
উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন শনিবার (২৪ ডিসেম্বর)। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অনেক। তাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
দিনাজপুর-২ (বোচাগঞ্জ-বিরল) আসন থেকে পরপর তিনবার নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বর্তমানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন মানে রাজনীতির অনেক বড় খবর। এই দলের ওপরে মানুষের রাগ-অভিমান যেমন আছে, তেমনি প্রত্যাশাও আছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে এমনটা নেই। কারণ মানুষ মনে করে আওয়ামী লীগই কেবল তাদের জন্য কাজ করে, অতীতেও করেছে। সে জন্যই এই সম্মেলন নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ।
তিনি বলেন, প্রতিটি সম্মেলনেই জাতিকে কিছু না কিছু দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ২০১৯ সালের সবশেষ সম্মেলনের পরপরই করোনাভাইরাসের মহামারি দেখা দিয়েছিল। সম্মেলনে দেশমাতৃকার জন্য কাজ করার যে শপথ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ, সেই কাজটি করোনাকালে করেছে দলের নেতাকর্মীরা। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের নেতারা এই কাজ করেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মোকাবিলায় কাজ করে গেছেন। আওয়ামী লীগের কথার সঙ্গে কাজের মিল রয়েছে, এ থেকেই বোঝা যায়—এটি গণমানুষের দল।
নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের অঙ্গীকার সঠিকভাবে পালন করে চলেছেন। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও একটা রাজনৈতিক দল নিজস্ব কর্মকাণ্ড থেকে হারিয়ে যায়নি। আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলন সেটা প্রমাণ করে। অনেক দল করোনাসহ নানা অজুহাতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের আড়াল করে রেখেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করেছে। সেই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক চর্চা, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা চালিয়ে গেছে।
সম্মেলন ঘিরে প্রত্যাশা নিয়ে আওয়ামী লীগের এই সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলনে সাধারণ মানুষের মতো আমাদেরও অনেক প্রত্যাশা আছে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার করেছেন, ডেফিনিটলি এই সম্মেলন থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা সেই দিকনির্দেশনা দেবেন। সেই আলোকেই দেশমাতৃকার জন্য আওয়ামী লীগ আগামী দিনে পরিচালিত হবে।
নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা দেশের জন্য রাজনীতি করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতেই আমাদের পথচলা। দেশ পরিচালনার এই মহান দায়িত্ব আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। নেত্রী সবসময় বলেন, ‘ব্যক্তির থেকে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।’ সবচেয়ে বড় কাজটার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আমাকে সম্পৃক্ত করেছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা সেই কাজটি সততার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।




