ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

করোনাকালে বেড়েছে বিনোদনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

ফারুক আলম, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ০৫:২৮ পিএম
করোনাকালে বেড়েছে বিনোদনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

করোনা মহামারিতে রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক, উদ্যান ও চিড়িয়াখানাসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এসব স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক স্থানে ফুল, ফল ও বনজ গাছে নতুন ফুল ও পাতা গজিয়েছে। কয়েকদিন আগে রমনা পার্ক দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার পর পার্কের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন নগরবাসী। রমনা পার্কের পর এবার পহেলা নভেম্বর জাতীয় চিড়িয়াখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত সাত মাস করোনাভাইরাস মহামারিতে রাজধানীর পার্ক, উদ্যান ও চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকার পর কয়েকদিন আগে কিছু পার্ক ও উদ্যান খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সাত মাস পার্ক ও উদ্যান বন্ধ থাকায় নীরব ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশের কারণে সকাল-সন্ধ্যায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আড্ডা ও কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানীর পার্ক ও উদ্যানগুলো।

সরেজমিনে রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন ও জাতীয় চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা গেছে, করোনার কারণে পার্ক ও উদ্যানে দর্শনাথী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এর সৌন্দর্য বেড়েছে। চিড়িয়াখানায় সবুজ ঘাসের পাশাপাশি প্রাণীগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে খাঁচার ভেতর চলাচল করছে। চিড়িয়াখানায় মানুষের কোলাহল না থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বেঁধেছে। নিরাপত্তারক্ষীরা পার্ক ও উদ্যানের ভেতরে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা সাত মাস বন্ধ থাকায় নতুন করে বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। যেখানে রয়েছে কনকচূড়া, মালতী, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, গাঁদাচূড়া, কাঞ্চন, হাইকা, পলাশ, চেরি, কাঠকয়লাসহ ইত্যাদি ফুল। ফুলের গাছ ছাড়াও বিভিন্ন রকমের ছোট-বড় গাছ লাগানো হয়েছে। একদিকে দর্শনার্থী না থাকা অন্যদিকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোয় পার্ক ও উদ্যানের সৌন্দর্য বেড়েছে কয়েকগুণ। পার্ক ও উদ্যানের এই মোহনীয় সৌন্দর্য দেখে যে কারও মনে হবে, প্রাণ ভরে যেন নিশ্বাস নিতে পারছে গাছগুলো। অথচ করোনার আগের মুহূর্তে দিনের বেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে শত পরিচর্যা করেও পার্ক ও উদ্যানের সৌন্দর্য বাড়ানো সম্ভব হয়নি। করোনার সাত মাসে ঢাকার পার্ক ও উদ্যানে বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ লাগিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংসদ ভবনের পাশে চন্দ্রিমা উদ্যানে এখন বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। একই অবস্থা সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায়। অন্য সময়ে সেখানে শত শত মানুষকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেলেও এখন মানুষের সমাগম কম।

মিরপুর চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করলেও করোনার সুরক্ষা সামগ্রী ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। চিড়িয়াখানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে অমোচনীয় রঙ দিয়ে বৃত্তাকার স্থান চিহ্নিত করা হবে। প্রবেশপথে জীবাণুনাশক টানেল ও ফুটবাথ স্থাপন করা, প্রবেশপথে থার্মাল স্ক্যানারের সাহায্যে দর্শনার্থীর দৈহিক তাপমাত্রা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা এবং চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া, দর্শনার্থীর সংখ্যা দৈনিক সর্বোচ্চ ২ হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ প্রাণির চারপাশে জীবাণুনাশক স্প্রে করা, পরিদর্শন সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত নির্ধারিত রাখা, ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তিদের চিড়িয়াখানায় প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার শর্ত দেয়া হয়েছে।

