ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন ২৩ জুন

ভবন কথা বলবে ইতিহাস-ঐতিহ্যের

মিথুন চৌধুরী

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৮, ০৭:১২ পিএম

ভবনটির ঠিকানা ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। যার প্রতিতলায় ফুটে উঠেছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানা চিত্র। ঊনসত্তর বছরের পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রাণকেন্দ্র এ ভবনটি। প্রবেশ মুখে দেখা যায় চলন্ত নৌকা। ভবনের সামনে বড় করে তিনটি শব্দ লেখা ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। সামনের দেয়ালজুড়ে দলের সাইনবোর্ডসহ দলীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি, ভাষা আন্দোলন-৫২, মুক্তিযুদ্ধ-৭১ প্রভৃতি শব্দ খোদাই করে লেখা হচ্ছে।

ভবনের সামনের দিকের দেয়ালে ৪, ৫, ৬ ও ৭ তলার জায়গাজুড়ে টেরাকোটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের চিত্র। তার পাশেই ৫২’র ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের স্মৃতি চিহ্ন।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :দেশে এক প্রকারের যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে : ফখরুল
--------------------------------------------------------

দেয়ালের দু’পাশ কাচ দিয়ে ঘেরা আর মাঝখানে সিরামিকের ইটের বন্ধনে গড়ে উঠে ভবনটিতে রয়েছে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা। আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিতব্য ভবনটিতে থাকবে দুটি স্বতন্ত্র কার পার্কিং, একাধিক লিফট, সিঁড়ি, কার লিফটসহ ভূমিকম্প ও অগ্নিপ্রতিরোধের ব্যবস্থা। ভবনের ছাদে থাকবে হেলিপ্যাড, যেখানে সরাসরি হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারবে।

১০তলা ভবনের সামনে-পেছনে ছেড়ে দেয়া জায়গায় হচ্ছে বাগান। এ ভবনের সামনে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ছাড়াও দেয়ালে ওই গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভী রহমানের ছবি রাখা হচ্ছে। দ্বিতীয়তলায় ৩৫০ জনের বসার ব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে কনফারেন্স হল। তৃতীয়তলায় হবে আরেকটি কনফারেন্স হল। এখানে ২৪০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকবে। তিনতলার সামনের অংশটা ‘ওপেন স্কাই টেরাস’। অনেকটা বাসার ড্রইংরুম বা পাঁচতারকা হোটেলের আদলে করা হবে এ অংশ। এখানে কৃত্রিম বাগানের ফাঁকে ফাঁকে চেয়ার-টেবিল দিয়ে বসার ব্যবস্থা থাকছে। পাশাপাশি থাকবে চা-কফি খাওয়ার আয়োজন।

এছাড়া ভবনের চার ও পাঁচতলায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিমসহ সমমনা অন্যান্য সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সাত, আট ও নয়তলায় দলীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কক্ষ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সভাপতির ফ্লোর থাকবে বুলেট প্রুফ ডাবল গ্লাস। এছাড়া ভবনের বিভিন্ন তলায় রাখা হয়েছে ডিজিটাল লাইব্রেরি, সেমিনার রুম এবং সাংবাদিক লাউঞ্জ।

রাজউকের বিল্ডিং কোড অনুযায়ী সামনের দিকে রাস্তা থেকে ১০ ফিট এবং পেছনের দিকে ১৭ ফিট জায়গা ছেড়ে মোট জমির ৬৫ শতাংশ ব্যবহার করে ভবনটি তৈরি করা হচ্ছে। ভবনটির প্রথম থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোর ৪১০০ বর্গফুট। চতুর্থতলা থেকে উপরের সব কটি ৩১০০ বর্গফুটের।

ভবনটির স্ট্রাকচার ডিজাইন এবং তৈরির কাজ করছে ‘দি ডিজাইনারস অ্যান্ড ম্যানেজারস’নামের একটি বেসরকারি ফার্ম। নির্মাণে সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ভবন নির্মাণ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন প্রকৌশলী ইমাম হোসেন।

আওয়ামী লীগের নিজস্ব ফান্ড থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও নির্মাণ সামগ্রী দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণ খরচও বেশ বেড়েছে।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দেশের ফেরার পর পুরনো ভবনের এ জায়গায় কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়। ২০১৭ সালের ২৩ জুন দলটির ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের নিজস্ব ভবন করার সিদ্ধান্ত হয়। এ ধারাবাহিকতায় ১৬ জুলাই ২০১৬ পুরনো ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। সেপ্টেম্বরে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের মধ্যেই ভবনটির কাঠামো নির্মাণ শেষ হয়।

পুরান ঢাকার কে এম দাশ লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশের পর আওয়ামী লীগের কার্যালয় স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। এ ভবন ছাড়াও ধানমন্ডিতে সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় ও নির্বাচনী কার্যালয়ও রয়েছে দলটির।

আগামী ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উদ্বোধন করা হবে আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন দশ তলাবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় এ কার্যালয়। এ উপলক্ষে বুধবার ভবনটির নির্মাণকাজের সবশেষ পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনয়ার মোশাররফ হোসেন।

আরও পড়ুন :

এমসি/পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ধানের শীষ প্রার্থীকে মিষ্টি খাওয়ালেন নৌকার বিজয়ী প্রার্থী
নির্বাচনে ১৯ নারী প্রার্থী বিজয়ী
ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের দোষে সাতটি আসন পেয়েছে: শেখ হাসিনা