করার কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু তারা অন্য দলের উপর ভর করে নির্বাচনে দাঁড়ালেও তারা তো জামায়াত থেকে বেড়িয়ে যায়নি।
এর আগে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও গৌরব ৭১ নামের সংগঠন জামায়াত নেতাদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, নিবন্ধন হারানো জামায়াত ইসলামীর ২৫ প্রার্থীর বিষয়ে আজ (রোববার) নির্বাচন কমিশন বৈঠকে বসছে। জামায়াতের ২৫ প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং বাকি ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তবে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন কেন তাদের প্রার্থিতা বৈধতা দিয়েছে ইসি।
জামায়াতের যে নেতারা নির্বাচন করছেন- ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ আসনে মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ আসনে মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, রংপুর-৫ আসনে অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান সরকার, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ আসনে মাওলানা ইকবাল হুসাইন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, বাগেরহাট-৩ আসনে অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনে অধ্যাপক আবদুল আলীম, খুলনা-৫ আসনে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ আসনে মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনে মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে আলহাজ্ব শামীম সাঈদী, ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান, সিলেট-৫ আসনে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ আসনে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম ১৫ আসনে আ ন ম শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ।
জানা যায়, জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ২০০৯ সালে রিট হয়। ওই রিটের ওপর জারিকৃত রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৩ সালে হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করে। হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি (১)(বি)(২) এবং ৯০সি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও সংবিধানপরিপন্থী। এই রায় এখনো বহাল আছে।
বিএনপি বলছে, জামায়াতের কোনও প্রার্থী নাই, সবই ধানের শীষের প্রার্থী। দলটির বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনও প্রার্থী নেই। তারা শুধু ধানের শীষের প্রতীক নয়, তারা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করছেন তারা। বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ তাদের দেয়া হয়েছে। জামায়াত তাদের মনোনীত করেনি। বিএনপি মনোনীত করেছে। তাই সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর কোনও প্রার্থী নেই।
আরসি/এসএস




