
ঢাকার ১০ শতাংশ ধনী মানুষের আয় পুরো শহরের অর্ধেক মানুষের মোট আয়ের সমান। ধনী-গরিবের মাঝে আয়ের এ বৈষম্য নগরে প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে ঢাকার ১২ হাজার ৪৬৮ জন মানুষের ওপর চালানো এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলন-২০২০-এর সমাপনী অধিবেশনে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
বিষয়টি তুলে ধরেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান গবেষক জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে ঢাকার ১২ হাজার ৪৬৮ জন মানুষের ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকার ১০ শতাংশ ধনীর আয় ঢাকাবাসীর মোট আয়ের ৪৪ শতাংশ। এছাড়া একেবারে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয় ঢাকাবাসীর মোট আয়ের ১ শতাংশেরও কম। ফলে এখানকার সাড়ে ৩ শতাংশ মানুষ তিন বেলা খেতেও পাচ্ছে না।
গবেষণা রিপোর্টে আরও বলা হয়, আয়ের বিশাল এ বৈষম্যের কারণে ঢাকার ৭১ শতাংশ মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছেন, ৬৮ শতাংশ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া বায়ুদুষণের কারণেও ঢাকায় অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
বিআইডিএস’র গবেষণায় দেখা যায়, গত ১০ বছরে বরিশাল বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকায় এসেছে, যা প্রায় ২১ শতাংশ। তবে গত পাঁচ বছরে ঢাকায় আসা মানুষদের বেশির ভাগ এসেছে কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও ভোলা থেকে।
এতে আরও বলা হয়, ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা হচ্ছে যানজট। এর পরেই রয়েছে যথাক্রমে বায়ুদূষণ, বিশুদ্ধ পানিপ্রাপ্তি, রাস্তার খারাপ অবস্থা, বিদ্যুতের লোডশেডিং, ধারাবাহিক গ্যাস সরবরাহের নিরাপত্তা এবং ইভটিজিং।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, ঢাকায় বছরে যেসব মানুষ মারা যায় তার মধ্যে বায়ুদূষণ জনিত অসংক্রামক রোগে মারা যাচ্ছে ১০.৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে শ্বাসকষ্টে মারা যায় ৮ শতাংশ, কিডনি রোগে ২.৩ শতাংশ এবং ফুসফুসের রোগে মারা যাচ্ছে ০.৫ শতাংশ মানুষ।
বিআইডিএসের এই বার্ষিক গবেষণা সম্মেলনে সমাপণী দিনে বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৬টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
এমকে




