
বাঙালি চেতনার অন্যতম বাতিঘর ভাষা সংগ্রামী ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানের রচয়িতা সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করেছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সংগঠন গৌরব ’৭১।
শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় নিজ বাসায় সম্মাননা স্মারক তুলে দেন গৌরব '৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিক, কলাম লেখক ও গবেষক মোনায়েম সরকার, গৌরব ’৭১ এর উপদেষ্টা আল আমিন বাবু, বাণী ইয়াসমিন হাসি প্রমুখ। এসময় তারা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
গাফফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ার চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হাজি ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা মোসাম্মৎ জহুরা খাতুন। তিন ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে বড় ভাই হোসেন রেজা চৌধুরী ও ছোট ভাই আলী রেজা চৌধুরী। বোনেরা হলেন মানিক বিবি, লাইলী খাতুন, সালেহা খাতুন, ফজিলা বেগম ও মাসুমা বেগম। তিনি বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সপরিবারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আগরতলা হয়ে কলকাতা পৌঁছান। সেখানে মুজিবনগর সরকারের মুখপাত্র সাপ্তাহিক ‘জয়বাংলা’য় লেখালেখি করেন। এসময় তিনি কলকাতায় ‘দৈনিক আনন্দবাজার’ও ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ‘দৈনিক জনপদ’বের করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলজিয়ার্সে ৭২ জাতি জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে যান। দেশে ফেরার পর তার স্ত্রী গুরুতর রোগে আক্রান্ত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কলকাতা নিয়ে যান। সেখানে সুস্থ না হওয়ায় তাকে নিয়ে ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। এরপর তার প্রবাস জীবনের ইতিহাস শুরু হয়।
তিনি বাংলা একাডেমি, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক (২০০৯), ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন।
সম্মাননা স্মারক প্রদানকালে গৌরব ’৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন বলেন, ভাষা সংগ্রামী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম অকুতোভয় যোদ্ধাকে গৌরব ’৭১ পরিবার সম্মাননা স্মারক তুলে দিতে পেরে আমরা গর্বিত। বাঙালি ও বাংলাদেশের জন্য আজীবন লড়াকু এই বীর যোদ্ধার অবদান সমগ্র বাঙালির হৃদয়ে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পি




