ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

যে তিন মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে উত্থান ঘটে বিএনপির এই চেয়ারপারসনের। তার তিন মেয়াদের শাসনামলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

প্রথম মেয়াদ (১৯৯১–১৯৯৬)

নব্বইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে।

১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার প্রথম মেয়াদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন। ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ সংশোধনী বিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা কার্যকর হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদ (ফেব্রুয়ারি–মার্চ ১৯৯৬)

বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদ ছিল স্বল্পস্থায়ী। আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে এই সংসদ বেশিদিন টিকেনি। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিল পাসের পর ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। এ মেয়াদে তিনি মাত্র ১২ দিন (১৯ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ) দায়িত্ব পালন করেন।

তৃতীয় মেয়াদ (২০০১–২০০৬)

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া। ওই নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ১৯৩টি এবং জোটগতভাবে ২১৬টি আসনে জয়লাভ করে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে।

২০০১ সালের ১০ অক্টোবর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই মেয়াদে তিনি পূর্ণ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে মোট পাঁচবার (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন, ২০০১ এবং ২০০৮) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে একাধিক আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং প্রতিবারই সব আসনে জয়লাভ করেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনী আসনে পরাজিত হননি, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নাসীরুদ্দীন দম্পতির আছে ২২ লাখ টাকার গহনা ও নগদ ২৫ লাখ টাকা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী  হলফনামায় দেখিয়েছেন তার হাতে বর্তমানে নগদ ২৫ লাখ টাকা আছে। পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী মিলে তাদের ২২ লাখ টাকার গহনা আছে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর জোট থেকে ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। হলফনামায় পেশা হিসেবে মার্কেটিং কনসালটেন্ট উল্লেখ করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার নামে কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার হাতে নগদ ২৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকা রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, ব্যাংকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৮ হাজার ২৭৫ টাকা জমা আছে, তবে স্ত্রীর নামে আছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৯৮০ টাকা। ৪০ হাজার টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ও এক লাখ টাকার আসবাবপত্র আছে। বর্তমানে ৪০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ গ্রহণ করেননি। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলেও হলফনামা সূত্রে জানা গেছে। আরটিভি/কেএইচ
নাসীরুদ্দীন দম্পতির আছে ২২ লাখ টাকার গহনা ও নগদ ২৫ লাখ টাকা
তারেক রহমানকে মোদির চিঠি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চিঠি লিখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক পেজে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ‘প্রিয় তারেক রহমান সাহেব’ সম্বোধন করে মোদি লিখেছেন, আপনার মা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন মহামান্য বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই গভীর ব্যক্তিগত শোকের সময়ে আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। তার আত্মা চিরশান্তিতে বিশ্রাম নিক—এই কামনা করি। ‘২০১৫ সালের জুনে ঢাকায় ‘বেগম সাহেবার’ সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা কথা স্মরণ করছি। তিনি (খালেদা জিয়া) ছিলেন দৃঢ় প্রত্যয়ী ও অটল বিশ্বাসের এক বিরল নেতৃত্ব, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে যেমন তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তেমনি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করতেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। মোদি আরও লিখেছেন, তার (খালেদা জিয়া) মৃত্যুতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলেও তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং উত্তরাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে। আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আপনার দক্ষ নেতৃত্বে তার আদর্শ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের একটি নতুন সূচনা এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য একটি পথপ্রদর্শক আলো হিসেবে কাজ করবে। ‘জাতীয় শোকের এই মুহূর্তে আমার ভাবনাও বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আছে, যারা তাদের ইতিহাসে অসাধারণ শক্তি ও মর্যাদা প্রদর্শন করেছেন। আমি নিশ্চিত, তারা তাদের যৌথ মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং গভীর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে এগিয়ে যাবে।’ চিঠির শেষে মোদি লিখেছেন, আবারও আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। এই কঠিন সময়ে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সৃষ্টিকর্তা যেন ধৈর্য ও শক্তি দান করেন—এই প্রার্থনা করি। আপনার ভবিষ্যৎ কাজের জন্যও আমার শুভকামনা রইল। আরটিভি/আরএ
তারেক রহমানকে মোদির চিঠি
নিউজটি প্রত্যাহার করা হয়েছে
বিএনপির অনুরোধের প্রেক্ষিতে নিউজটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নিউজটি প্রত্যাহার করা হয়েছে
এনসিপি থেকে এবার তাসনিম জারার স্বামীর পদত্যাগ 
ডা. তাসনিম জারার পর এবার তার স্বামী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ পদত্যাগ করেছেন। তবে পদত্যাগ করার আগেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাকে নির্বাহী কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে, এদিন সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে নির্বাহী কমিটির গ্রুপ থেকে তাকে বের করে দেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এনসিপির দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, খালেদ সাইফুল্লাহ দল থেকে পদত্যাগ না করেই দল থেকে পদত্যাগ করা তার স্ত্রী তাসনিম জারার নির্বাচনে সহযোগিতা করেছেন। কোনো প্রকার অনুমতিও নেননি তিনি। আমরা আশঙ্কা করছি তিনি এখান থেকে তথ্যও পাচার করতে পারেন। সেজন্য আমরা দলের সদস্যসচিব বরাবর অভিযোগ দিলে তিনি গ্রুপ থেকে বের করেন। পরে তিনি রাতে পদত্যাগপত্র দেন। আহবায়ক বরাবর দেওয়া পদত্যাগপত্রে কোনো কারণ উল্লেখ না করেই খালেদ সাইফুল্লাহ লিখেন, আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির সকল পদ ও দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করছি। এর আগে, গত শনিবার দল থেকে পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তাসনিম জারা এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন, একই কমিটির সদস্য ছিলেন তার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ। শেষ পর্যন্ত দুজনই এনসিপির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেছেন। আরটিভি/এমএ
এনসিপি থেকে এবার তাসনিম জারার স্বামীর পদত্যাগ 
তারেক রহমানের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
ঢাকায় সফররত শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।  বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল বিরাক্কোডি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির পক্ষে স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসানের মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোক বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় হয়। আরটিভি/আরএ
তারেক রহমানের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে
খালেদা জিয়ার জানাজায় ৩২ দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি
দেশে এমন জানাজা আগে দেখেনি কেউ
খালেদা জিয়ার জানাজা ঘিরে নিরাপত্তায় বিজিবি