রমনা উষা ব্যায়াম সংগঠনের সদস্য লিয়াকত আলী মণ্ডল আরটিভি নিউজকে বলেন, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রয়েছে প্রচুর ঘাস, লতা-গুল্ম, ছোট ও মাঝারি আকারের মৌসুমী ফুলে সমৃদ্ধ গাছ। বেশ কিছু দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষও রয়েছে রমনা পার্কে। প্রচুর গাছগাছালির কারণে রমনা পার্কে পাখির আনাগোনাও থাকে বছরজুড়ে চোখে পড়ার মতো। চারদিকে সবুজের সমারোহ মুহূর্তের মধ্যে আপনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে হারিয়ে যাবেন। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বলধা গার্ডেন দর্শনার্থীদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

রমনা পার্কের নিরাপত্তাকর্মী তরিকুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, ফুল, ফল আর বনজ গাছে দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে পার্ক। সবুজ ঘাসের বুকে উঁকি দিচ্ছে সাদা ঘাসফুল; যা সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গাছ-পালা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে পরিবেশ কতটা পরিবর্তন করে দিতে পারে তা করোনার ৭ মাসে এই ফুল ও ফলের গাছ দেখেই বোঝা যায়।
রমনা পার্কের আরেক নিরাপত্তাকর্মী রবিউল আরটিভি নিউজকে বলেন, রাজধানীর ফুসফুস খ্যাত রমনা পার্কের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে মানুষ বারবার এখানে ঘুরতে আসেন। রমনা পার্কের মতো সুবজ-শ্যামল সৌন্দর্যবর্ধক রাজধানীর কোথাও নেই। কিছুদিন বৃষ্টি হওয়ায় তিন-চার মিটার উঁচু গাছ, পত্রঘন, সাদা সুগন্ধি ফুলের থোকায় গাছ ভরে গেছে। বাগানবিলাসের অনেকগুলো ঝড় আছে পার্কে, সবই লাল ও বেগুনি রঙের।

