ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

২১ বছরে পদার্পণ করল আরটিভি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২৮ পিএম
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:১৩ পিএম

‘আজ এবং আগামী’র স্লোগান নিয়ে ২০০৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর দেশের পঞ্চম বেসরকারি টেলিভিশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি। দেখতে দেখতে ২০ বছর পেরিয়ে ২১ বছরে পদার্পণ করল গণমানুষের এই চ্যানেলটি। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আরটিভি দর্শক-শ্রোতাদের ভালোলাগাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবাদ ও অনুষ্ঠানকে সাজিয়েছে। বিপরীতে পেয়েছে দর্শকদের ভালোবাসা। সমৃদ্ধ আগামীর প্রত্যয়ে, দর্শকদের নানা প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টায় প্রতিমুহূর্তে এগিয়ে চলেছে চ্যানেলটি। নতুন নতুন অনুষ্ঠান, নাটক, টকশো, রিয়েলিটি শো, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান ও ভিন্নধারার সংবাদ দিয়ে কয়েক বছরে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে আরটিভি। টেলিভিশনের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও আরটিভি দেশীয় চ্যানেল হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এমন আনন্দের দিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্তরের শিল্পী, সংস্কৃতিজন, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও খ্যাতিমানরা। আরটিভির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান অনেকে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সব কলাকুশলী, দর্শক ও বিজ্ঞাপনদাতাসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে আরটিভি কর্তৃপক্ষ। আরটিভির এই দীর্ঘ পথচলায় সঙ্গী হওয়ায় দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানানো হয়েছে।

এদিকে জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩ দিন ব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এই বিশেষ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় বাংলা ছায়াছবি, সঙ্গীত পরিবেশন, নাটক এবং আরও অনেক কিছু।

প্রসঙ্গত, ‘গোলটেবিল’, ‘কেমন বাংলাদেশ চাই, ‘আজ পত্রিকায়’-এর মতো জনপ্রিয় টকশো ছাড়াও ‘স্টার অ্যাওয়ার্ড’, ‘আলোকিত নারী পদক’, ‘আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক’-এর মতো অনুষ্ঠান আরটিভিকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। চ্যানেলটিতে নতুন অনুষ্ঠানমালায় যুক্ত হয়েছে ‘ড্যানিশ আরটিভি ইয়াং স্টার’, ‘ফোক স্টেশন’। ইসলামিক ট্যালেন্ট হান্ট খুঁজে নেওয়ার প্ল্যাটফর্মও করেছে চ্যানেলটি। এর মধ্যে আরটিভি আলোকিত কোরআন অন্যতম। এ ছাড়া জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘গর্বিত বাবা’ অনুষ্ঠানটিও।

আরও পড়ুন

এ ছাড়াও অটিজমবিষয়ক অনুষ্ঠান—হাত বাড়িয়ে দিলাম, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল বিষয়ক অনুষ্ঠান লুকমিসহ আরও নানান অনুষ্ঠান দিয়ে বছরজুড়েই আলোচনায় পরিপূর্ণ ছিল আরটিভি। ঈদসহ ভিন্ন ধর্মের ও বিভিন্ন বিশেষ দিনকে ঘিরে প্রচার করা হয় জনপ্রিয় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ নাটক ও অনুষ্ঠানমালা।

অনলাইন ও ডিজিটাল প্লাটফর্মেও আলোড়ন তৈরি করেছে আরটিভি। কোটি কোটি পাঠকের খবরের চাহিদা মেটাচ্ছে আরটিভি অনলাইন নিউজ। প্রতিদিন এই পোর্টালে দেশ-বিদেশের দেড় শতাধিক নিউজ আপ হচ্ছে। আরটিভি ফেসবুক পেইজ এরই মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ ফলোয়ারের মাইল ফলক অতিক্রম করেছে। আরটিভির ফেসবুক পেজ, আরটিভি ইউটিউব চ্যানেল, আরটিভি ড্রামা ইউটিউব, আরটিভি মিউজিক ইউটিউব এবং আরটিভি অনলাইন বর্তমানে দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। নিত্যনতুন প্রত্যয়ে ঝলমলে আগামীর জন্য আজকের হয়ে যুগ যুগ জেগে থাকবে আরটিভি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দর্শক-শুভানুধ্যায়ীদের আবারও অভিনন্দন।

