ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

দুঃখপ্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: আরটিভি

জাতীয় সংসদে গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হওয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং কর্মসূচি প্রতিহতের হুমকির মুখে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তার দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন।

তার ভাষ্য, এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তবে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন।

হাসনাত বলেন, এর অর্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ সম্পর্কে ভুল বার্তা গেছে এবং তাদের ছোট করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নৌকাবাইচের প্রসঙ্গে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করে হাসনাত বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এ জন্য দুঃখপ্রকাশ করছেন।

আরও পড়ুন

তবে তিনি বলেন, মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত কথা বলা উচিত ছিল। কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নের সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ হয়নি।

পোস্টে হাসনাত আরও বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং সব নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নিতে চান। তার মতে, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ কারও মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। পাশাপাশি বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনারও সুযোগ থাকবে।

হাসনাতের ভাষ্য, যার যেটি পছন্দ, সে সেটিতে অংশ নেবে; আর যার পছন্দ নয়, সে সেখানে যাবে না। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বর্তমানে মানুষের সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জুলাইয়ের আন্দোলনকে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, এটি ছিল মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং সর্বজনীন সমাজ গড়ার আন্দোলন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিএনপির প্রতিটি কর্মীর ঘরে ঘরে আজ কান্নার রোল: অলি আহমেদ
তিনি বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যাবে, সেজন্য বিএনপি কর্মীদের ঘরে ঘরে হাহাকার শুরু হয়ে গেছে। আমরা দেশকে সঠিক পথে আনার জন্যই লংমার্চ করছি। কোনো মুনাফেকের কথায় আপনারা বিপথগামী হবেন না।
বিএনপির প্রতিটি কর্মীর ঘরে ঘরে আজ কান্নার রোল: অলি আহমেদ
নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পাশে বিএনপি আছে: ডিএসসিসি প্রশাসক
বিএনপি দেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত সব মানুষের সঙ্গে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি ঢাকা জেলা শাখার ৭ দফা দাবি আদায়ের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। আবদুস সালাম বলেন, এই দেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত সকল মানুষের সঙ্গে বিএনপিও আছে, আমিও আছি। আপনাদের এই সেক্টরে দীর্ঘদিনের সংগ্রামের কথা আমরা জানি। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি মানুষের কথা বোঝার চেষ্টা করেন এবং সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, আপনাদের সমস্যাগুলো আমরা মন্ত্রণালয়কে বলেছি। আমিও মন্ত্রণালয়কে বলার চেষ্টা করব এবং সম্ভব হলে প্রধানমন্ত্রীকে বলব। আমরা চাই দেশটা এগিয়ে যাক। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে দেশকে ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ব্যাংকগুলোতে লুটপাট হয়েছে। অনেক ব্যাংক এমন অবস্থায় পড়েছে যে, মানুষ টাকা জমা রাখলেও তা ফেরত দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ বিভিন্ন খাতে সমস্যা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান এম এ রশিদ, মহাসচিব কে এস হোসেন টমাস, সভাপতি মো. ওয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন খানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা। আরটিভি/টিআর
নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পাশে বিএনপি আছে: ডিএসসিসি প্রশাসক
জামায়াত আমিরের লংমার্চের বক্তব্যে ‘অপ্রতীম হত্যা’ প্রসঙ্গ
জামায়াত আমির বলেন, দুঃখের বিষয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখতে পারেন না।
জামায়াত আমিরের লংমার্চের বক্তব্যে ‘অপ্রতীম হত্যা’ প্রসঙ্গ
হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুল তথ্য, যা বললেন মাহবুবা হাকিম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের হলফনামায় ভুল তথ্যের বিষয়টি ইতিমধ্যে সামনে এসেছে।
হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুল তথ্য, যা বললেন মাহবুবা হাকিম
স্বৈরশাসক থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য রাস্তায় নেমেছি: ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বৈরশাসক থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য রাস্তায় নেমেছি। এ লড়াই জনগণের জন্য, ১৮ কোটি মানুষের জন্য।
স্বৈরশাসক থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য রাস্তায় নেমেছি: ডা. শফিকুর রহমান
আরও পড়ুন
হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা
‘মোদিকে পালাতে হতে পারে, মনে হয় শেখ হাসিনা তাকে নিয়েই দেশে ফিরবেন’
গণভোটের দাবি থেকে সরকারের সরে আসা জনগণকে হতাশ ও আহত করেছে: হাসনাত
১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো:  হাসনাত