
আওয়ামী লীগ সভাপতি, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা যেন রূপ নিয়েছে মিছিলের নগরীতে। রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় রাস্তাঘাট, মোড়, সুউচ্চ অট্টালিকা।
সোমবার (১৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই লাল-সবুজ টি-শার্ট, ক্যাপ, শাড়ি পরে; হাতে নৌকা, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে, নেচে-গেয়ে জনতার স্রোত নামে রাজপথে। মিছিলের পর মিছিল সার্কিট হাউস মাঠে মিলিত হতে থাকে। দুপুর ১২টার ভেতরই জনসভাস্থলের মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তাই বাইরেই থমকে দাঁড়াতে হয় মিছিলগুলোকে। এরপর খুলনার রাজপথেই শোডাউন করে তৃপ্ত থাকছেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্যান্য সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে খুলনার রাজপথ দখলে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মহানগরী এবং পাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শোডাউন করছেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তুলেছেন রাজপথ। কমলা রঙের গেঞ্জি এবং হলুদ কালারের ক্যাপ পরে বৃহৎ মিছিল নিয়ে জনসভায় প্রবেশ করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজার অনুসারীরা।

এর আগে সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য ভোর থেকে খুলনার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীদের জনসভাস্থলে প্রবেশ করেন।
জানা যায়, খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দানে বিকাল ৩টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সার্কিট হাউস মাঠে নৌকা ও পদ্মা সেতুর আদলে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের মঞ্চ। প্রায় ৪০০ অতিথি মঞ্চে বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

জনসভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে ১০ লাখ নেতাকর্মী যোগ দেবেন বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
বেলা ১১টায় সমাবেশ মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করেন স্থানীয় শিল্পীরা। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে উপজীব্য করে একক ও যৌথ পরিবেশনা উপস্থাপন করে যাচ্ছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানিয়েছে, দলীয় জনসভাস্থল থেকে খুলনার ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৫টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ মার্চ রাজনৈতিক সফরে এসেছিলেন খুলনায়। ওই সময় তিনি একই স্থানে জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সমগ্র নগরী সেজেছে নতুনরূপে।




