
রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ এই কাজে জড়িতদের বহিষ্কার এবং তালিকা দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ড. সফিউদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দীর্ঘ ৪৮ বছর পর স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের তালিকা প্রকাশ নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছে ভুলে ভরা এই তালিকা। বিজয় দিবসের প্রাক্কালে কয়েকজন খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় প্রকাশ করে তারা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছেন। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চিফ প্রসিকিউটর ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃস্থানীয় সংগঠক গোলাম আরিফ টিপুর নাম রাজাকারের তালিকায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় চরম অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও অবহেলার নজির স্থাপন করেছে। বরিশালে গরিবের ডাক্তারখ্যাত বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীর পিতা মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তী ও তার মা শহীদ জায়া উষা রাণী চক্রবর্তীর নামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আরও কয়েকজন স্বনামধন্য মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে, যা গোটা জাতিকে হতবাক করে দিয়েছে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, যাচাই-বাছাই না করে এমন তালিকা প্রকাশ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক চরম বিকৃতি, যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। ভুলে ভরা এই তালিকা রাজাকারদের নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ করে দিয়েছে কিনা এবং গোঁজামিল সৃষ্টি করে পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বাতিল করার পরিকল্পনা থেকে এটা করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এই প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী যে কৈফিয়ত দিয়েছেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর মধ্য দিয়ে সরকারের অদক্ষতাও প্রকাশিত হয়েছে। আমরা অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, সচিবসহ এই তালিকা প্রস্তুতের সঙ্গে জড়িতদের বহিষ্কার দাবি করছি এবং রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের নির্ভুল তালিকা প্রকাশ অব্যাহত রাখার দাবি জানাচ্ছি।
পি




