
বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশনগুলো নানা সংকটে রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই অপ্রত্যাশিতভাবে অনেকে কর্মহীন হয়ে যাচ্ছেন। কোনও কোনও টেলিভিশন চ্যানেল আর্থিক ক্ষতির দোহাই দিয়ে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে শুধু একটি নোটিশ দিয়ে বার্তাকক্ষ গুটিয়ে ফেলছে। কোনও আগাম ঘোষণা ছাড়াই সাংবাদিক ও কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। আবার ছদ্মবেকারও আছে অনেক। কারণ চাকরি আছে, বেতন নেই। কোনও কোনও চ্যানেল কর্তৃপক্ষ মাসের পর মাস সাংবাদিক ও কর্মীদের বেতন দেন না। কোনও কোনও চ্যানেল আবার বেতন কমিয়ে দিচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব সংকটের কথা উঠে আসে।
এসময় বক্তারা বলেন, চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু বিজ্ঞাপনের দরপতন হচ্ছে। বড় বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপন চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। ফলে দেশীয় চ্যানেলগুলো আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ছে।
‘সংকটে বেসরকারি টেলিভিশন’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র। গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিটিভির প্রধান সম্পাদক ও সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্রের ট্রাস্টি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।
কেন্দ্রের সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজার সভাপতিত্বে এসময় আলোচনায় আরও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর ও সমকালের নির্বাহী পরিচালক রাহুল রাহা, চ্যানেল নাইনের সিইও নুরুল ইসলাম খসরু, বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আফসার খায়ের, স্কাই এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রধান নুরুল আলম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সম্পাদক আকতার হোসেনসহ বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক ও কলাকুশলীরা।
সেমিনারে টেলিভিশন খাতের এই সমস্যা মোকাবেলায় কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বেসরকারি টিভি চ্যানেলের বিকাশ ঘটার পাশাপাশি কিছু সমস্যাও তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতার কারণে বিজ্ঞাপনের দর কমে গেছে। এখন বেসরকারি টিভিতে যে সংকট, তা দূর করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, সংকট উত্তরণে ক্যাবল অপারেটররাই বড় ভুমিকা পালন করতে পারে। তাদের লাইসেন্সের শর্তে বলা আছে- ডাউনলিংক করে সম্প্রচার করা বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে না। কিন্তু তারা সেটা মানছে না। সরকার আরও দু'মাস আগে নোটিশ দিয়ে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছে।
তিনি এবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার এবার আইন মানাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো হলে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ডাউন লিংক করে সম্প্রচারিত বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধু এ–সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে মানা হলে বছরে দেশে ৫০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন বাড়বে।
এস




