ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

৬৭ গবেষক, শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নির্মাতা, রাজনৈতিক কর্মীর বিবৃতি

‘অধ্যাপক আকমলকে নয়, ঢাবি শিক্ষক সমিতিকেই ক্ষমা চাইতে হবে’

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৮, ০৩:৫৫ পিএম

বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আকমল হোসেনের বক্তব্য খন্ডিত ও বিকৃতভাবে প্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে ৬৭ তরুণ গবেষক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নির্মাতা, রাজনৈতিক কর্মী বিবৃতি দিয়েছেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিকে ভুল স্বীকার করে অধ্যাপক আকমল হোসেন ও জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, গেলো ১৯ জুলাই, ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের সংহতি সমাবেশে অধ্যাপক আকমল হোসেনের প্রদত্ত একটি বক্তৃতাকে খন্ডিতভাবে উপস্থাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্যগণ যে ভ্রান্ত প্রচারণা চালাচ্ছেন তাতে আমরা হতভম্ব ও ব্যথিত হয়েছি।

বিবৃতিদাতারা বলেন, সংহতি সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অধ্যাপক আকমল হোসেন প্রকৃতপক্ষে যা বলেছিলেন তা হল এই: “সেদিন আমার সহকর্মী তানজীমকে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীমউদ্দীন খান) বলা হয়েছে যে সে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল কিনা। (ছাত্রলীগের কর্মীরা গত ১৫ জুলাই শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনের সময় যে পাল্টা মানববন্ধন করে সেখানে তারা এমন বক্তব্য দেয়)। এখন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করাটা যদি আপনার এধরনের আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কোনো যোগ্যতা হয়, তাহলে আমার মনে হয়, আমাদের অনেকেই সেই যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হবেন না। এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তানজীম বা ফাহমিদের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ফাহমিদুল হক) বয়স মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে যাবার বয়সের সমান। আর মুক্তিযুদ্ধের মতো মহান একটি ঘটনা আমাদের জাতির জীবনে, সেটা নিয়ে যেভাবে অবস্থান নেয়া হয়, বক্তব্য রাখা হয়, তাতে আমার মনে হয়, যে মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করা হয়। আমার প্রশ্ন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী -- তিনি কি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন? তার পিতা -- তার পিতা, যিনি এই আন্দোলনের যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যার মাধ্যমে তৈরী হয়েছিল, তিনি কি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন? তাহলে মুক্তিযুদ্ধের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই যে বিচার করা, কে প্রতিবাদ করতে পারবে, কে অন্যায় (অন্যায়ের প্রতিবাদ) করতে পারবে, সেটা আমার মনে হয় অত্যন্ত নেতিবাচক চিন্তা।” (অধ্যাপক আকমল হোসেনের ওই বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ইতোমধ্যেই সবাই দেখেছেন। তিনি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন পত্রিকায়)। তাঁর উপরিল্লিখিত বক্তব্যে এটা পরিস্কার যে তিনি এখানে প্রধানমন্ত্রী বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাউকেই কোন কটুক্তি করেননি। বরং যৌক্তিকভাবে এটাই দেখাতে চেয়েছেন যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পারলেই যে কেউ প্রতিবাদ করতে পারবে না এটি একটি নেতিবাচক চিন্তা।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: সিলেট সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সমর্থন পেলো আ.লীগ
--------------------------------------------------------