বৃক্ষময় রমনাপার্কের সৌন্দর্য বাড়াতে করোনার মধ্যেও কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগ। পার্কের সড়ক প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ লাগানো হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে গণপূর্ত বিভাগ লেকসহ গোটা পার্কের সৌন্দর্যায়নের ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। রমনার নয়নাভিরাম শোভা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দর্শনার্থী।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারির আগমুহূর্তে ঢাকার বিভিন্ন পার্ক ও উদ্যানে দুর্লভ গাছ ও তরুলতা নষ্ট হয়েছে। জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। করোনায় আট মাস পার্ক ও উদ্যান বন্ধ থাকায় প্রকৃতিক সৌন্দর্য আবার ফুটে উঠেছে। নতুনরূপে সেজেছে রমনাপার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা।
এফএ/পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ছয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ
শ্রীমঙ্গল, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর এবং চুয়াডাঙ্গাসহ ছয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং এজন্য মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টা আকাশ পরিষ্কার/অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। আরও বলা হয়েছে, শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে সারাদেশের আবহাওয়া। দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোনো অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়াও দেশজুড়ে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সাত দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। জিএ 
ছয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ
হাতিয়ায় জলবায়ু প্রকল্প: নামেই থ্রি-এফ মডেল পুকুর, বাস্তবে নেই
বনবিভাগের জায়গায় সবুজ বেস্টনির পরিবর্তে তৈরি করা হয়েছে থ্রি-এফ মডেল পুকুর। যেখানে থাকার কথা পাড়ে বিভিন্ন ফল ফলাদির গাছ, পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষের অপরূপ দৃশ্য। কিন্তু বাস্তবে এই দৃশ্যের চিহ্ন কোথাও নেই। বনের পাশে বসবাস করা মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বনের উপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বুড়িরচর ও জাহাজমারা ইউনিয়নে বনবিভাগের জায়গায় একশত পুকুর খনন করা হলেও এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উদাসীনতা ও অনিয়মের কারণে প্রকল্পটি এখন উপকারভোগীদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইউএনডিপির আর্থিক সহযোগিতায় উপকূলীয় বনায়ন ও পুনঃবনায়নে কমিউনিটি ভিত্তিক অভিযোজন (আইসিবিএ-এআর) নামক প্রকল্পটি ২০১৮ সাল থেকে বাস্তবায়ন করে আসছে। প্রতি হেক্টর ভূমিতে ৫টি পুকুর খনন করা হযেছে। এর মাধ্যমে নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলায় একশত ও ভোলা জেলার তজমুদ্দিন উপজেলায় ৪০টি পুকুর খনন করা হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছিল, জীবিকার বৈচিত্র্যায়নের মাধ্যমে জলবায়ুজনিত বিপদাপন্ন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় বনের ওপর নির্ভরতা কমানো হবে। প্রকল্পের আওতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে পুকুর তৈরি করে সেখানে মাছচাষ ও পুকুরপাড়ে শাক-সবজি চাষ করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে। যা জলবায়ুজনিত বিপদাপন্ন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসন করবে। এই প্রকল্পের একটি বিশেষ মডেল হলো ‘বনজ, ফলদ, মৎস্য (থ্রি-এফ) মডেল’। প্রতিটি মডেল বা পুকুরের দৈর্ঘ্যে ২৫২ ফুট এবং প্রস্থে ৪৯ ফুট। পুকুর হবে ৮ ফুট গভীর ও পাড়ের উচ্চতা হবে ৮ ফুট। প্রতিটি পুকুর খননের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৮৯ হাজার টাকা করে। মডেলটি ম্যানগ্রোভ বনের মাঝখানে পরিত্যক্ত বনভূমিতে নির্মাণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে এই নিয়ম মানা হয়নি অনেকাংশে। কিছু কিছু জায়গায় বন কেটে পুকুর খনন করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড়দেইল এলাকার বেড়ির বাইরে বনবিভাগের সাগরিয়া রেঞ্জের চর আলিম বিটের জায়গায় বাগানের মধ্যে প্রথমে ১০টি পরে বাগানের বাইরে দুই ভাগে ৫৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। যা পরে এক একটি পুকুর এক একটি ভূমিহীন পরিবারকে দেওয়া হয় এর সুবিধা ভোগ করার জন্য।  বাগানের বাইরের ৫৫টি থ্রি-এফ মডেল পুকুরের একেবারে পূর্বপাশে অবস্থিত ১৫ নম্বর পুকুরটির। কাগজে কলমে থ্রি-এফ মডেল বলা হলেও বাস্তবে ফল-ফলাদি, মাছ ও গাছের কোনো অস্তিত্ব নেই এই পুকুরে। জোয়ারের পানিতে ভেঙে সমতলের সাথে মিশে গেছে এর তিনটি পাড়, পুকুরে নেই পানি। এই মডেল পুকুরের মালিক বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব বড়দেইল গ্রামের আলাউদ্দিন মাঝি (৩৫)। জোয়ারের পানিতে পাড় ভেঙে একই অবস্থা বাগানের বাইরের ৫৫টি পুকুরের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ১৫টি পুকুরের।  এছাড়া অন্য ৪০টি পুকুর খনন করা হয়েছে বাগানের বাইরে বনবিভাগের গেজেটভুক্ত জায়গায়। এই জায়গায় উপকূল রক্ষায় সবুজ বেস্টনি তৈরি করার কথা থাকলেও আরও ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে থ্রি-এফ মডেল পুকুর খনন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে এর বিপরীতচিত্র। এসব পুকুর সুবিধাভোগীদের দেওয়া হলেও সঠিক তদারকি ও সঠিক পরিকল্পনা না থাকার কারণে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। চরআলিম বিটের বাগানের বাইরে অবস্থিত ৫৫ নম্বর থ্রি-এফ মডেল পুকুরের মালিক মহিন উদ্দিন (৩০) জানান, প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী পুকুরের পাড় সমতল থেকে ৮ ফুট উচ্চতা করার কথা। কিন্তু বনবিভাগ মাত্র ৪-৫ ফুট উচ্চতায় পাড় করে দায়সারা কাজ করার ফলে জোয়ারের পানিতে অধিকাংশ পুকুরের এখন বেহাল দশা। অন্যদিকে মহিন উদ্দিন ও অন্যান্য উপকারভোগীরা নিজ শ্রমে পুকুরপাড় তৈরি করে নিলে খরচ দেওয়ার কথা দিলেও বাস্তবে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।      