
৬ হাজার ৩১৪ দিন দেশের মাটি স্পর্শ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার সঙ্গে ছিলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমান বাংলাদেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রধানতম দাবিদার নেতা হলেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিবিসি আরও বলেছে, আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের প্রধানতম দাবিদার তারেক রহমান। ৬০ বছর বয়সী এই নেতা প্রভাবশালী জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান।
তার নেতৃত্বাধীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী নতুন বছরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে। ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাসরত তারেক রহমান, নির্বাচনে বিএনপি বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলে দেশটির নতুন নেতা হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন ঘটলো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছিল, কিন্তু হাসিনার শাসনের পতনের পর তিনি সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পান।
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন এবং তার দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অনেক বিশ্লেষক এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে দেখতে চাইছেন। গত মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের তদন্তকারীদের মতে, ছাত্র-জনতার সেই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অনুপস্থিতিতে বিচার হওয়া শেখ হাসিনা অবশ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আরটিভি/একে