আরটিভি/এএএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের শোক
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স (ওইএ)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সংগঠনের সভাপতি হাসান শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেল এক শোকবার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। তার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, একদিনের সাধারণ ছুটি নেতারা বলেন, একজন দৃঢ়চেতা, সাহসী ও আপোষহীন নেত্রী হিসেবে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের নেতারা আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমগ্র জাতির ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারালো। উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া আজ ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। আরটিভি/আইএম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের শোক
অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের নেতৃত্বে হাসান শরীফ ও মিজান সোহেল
দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর অনলাইন ও ডিজিটাল বিভাগের প্রধানদের সংগঠন অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স (OEA)–এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।  শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরের ওয়াটারফল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার–এ অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শেষে ২০২৬ সালের জন্য নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। এতে দৈনিক যুগান্তরের হাসান শরীফকে সভাপতি এবং দৈনিক ভোরের কাগজের মিজানুর রহমান সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটির সহসভাপতি হয়েছেন বার্তাযোগের লুৎফর রহমান হিমেল, জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কে এম জিয়াউল হক এবং আরটিভির এম এ এইচ এম কবির আহম্মেদ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবিসির কামরুল ইসলাম রুবেল ও দৈনিক কালের কণ্ঠের আনিসুর রহমান বুলবুল। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এশিয়া পোস্টের পলাশ মাহমুদ এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাবের এস এ রহমান গালিব। অর্থ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন স্টার নিউজের মঈন বকুল এবং অফিস সম্পাদক হয়েছেন দীপ্ত টিভির মাসউদ বিন আব্দুর রাজ্জাক। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শিয়াবুর রহমান শিহাব, আমার দেশের রওশন জামিল ও বার্তা২৪.কম-এর মানসুরা চামেলী। এর আগে এজিএমে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি হাসান শরীফ। সভায় ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অর্থ সম্পাদক মঈন বকুল এবং বার্ষিক কার্যক্রম প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেল। আলোচনা শেষে উভয় প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য ও ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স দেশের অনলাইন গণমাধ্যমের বিকাশ, নীতিমালা প্রণয়ন এবং ডিজিটাল সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই-এর মীর আত্তাকী মাসরুরুজ্জামান, দৈনিক দেশ রূপান্তরের মঞ্জুরুল হক, দ্য ডেইলি স্টারের আজাদ বেগ, দৈনিক যুগান্তরের আতাউর রহমান ও রবিন অমিত, দৈনিক ইত্তেফাকের রিজুয়ানা রিন্তী, বৈশাখী টেলিভিশনের এইচ এম নাহিয়ান, নয়া দিগন্তের মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ও মৌসুমী সুলতানা, সময় টেলিভিশনের সায়েদুল মাহমুদ, চ্যানেল ২৪-এর মাজহার খন্দকার, গাজী টেলিভিশনের মাহমুদ সোহেল, ডেইলি সানের মওদুদ সুজন, এখন টিভির আনিসুর সুমন, দৈনিক মানবকণ্ঠের ফরহাদ হোসেন ও তানভীর খন্দকার, জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এস এম আমানুর রহমান, আরটিভির আবু আজাদ, দৈনিক বাংলাদেশের খবরের হাসনাত কাদীর, আলোকিত বাংলাদেশের হাসান আল বান্না, জিটিভির মাহমুদ সোহেল, সময়ের আলোর সাইদ রহমান, এবং যুবরাজ ফয়সাল। প্রসঙ্গত, দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এডিটর ও ইনচার্জদের নিয়ে গঠিত পেশাজীবী সংগঠন অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সংগঠনটি দেশের অনলাইন সাংবাদিকতাকে আরও সংগঠিত ও কার্যকর করতে কাজ করছে। আরটিভি/এএএ 
অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের নেতৃত্বে হাসান শরীফ ও মিজান সোহেল
গণমাধ্যমে আগুন প্রসঙ্গ / ভুলের জন্য ডেইলি স্টার সম্পাদকের দুঃখ প্রকাশ