পূর্ব বড়দেইল গ্রামের শাহজাহানের ছেলে দিলদার উদ্দিন (৩০) এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এসব পুকুর খনন করার পর বিভিন্ন দপ্তর থেকে উপকারভোগীদের মাছের পোনা, গাছের চারা ও বীজ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম বছর সবাই আন্তরিক থাকলেও পরে আর খোঁজ খবর নেয়নি।  প্রকল্প অনুযায়ী বনের মধ্যে পরিত্যক্ত জায়গায় এই একশতটি পুকুর খননের কথা থাকলেও হাতিয়ায় অধিকাংশ পুকুর খনন করা হয়েছে বনের মধ্যে। কিছু কিছু খনন করা হয়েছে বন কেটে। এর মধ্যে ফল-ফলাদির জন্য কৃষিবিভাগ, বনায়নের জন্য বনবিভাগ ও মাছ চাষের জন্য মৎস্যবিভাগ বাস্তবায়ন করার কথা। কিন্তু তাতেও ছিল সমন্বয়হীনতা।  হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, বনবিভাগ ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিদের সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন গাছের চারা ও কৃষি উপকরণ কিতরণ করা হয়েছে। এখন কেউ যদি সঠিক ভাবে তা না লাগিয়ে থাকেন আমাদের কিছুই করার নেই। একইভাবে দায়সাড়া উত্তর দেন বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন।  এই প্রকল্পের ইউএনডিপির কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, কৃষি, মৎস্য ও বনবিভাগ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। আমরা শুধু সরকারের এসব বিভাগের মধ্যে সমন্বয়টা করে থাকি। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের বিষয়ে তিনি কিছু বলেতে রাজি হননি। প্রকল্পটি তদারকি করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে একটি কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটি রয়েছে। এই কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এই প্রকল্প সম্পর্কে আলাপ কালে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনে জানান, থ্রি- এফ মডেল পুকুর এই প্রকল্পটি সম্পর্কে অনেক আলোচনা-সমালোচনা আমি আসার পর থেকে শুনতেছি। আমি একটি মিটিং কল করেছি। মিটিংয়ে এই প্রকল্পের সাথে জড়িত সকলকে উপস্থিত থাকতে বলেছি। প্রয়োজনে সাংবাদিকরা মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেন। পি  
হাতিয়ায় জলবায়ু প্রকল্প: নামেই থ্রি-এফ মডেল পুকুর, বাস্তবে নেই
দেশের ২১ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে আরও তিনদিন
সারাদেশে শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি আজ শৈত্যপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ ২১টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে আজ মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনার ঈশ্বরদী, নওগাঁর বদলগাছী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, বরিশাল ও বরগুনার খেপুপাড়া অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু এলাকায় তা অব্যাহত থাকতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আরও তিনদিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। অপরদিকে গতকালের মতো আজও (মঙ্গলবার) চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে তাপমাত্রা আজ আরও কমেছে। ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে তাপমাত্রা নেমে আজ হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ একই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে শ্রীমঙ্গলেও। পি  
দেশের ২১ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে আরও তিনদিন
চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড 
চুয়াডাঙ্গায় আবারও শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সন্ধ্যায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে গ্রাম-শহর। প্রচণ্ড শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ। হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। আজ সোমবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক আরটিভি নিউজকে জানান, আজ সকাল ৬টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু হঠাৎ নেমে যায় পারদ। সকাল ৯টায় রেকর্ড করা হয় ৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ মাসে দুইবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। গেল ১২ ডিসেম্বর ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও আজ ৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। পি  
চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড 
১৫ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে আরও চারদিন
দেশের ১৫ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগের ৮ জেলাসহ গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আজ (সোমবার) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশের রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ অবস্থা আরও চারদিন থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চ চাপবলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। সারাদেশের রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য কোনো সতর্কবার্তা নেই এবং কোনো সংকেতও দেখাতে হবে না। পি  
১৫ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে আরও চারদিন
আরও পড়ুন
আরও এক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করলো সৌদি
নতুন চুল গজাবে যে উপায়ে (ভিডিও)
করোনাকালে চীনের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর সন্তোষ
করোনাকালে অনলাইন ব্যবসার প্রসার, বাড়ছে ক্রেতা (ভিডিও)