ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান

‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা সম্মানের, দয়া বা ভিক্ষার নয়’

সিয়াম সারোয়ার জামিল, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ১০ মে ২০১৮, ০৮:২৯ পিএম

(সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এই আন্দোলনের বিরোধীতা করে আসছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সমমনা কয়েকটি সংগঠন। এর মধ্যে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নামক সংগঠনটি অন্যতম। এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন রাশেদুজ্জামান শাহীন। তিনি আন্দোলনের নানা দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলোর সংকট নিয়েও আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার সিয়াম সারোয়ার জামিল।)

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কীভাবে দেখছেন?

কোটা সংস্কার আন্দোলন একেবারেই অযৌক্তিক বলে মনে হয়েছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোটা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। যাতে সব জায়গার মানুষের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সুষম বন্টন হয়। ধাপে ধাপে সেটা বিভিন্ন সময়ে সংস্কার হয়েছে। এই কোটা ব্যবস্থার ফলে পিছিয়ে পড়া নারী, প্রতিবন্ধীরা উঠে আসতে পারছে। অনুন্নত এলাকা থেকে, দরিদ্র পরিবার থেকে মানুষগুলো সরকারি কাজে নিজেকে সম্প্রদান করতে পারছে। যদি কোটা ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায় তবে রাষ্ট্রীয় কাজে সব শ্রেণির মানুষের উঠে আসা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা রাষ্ট্রের জন্য হুমকীস্বরূপ। যারা আন্দোলন করছেন, তারা না বুঝেই আন্দোলন করছেন। কারণ, সবাইকে কোটা দেয়া হলেও মেধার পরীক্ষা আগে নিয়েই কোটার মাধ্যমে সব শ্রেণি থেকে সরকারি চাকরিতে লোক নেয়া হচ্ছে। বিভ্রান্তিটা তৈরি করেছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।

আপনারা বলছেন, এই আন্দোলনে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জড়িত। এটা কেন মনে হয়েছে?

পৃথিবীর সব দেশেই বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন হয়। এখানেও হচ্ছে। সেটা দোষের কিছু না। কিন্তু কোটা সংস্কারের নাম করে আন্দোলনকারীরা কার্যত কোটা বাতিলের দাবিতেই আন্দোলন করেছে। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন সময়েই বিভ্রান্তিকর ও স্বাধীনতাবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। তারা উপাচার্য স্যারের বাসা জ্বালিয়ে দিয়েছে, লুট করেছে। তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া স্ট্যাটাসগুলোও সাম্প্রদায়িকতাকে ইঙ্গিত করে। তাদের ব্যানারে, প্ল্যাকার্ডে, বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অপমান করা হয়েছে। ফেসবুকে বাজেভাবে ট্রল করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সূর্য সন্তান। পৃথিবীর কোনো দেশে এভাবে অপমান করা হয় না। যে রাজাকার শব্দটা সবচেয়ে ঘৃনীত, সেই শব্দটাই তারা বুকে লিখেছে। ২০১৩ সালে আমরা যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিয়েছিলাম, তুই রাজাকার তুই রাজাকার। অথচ সেই সুরে এই আন্দোলনকারীরা বুকে লিখেছে মুই রাজাকার, মুই রাজাকার। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমানজনক। এসব আলামতে স্পষ্ট হয় স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : খালেদার আত্মীয়ই তার নামে দুর্নীতির মামলা করেছে: মতিয়া
--------------------------------------------------------

প্রধানমন্ত্রী কোটা প্রথা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। এটাকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?

প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু তিনি এই সিদ্ধান্ত মন থেকে নেননি। অভিমান করেই নিয়েছেন। এত বড় একটা সিদ্ধান্ত অভিযান থেকে নেয়া উচিত হবে। এটা আমাদের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। তাই আমরা কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছি।

কোটা বহাল ছাড়া আর কি কি দাবি করছেন আপনারা?

রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের উত্তরসূরিদের সকল চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। এবং স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে তা বাস্তবায়নে কমিশন গঠন করতে হবে। প্রিলিমিনারি থেকে কোটা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

কোটা বাতিলের প্রতিবাদে বেশ কিছু কর্মসূচি দিয়ে আসছেন। কিন্তু এতগুলো সংগঠনে বিভক্ত হয়ে কেন?