গণমাধ্যমে অগ্নিযংযোগ নিয়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের যে মন্তব্য করেছিলেন তা ভুল হয়েছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। একইসাথে তার বক্তব্যের সংশোধনীও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) মাহফুজ আনামের বরাত দিয়ে ডেইলি স্টারে উল্লেখ করা হয়, পত্রিকাটির সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বীকার করেছেন যে গত ২১ ডিসেম্বর সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে বাংলাদেশে ‘প্রথম ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন যে, দেশে এর আগেও গণমাধ্যমের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যদিও ওই ঘটনাগুলো জীবন ও সম্পদের জন্য এতটা মারাত্মক হুমকি তৈরি করেনি। নিজের এই ভুলের জন্য মাহফুজ আনাম আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই সংশোধনীটি তাদের অনলাইন প্রতিবেদনের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে। এর আগে, গত ২১ ডিসেম্বর মাহফুজ আনাম বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে কোনো গণমাধ্যমের কার্যালয়ে আগে কখনো আগুন দেওয়া হয়নি এবং প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারেই প্রথমবারের মতো এমন হামলার ঘটনা ঘটল। সে সময় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন এমনটা ঘটল এবং গণমাধ্যম কী অপরাধ করেছে যে তাদের এমন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে হলো। গত ২১ ডিসেম্বর মাহফুজ আনাম বলেছিলেন, বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে কোনো গণমাধ্যমের কার্যালয়ে আগে কখনো আগুন দেয়া হয়নি এবং প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারেই প্রথমবারের মতো এমন হামলার ঘটনা ঘটল। আরও পড়ুন সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশের ডাক তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন এমনটা ঘটল এবং গণমাধ্যম কী অপরাধ করেছে যে তাদের এমন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে হলো। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী শাসনামলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল দৈনিক নয়া দিগন্তে। সেদিন বেলা ২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি নটর ডেম কলেজের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় মতিঝিলের শাপলা চত্বর এবং আরামবাগ উভয় দিক থেকে পুলিশ মিছিলটি ঘিরে ফেলে। এ সময় উভয় দিক থেকে পুলিশ মিছিলটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন ওই এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের অ্যাকশনে এক পর্যায়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। নেতাকর্মীরা আশপাশের রাস্তা ও গলি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। নটরডেম কলেজের উল্টো দিকে ইডেন কমপ্লেক্সের ভেতরে পাঁচতলা একটি ভবনে তখন অফিস ছিল নয়া দিগন্তের। ঘটনার ঠিক ওই সময়টাতে নয়া দিগন্তের মূল ফটক বন্ধ ছিল। ওই এলাকায় পুলিশের অ্যাকশন শেষ হলে হঠাৎ করেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত নয়া দিগন্ত কার্যালয় লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কার্যালয়ের সামনে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে তারা গাড়িতে এবং নয়া দিগন্তের প্রেসে অগ্নিসংযোগ করে। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলা শুরু করে। এতে আশপাশে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কার্যালয়ের ভেতরে এসময় যারা পত্রিকার নানা কাজে যুক্ত ছিলেন তারা আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন, কেউ কেউ ছাদে উঠে যান। অগ্নিসংযোগের পরপরই বাইরে থাকা পত্রিকার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। আগুন প্রেসে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে রাখা ১৫-১৬টি কাগজের রোলসহ বিপুল মুদ্রিত কাগজ পুড়ে যায়। আরটিভি/এমএ
ভুলের জন্য ডেইলি স্টার সম্পাদকের দুঃখ প্রকাশ
সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশের ডাক
