
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এনসিপির ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং ঢাকা জেলার সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় পার্টি সম্পর্কে আখতার হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পর উচিত ছিল জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) দোসরদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা দেশবিরোধী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, যদি কোনোভাবে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পায়, বাংলাদেশকে তারা আর বাংলাদেশ রাখবে না, ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো পরিকল্পিত নির্বাচন, ডিজিএফআইয়ের পূর্বপরিকল্পিত নির্বাচন, বিদেশের চাপিয়ে দেওয়া কোনো ফলাফল, সাজানো কোনো নির্বাচন বাংলাদেশে আমরা দেখতে চাই না। আমরা বাংলাদেশে আর বিশ্বশক্তির রাজনীতি দেখতে চাই না, মারামারি-দলবাজির রাজনীতি দেখতে চাই না।
এনসিপির চাপেই সংস্কারের বিষয়গুলো আড়াল হতে পারেনি দাবি করে আখতার হোসেন বলেন, এনসিপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই পরবর্তী ধাপে কমিশন আবার আলোচনায় বসে। সেই আলোচনায় শুরুতে আইনি ভিত্তির দেওয়ার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকের আপত্তির জায়গা থাকলেও শেষে এসে আমরা একমত হয়েছি যে একটা আদেশ জারি করা হবে, গণভোট হবে, সামনের সংসদকে দ্বৈত ক্ষমতা দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অতিদ্রুত জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং বাস্তবায়নের পথ পরিষ্কার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আখতার বলেন, টেবিলের আলোচনাতেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। যদি জুলাই সনদকে আবারও নব্বইয়ের মতো কাগুজে দলিলে পরিণত করার কোনো চক্রান্ত হয়, বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব। আর কোনোভাবেই কোনো ফ্যাসিবাদী, স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোকে বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রকাঠামোতে স্থান দেওয়া হবে না।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) আসা সংশোধনী নিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, সংশোধনীতে অনেকগুলো ভালো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটা যাতে টেকসই না হয়, সে ব্যাপারে একটা দল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। যদি একটা দলের সিদ্ধান্তের কারণে আরও সংশোধনী বাতিল করা হয়, তাহলে আমরা বুঝে নেব, সরকার লন্ডনে যে বৈঠক করেছিল, সেই বৈঠকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাকে কারও কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরটিভি/কেএইচ