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোন্দল মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের মাঝেও ছড়িয়েছে। এটা সত্যিই আমাদের জন্য দু:খজনক। একক কোনো সংগঠনের ব্যানারে সবাইকে এক করাটাও মুশকিল। তবে আমরা বিভিন্ন সময়ে সমন্বয় করে যুগপৎভাবেও কর্মসূচি পালন করি। দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান প্রায় ৮-১০ লাখ। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উচিত ছিল, এদের সংগঠিত করা। কিন্তু সেটা হয়নি। খণ্ড খণ্ড হয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রতিষ্ঠা পায়। আমাদের পঞ্চাশ হাজার সদস্য আছে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাতের আঁধারে গঠনতন্ত্র পরিপন্থী একটি কমিটি এসে যায়। এরপরে গঠনতন্ত্র থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম ফেলে দিয়ে তৎকালীন সরকারপন্থীরা নতুন সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড গঠন করে। পরে আরো কিছু সংগঠন হয়। দেশে এখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়ে ৮-৯ টি সংগঠন আছে, প্রজন্ম নিয়ে আছে ২৭ টি সংগঠন। একেকটার নাম খুবই অদ্ভুত। কোনো কোনোটি সাম্প্রদায়িক নামও ধারণ করেছে। পাশাপাশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছে। সরকার চাইলেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বের করে দিতে পারতো। কিন্তু কোনো সরকারই সেটা সঠিকভাবে করেনি। দলের লোকজনকে জায়গা দিতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেছে। এতে করে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে লোকজনের মধ্যে হাস্যরস সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে না পারুক, এভাবে অপমান করার তো দরকার নাই।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?

মুক্তিযোদ্ধা পরিবার নিয়ে সবাই রাজনীতি করতে চায়। সেই রাজনীতির বলি হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নতুন প্রজন্ম। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা তাদের কাজে আন্তরিক না। ফলে মুক্তিযোদ্ধারা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা হচ্ছে বিভক্ত। অন্যদিক স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ।

আপনি বললেন ৮-১০ লাখ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আছে। কিন্তু আপনাদের আন্দোলনে সেই পরিমাণ সক্রিয়তা দেখা যায়নি। এটা কেন?

আমরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছি। বেশ কয়েকটি সংগঠন কাজ করছে। যারা কোটা আন্দোলন করছে, তারা বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের কেউ গ্রামে থাকে, কেউ চাকরি করে, কেউ ব্যবসা করে, কেউ পড়াশোনা করে। সবাই তো আর শিক্ষার্থী না। ফলে সবাই বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থক থাকলেও আন্দোলন সেইভাবে গড়ে তোলা যাচ্ছে না।

এই মুহূর্তে কোটা আন্দোলন নিয়ে সমাধানের পথ কী?

মুক্তিযোদ্ধারা কিন্তু সিংহভাগই দরিদ্র পরিবার থেকে আসছেন। অপরদিকে যারা স্বাধীনতাবিরোধী-রাজাকার তারা কিন্তু অপেক্ষাকৃত ধনী। তাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের তুলনা হবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাদের জন্য যদি ন্যুনতম এই কোটা না রাখা হয়, সেটা এক ধরনের অপমানই করা হবে এমন নয়, ওই পরিবারগুলোকে রাস্তায় ফেলে দেয়া হবে। আদর্শহীন মেধা দেশের জন্য ক্ষতিকর। জাতিসংঘে কোটা আছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে কোটা আছে, আইএমএফে কোটা আছে। বিশ্বের সবজায়গাতেই কোটা ব্যবস্থা আছে। কারণ হচ্ছে, সব শ্রেণির মানুষকে একই কাঠামোর মধ্যে স্থান দেয়া। একটা সুষম বন্টন সৃষ্টি করা। সবকিছু বিবেচনা নিলে কোটা যৌক্তিক। স্বল্পউন্নত দেশের সুষম উন্নয়নের স্বার্থেই কিন্তু এই কোটা ব্যবস্থা জারি রাখা দরকার। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানাচ্ছি, কোটা ব্যবস্থা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন। দেশের স্বার্থেই তাকে এই বিবেচনাটা করতে হবে।

আরও পড়ুন :

এসজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
মুক্তিযোদ্ধা, আদিবাসী, প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চাইলেন কোটা সংস্কারপন্থীরা
মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কোটা আন্দোলন: লুমা ৩ দিনের রিমান্ডে, রাতুলের জামিন নামঞ্জুর
কালো পোশাকে ঈদ পালন করবেন কোটা আন্দোলনকারীরা