জমিজমা বিক্রি বা ধার-দেনা করে একটু বেশি রোজগারের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন দেশের অনেক মানুষ। তবে নিরাপদ অভিবাসনের উপায় না জানা থাকায়, অনেকে শিকার হচ্ছেন প্রতারণার। বাধ্য হচ্ছেন ফিরে আসতে। ফেরত আসাদের কোনো পরিসংখ্যান ও সরকারিভাবে সহায়তা করার ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন তারা।
‘জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’-বিএমইটি’র তথ্য বলছে, গেল পাঁচ বছরে কেবল শরীয়তপুর থেকেই সরকারিভাবে এক লাখ ৯৫ জন বিদেশে গেছেন। প্রায় একই সংখ্যক গেছেন দালালের মাধ্যমে। যাদের অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়ে, ভিটেমাটি হারিয়েছেন। হারিয়েছেন জীবনও।
গেল ফেব্রুয়ারিতে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে প্রাণ হারান ৪৫ জন। এদের মধ্যে শরীয়তপুরের নিখোঁজ জুম্মনের মা আজো ছেলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করবেন এমন আশায় কাতার গিয়েছিলেন গাজীপুরের মোশাররফ। কাজ না পেয়ে আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরে আসেন। বন্ধক রাখা ভিটেমাটিতে এখন যেমন ঠাঁই হচ্ছে না তেমনি ঋণদাতাদের চাপে অবস্থাও নাজুক।
‘রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ’র গবেষণা বলছে, প্রবাসী কর্মীদের ৫১ শতাংশই প্রতারণা বা খারাপ অভিজ্ঞতার শিকার। আর বিদেশে যাওয়ার জন্য দালালদের টাকা দিয়ে, প্রতি পাঁচজনে একজন সফল হন।
এদিকে, গেল ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর মোট ২৫০ কর্মী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। ব্র্যাকের হিসাব বলছে, এ নিয়ে এ বছর সৌদি আরব থেকে কমপক্ষে ১২ হাজার কর্মী দেশে ফিরলেন।
অজ্ঞতা ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিপত্র ঠিক না থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের এমন অসহায়ত্বে পাশে থাকারও পরামর্শ দেন তারা। ফেরত আসা ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকারও সমালোচনা করেন।
পি