বিবৃতিদাতারা দাবি করেন, এত পরিস্কার বক্তব্য দেয়ার পরও অধ্যাপক আকমল হোসেনের এই বক্তব্যকে পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সম্মানিত শিক্ষকগণ গত ২৪ জুলাই প্রেস রিলিজ পাঠিয়ে খণ্ডিতভাবে প্রচার করেছে এইভাবে, “গত ১৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে অত্যন্ত অপ্রাসঙ্গিকভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে অধ্যাপক আকমল হোসেন (অবসরপ্রাপ্ত) বলেছেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন? তাঁর পিতা...তিনি কি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন?’ আমরা বিস্মিত হই এই ভেবে যে, এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য সত্ত্বেও উক্ত সমাবেশের আয়োজকরা তার এ বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ তো করেনইনি বরং বাহবা দিয়েছেন।” এভাবে খন্ডিত ও বিকৃতভাবে অধ্যাপক আকমল হোসেনের বক্তব্যকে প্রচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সম্মানিত সদস্যগণ অভিযোগ করছেন যে অধ্যাপক আকমল হোসেন নাকি প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করেছেন! তাদের উক্ত প্রেস রিলিজে আরো লিখেছেন যে অধ্যাপক আকমল হোসেন যেন তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন! এভাবে অধ্যাপক আকমল হোসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিষয়ে যা বলেছেন সেটিকে শিক্ষক সমিতি তিনটি ডটের দ্বারা ফেলে দিয়ে তাঁর বক্তব্যকে খন্ডিত ও বিকৃত করে এমনভাবে প্রচার করছেন যে তাতে তাঁর বক্তব্যের মূল অর্থ পুরোপুরি বদলে যাচ্ছে। তাছাড়া কোন প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের বিষয়ে অধ্যাপক আকমল হোসেন কথা তুলেছেন সেটিও কিন্তু তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বলেছেন। অথচ শিক্ষক সমিতি তাঁর বক্তব্যের মাঝখানের একটা অংশকে বিকৃতভাবে উদ্ধৃত করে অভিযোগ করছেন যে তিনি নাকি অপ্রাসঙ্গিকভাবে এই প্রসঙ্গ তুলেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করেছেন!

বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি অধ্যাপক আকমল হোসেনের বক্তব্যকে খুবই খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে প্রচার করেছেন এবং এর ফলে তাঁর বক্তব্যের অর্থ বদলে যাচ্ছে। শিক্ষক সমিতির এই কাজ পরিস্কারভাবেই সত্যের অপলাপ ও কার্যত জঘন্য মিথ্যাচারের শামিল। যার ফলে অধ্যাপক আকমল হোসেনকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে ও হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা অধ্যাপক আকমল হোসেনকে নিয়ে করা এহেন জঘন্য মিথ্যাচারের প্রতি তীব্র ধিক্কার জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্যগণের কাছ থেকে এমন মিথ্যাচারের সমতুল্য ভ্রান্ত প্রচারণা আমরা আশা করি না।

তারা বলেন, এই ভ্রান্ত প্রচারণা দ্বারা শিক্ষক সমিতির সদস্যগণ অধ্যাপক আকমল হোসেনকে যেভাবে হয়রানি ও বিপদগ্রস্ত করছেন সেটি যে কতটা নীতি-নৈতিকতাবর্জিত ও ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত হচ্ছে সেটি শিক্ষক সমিতির শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সদস্যরা অচিরেই অনুধাবন করবেন বলে আমরা আশা করতে চাই। আমরা মনে করি নিজেদের ভুল স্বীকার করে অধ্যাপক আকমল হোসেনকে নিয়ে মিথ্যাচারের সমতুল্য ভ্রান্ত প্রচারণা চালানোর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বরং উচিত অধ্যাপক আকমল হোসেন ও জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা। সেই সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের দ্বারা হেনস্তা করা হচ্ছে আমরা অনতিবিলম্বে তারও অবসান ঘটানোর দাবি জানান বিবৃতিদাতা।

বিবৃতিদারা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক আতিয়া ফেরদৌসী চৈতী, ইউল্যাবের শিক্ষক হিয়া ইসলাম, শিল্পী শ্যাম সাগর মানকিন, বিজন দাস, এক্টিভিস্ট তৃষা বড়ুয়া, বাবু আহমেদ, লেখক ইমতিয়াজ আহমেদ, শিল্পী হরেন্দ্রনাথ বড়ুয়া, কথাসাহিত্যিক আল বিরুনী প্রমিথ, কবি রুদ্র রথি, কবি শ্মশান ঠাকুর, চলচ্চিত্র নির্মাতা দীপা মাহবুবা ইয়াসমিন, সাংবাদিক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লাকী আক্তার, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবীর, ছাত্রফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন প্রিন্স, ছাত্র ঐক্য ফোরামের আর্নিকা তাসমীম মিতু, হিল উইমেনস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা প্রমুখ।

আরও পড়ুন:

এসজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
থার্টি ফার্স্টে সমবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না: ডিএমপি
ড. কামাল জাতির সঙ্গে তামাশা করছেন: আরেফিন সিদ্দিক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে নাট্য উৎসব
ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের পুনঃভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