ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ভোটের হাওয়া: লক্ষ্মীপুর-১ ও ২ আসন

শরিক দল নিয়ে টেনশনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি (ভিডিও)

পলাশ সাহা, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:৫৯ পিএম

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী আমেজে ভাসছে লক্ষ্মীপুর জেলা। জেলার ১ এবং ২ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নেমেছেন নির্বাচনী প্রচারণায়।

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে তৎপর থাকলেও পিছিয়ে নেই বিএনপিও। এলডিপি ও তরিকত ফেডারেশনের নেতারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ জোট থেকে মনোনয়ন পেতে জোটের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। বড় দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পথের কাঁটা শরিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ছাড় দিতে নারাজ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকেই মাঠ গরমের চেষ্টা করছেন। তবে ছাড় দিতে নারাজ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তাই শরিকদের নিয়ে উভয় জোটে টেনশন বাড়ছে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনটি থেকে ১৯৭০ সালের পর কোনও নির্বাচনই জয়ী হতে পারেননি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। যার প্রধান কারণ হচ্ছে, দলীয় কোন্দল ও প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা না থাকায়। অবশ্য এবার যে কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন তাদের মধ্যে কয়েকজনের রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তারা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান অংশগ্রহণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও গরিব অসহায়দের দান-অনুদানের মাধ্যমে অর্জন করেছেন জনপ্রিয়তা। এছাড়া সাধারণ ভোটারদের কাছে গিয়ে তুলে ধরছেন সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। তবে দূর হয়নি এখনো দলীয় কোন্দল।

একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সফিকুল ইসলাম। তিনি এই আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

সফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যাপক উন্নয়নের কারণে আমাদের সরকারের জনসমর্থন বেড়েছে। এখানে আমরা সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত। আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আগামী নির্বাচনে এই আসনটি থেকে বিপুল ভোটে নৌকা প্রতীক জয়লাভ করবে।

এ আসনটিতে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিক মাহমুদ পিন্টু বলেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। নৌকাকে বিজয় করতে নির্বাচনী এলাকায় জনগণের পাশে থেকে কাজ করছি। আশা করছি আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পাবো।

তরিকত ফেডারেশনের নেতা ও বর্তমান এমপি এম এ আউয়াল বলেন, এই আসনে আমার দল সু-সংগঠিত। আগামী দিনে আমার ইমেজ ও দলের জনপ্রিয়তায় আমাকে যদি মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো।
------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারী এবং ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি মিছিল
------------------------------------------------------------------

রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ও নৌকার বিজয়ে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. আনোয়ার খাঁন। আগামী সংসদ নির্বাচনে ড. আনোয়ার খানকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দিবো।

এছাড়া আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এমএ মমিন পাটোয়ারী

এদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ কয়েকটি উৎসব ছাড়া তৃণমূল কর্মীরা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীদের দেখা পান না। তাই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত এই আসনটি হারানোর ভয় করছে কর্মীরা। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রত্যাশা সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়া যাবে।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য মো. ঈমাম হোসেন বলেন, এটি বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। এখানে রয়েছে বিএনপির শক্তিশালী সংগঠন। এ অঞ্চলে যত উন্নয়ন হয়েছে তা কেবল বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখনই হয়েছে। এজন্য এ অঞ্চলের মানুষ বিএনপিকেই ভোট দিবে। আমি দীর্ঘদিন দলকে সংগঠিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তাই আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দিবে।

এছাড়া এই আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইমাম হোসেন মনোনয়ন চাইছেন।

এদিকে, সদর উপজেলার একাংশ এবং রায়পুর উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-২ আসনেও চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুইবার এ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় এখানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে আছে দলটি। তবে, গেল নির্বাচনে মহাজোট থেকে টিকিট পেয়ে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ আসনের এমপি হওয়ায় কিছুটা শঙ্কিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু এইবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে রাজি নয়। দলের নেতাকর্মীরাও চায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই মনোনয়ন পাক।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. এহসানুল কবির জগলুল বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পেলে তিনি এই আসনটি নেত্রীকে উপহার দিতে পারবেন। এছাড়াও তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি ও বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দুর করবেন।

রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকন বলেন, শিল্পপতি শহিদুল ইসলাম পাপুলের নেতৃত্বে ও অর্থায়নে সুসংগঠিত রয়েছে উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে নৌকা মার্কা।

এ আসনে আওয়ামী লীগের যেসব প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তারা হলেন- কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি মো. হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, জেলা যুবলীগের সভাপতি এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন সভা সমাবেশের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভুঁইয়া বলেন, লক্ষ্মীপুরের সব কয়টি আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি জয়লাভ করবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে। তবে পার্লামেন্ট ভেঙে নির্বাচনকালীন গ্রহণযোগ্য একটি সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন সংস্কার, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।
------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : সরকারকে নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধ্য করতে হবে: মওদুদ
------------------------------------------------------------------

বিএনপি নেতা কর্নেল (অব:) আবদুল মজিদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। তাই দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আগামী নির্বাচনে আসনটি খালেদা জিয়াকে উপহার দিবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি নির্বাচিত হলে দলকে সংগঠিত করার জন্যও কাজ করবেন বলে জানান।

রায়পুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম জিলানী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। আর এখন উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগ লুটপাটে ব্যস্ত। বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ঘরোয়া অনুষ্ঠানগুলোও করতে দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

নিজেদের বিজয় নিশ্চিত দাবি করে তিনি আরও বলেন, আসনটি বিএনপির ঘাটি হিসাবে পরিচিত, এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা জামানত ফেরত পাওয়ার মতও ভোট পাবে না।

জোট ইস্যুতে বর্তমানে এখানে সংসদ সদস্য রয়েছেন জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি ও এরশাদের উপদেষ্টা সদস্য মোহাম্মদ নোমান। অভিযোগ রয়েছে তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দলকে সুসংগঠিত না করেই নিজের আখের গোছানোর কাজেই রয়েছেন ব্যস্ত। এজন্য নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে এ উপজেলা জাতীয় পার্টি।

কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির নির্বাহী সদস্য ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ ফায়েজ উল্লাহ শিপন বলেন, জেলার কয়েকজন নেতার কারণেই এখানে জাতীয় পার্টি সুসংগঠিত নয়। তবে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং আগামী নির্বাচনে লাঙল মার্কাকে জয়ী করার জন্য দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। জাতীয় পার্টির গুরুত্ব তুলে ধরছি।

এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
নির্বাচনে ১৯ নারী প্রার্থী বিজয়ী
কে কোন আসন থেকে জয়ী হলেন