
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশি সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এক বাণীতে সবার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বাণী হুবহু তুলে ধরা হলো—
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশি সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।
১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশিদের গৌরবময় জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ৩০ লক্ষ শহীদের তাজা রক্ত আর ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই লাল সবুজের পতাকা। বিজয় দিবস আমাদের বুক ফুলিয়ে বাঁচার দিন, মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার দিন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধে দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে ১৯৭১ সালের এদিনে আমরা দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হই।
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে উদিত হয় স্বাধীনতা সূর্য। বিজয়ী হয়ে অর্জন করি ভৌগলিক স্বাধীনতা। যারা সেদিন নিজেদের বর্তমানকে বিসর্জন দিয়েছিলেন আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য, সেই সকল নাম না জানা শহীদ এবং অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা আত্মদান করেছেন, সেসব বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
রক্তস্রোত পেরিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ অর্জন। চিরায়ত গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়েই আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সে লক্ষ্য পূরণে আজও আমরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের মূল লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
কিন্তু বারবার গণবিরোধী কর্তৃত্ববাদী শক্তি আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দুর্বল এবং বহুমাত্রিক গণতন্ত্রকে সমাধিস্থ করার চেষ্টা করেছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আপসহীন নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছিল।
এটি ছিল একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকেও অসংখ্য মিথ্যা মামলায় একের পর এক ফরমায়েশী সাজা দিয়ে পর্যুদস্ত করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সম্মিলিত শক্তিতে অবশেষে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। এখন আমাদের গণতন্ত্রের ধারাবাহিক অনুশীলন ও সার্বিক বিকাশের জন্য অনেক কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলতে হবে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
বিজয়ের এ দিনে আমি দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
আরটিভি/এফএ/এস