প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বরেণ্য নাগরিক, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক নেতারা। এ হামলার প্রতিবাদে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আগামী জানুয়ারি মাসে সারাদেশে সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মব ভায়োলেন্সের কবলে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভায় সংগঠনটির সভাপতি এ কে আজাদ এ ঘোষণা দেন। সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। প্রতিবাদ সভা শেষে হোটেলের সামনের সড়কে এক মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সারাদেশের সকল সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মহাসমাবেশ করা হবে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সভায় বক্তারা বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা কোনো একক সংবাদমাধ্যমের ওপর আঘাত নয়; এটি সরাসরি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্রের বিকাশে সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবীসহ সব পেশাজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এখন সময়ের দাবি। প্রতিবাদ সভায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর সহ-সম্পাদক জুবায়ের। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মানবাধিকারকর্মী রেহনুমা আহমেদ এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের মব ভায়োলেন্স বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় দেশের গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। প্রতিবাদ সভায় দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। আরটিভি/একে
সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশের ডাক
‘ক্রিটিক্যাল জার্নালিজমের’ সুযোগ চান মাহফুজ আনাম
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে, নতুন যে বাংলাদেশ আমরা চাচ্ছি, আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যেটা ভবিষ্যৎ দেখছি সেখানে যেন ক্রিটিক্যাল জার্নালিজম এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়ার (সুযোগ থাকে)।’ রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময়সভায় এ কথা বলেন তিনি। আরও পড়ুন প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের নিন্দা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক, রেডিও ও টেলিভিশনের বার্তা প্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এ মতবিনিময়সভার আয়োজন করে দলটি। গত ৫৩ বছরে কোনো মিডিয়া অফিসে আগুন জ্বালানো হয়নি জানিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘সর্বপ্রথম এবার ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর অফিসে আগুন জ্বালানো হলো। কেন? আমারা কী অপরাধ করলাম? আমি এটা অনুরোধ করব সব মিডিয়াকে, সত্যিকার অর্থে আপনারা এটা প্রশ্ন করবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হবে ক্রিটিক্যাল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে কিন্তু আমি আপনার সমালোচনা করব সেইটার স্বাধীনতা থাকতে হবে।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘এখন সালাহউদ্দিন ভাই ইউ আর ভেরি ফ্রেন্ডলি টু দ্য মিডিয়া কারণ ইউ আর আউট অফ পাওয়ার। আপনি ক্ষমতায় গেলে কেমন হবেন সেটা আমরা যখন দেখব যে আপনি একই রকম উদার, একই রকম আপনি সমালোচনা গ্রহণ করছেন। ৫৩ বছরের ইতিহাসে কোনো সরকারই কোনোদিনই ক্রিটিক্যাল জার্নালিজম গ্রহণ করেনি। আমি আশা করব, এই নতুন বাংলাদেশে ক্রিটিক্যাল আপনারা নিবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে, নতুন যে বাংলাদেশ আমরা চাচ্ছি, আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যেটা ভবিষ্যৎ দেখছি সেখানে যেন ক্রিটিক্যাল জার্নালিজম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়ার (সুযোগ থাকে)।’ নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে মিডিয়ার সম্পর্ক হবে সম্মানজনক জানিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমি আপনাকে (নির্বাচিত সরকারকে) ক্রিটিসাইজ করব যেন সে আরো ভালো করতে পারে। আমি সমালোচনা করব ওই মানসিকতা নিয়ে যাতে নির্বাচিত সরকার সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের দিকে যায়, মানুষের চাহিদার দিকে যায়।’ মতবিনিময়সভায় তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘জনগণ আশা করছে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের খুঁটিটা যেন শক্তিশালী হয়। তিনি বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর কষ্টকর নির্বাসিত জীবন যাপন করেছেন। তার এই প্রত্যাবর্তনকে আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য কাজে লাগাতে চাই। টাই আমাদের প্রত্যাশা।’ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা জাতির জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই দৃশ্য সারা বিশ্ব দেখেছে। এটা জাতির জন্য লজ্জার।’  আরটিভি/এফএ
‘ক্রিটিক্যাল জার্নালিজমের’ সুযোগ চান মাহফুজ আনাম
আরও পড়ুন
আরটিভিতে আজ (২৯ ডিসেম্বর) যা দেখবেন
আরটিভিতে আজ (২৮ ডিসেম্বর) যা দেখবেন
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে (২৭ ডিসেম্বর) আরটিভির বিশেষ আয়োজন
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে (২৬ ডিসেম্বর) আরটিভির বিশেষ আয়োজন