ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ভোটের হাওয়া: লক্ষ্মীপুর ৩ ও ৪ আসন

আ. লীগের হাতিয়ার উন্নয়ন, প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিএনপি

পলাশ সাহা, লক্ষ্মীপুর, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:৪৭ পিএম

লক্ষ্মীপুর-৩ ও ৪ আসনেও লেগেছে, সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। জেলার-৩ নম্বর আসনে একাধিক প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় বড় দু’দল। অন্যদিকে, ৪ আসনে, সরকারের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে বিজয়ের লক্ষে এগিয়ে যেতে চায় আওয়ামী লীগ। আর বিএনপির লক্ষ্য হারানো আসন পুনরুদ্ধার।

জানা গেছে, বিএনপি’র দুর্গ হিসেবে খ্যাত মেঘনা উপকূলীয় এলাকা লক্ষ্মীপুরে আঘাত হানতে চলেছে আওয়ামী লীগ। সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মাঠে রয়েছে আওয়ামীলীগ। এদিকে আসন ফিরে পেতে তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি। অন্যান্য দলগুলোর রয়েছে নানা অভিযোগ তবুও দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনাই শেষ কথা বলে জানান তারা।

একটি পৌরসভা, একটি উপজেলা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসন। সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহ্জাহান কামাল এমপি, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার, সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : অপপ্রচার বন্ধে অনলাইন নীতিমালা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
-------------------------------------------------------

এ আসনে ২০১৪ সালে সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন শাহ্জাহান কামাল। বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে এসে মন্ত্রীত্ব পান তিনি। এ পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ৪শ’ থেকে ৫শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে জানিয়ে মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছেন বলে দাবি তার।

এদিকে মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ অন্যরা। জেলা সভাপতি পিংকু বলছেন, গত ৯ বছরে যে উন্নয়ন কাজ হয়েছে এবং দলকে তারা যেভাবে সু-সংগঠিত করেছেন তাতে নির্বাচনে জয়ী হবে আওয়ামী লীগ।

এই আসনে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এম.এ সাত্তার। তিনি এলাকায় সভা-সেমিনারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

এদিকে আসন পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও দুইবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সাহাবুদ্দিন সাবু এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ্যানী বলেন, এ মুহূর্তে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। জনগণের সঙ্গে আরও বেশী সম্পৃক্ততা রয়েছে জানিয়ে বিএনপি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে জানান। যখনই নির্বাচন হবে তখনই সবার সামনে তা লক্ষণীয় থাকবে। এ সরকারের আমলের বিগত নির্বাচনগুলোতো সুষ্ঠু ভোট হয়নি অভিযোগ করে বিএনপি’র এ নেতা আরও বলেন, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম। দেশনেত্রীকে মুক্ত করার জন্য দলীয় কোন গ্রুপিং নেই দাবী করে বড় দল হিসেবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে বলে জানান এ্যানী।

এ্যানীকে ছাড় দিতে নারাজ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের পর ভোটে যাবে বিএনপি। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। জামায়াত ছাড়া নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে কোন প্রভাব পড়বে না বলে জানান সাবু। এ আসনে জাতীয় পার্টি ও জেএসডি প্রার্থীসহ অন্যান্য দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও নিচ্ছেন প্রস্তুতি। তবে তার প্রচারণা খুব একটা গতি পাচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুর-৪, কমলনগর-রামগতি

এদিকে, মেঘনা পারের জনপদ রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন। বিএনপির দুর্গ হিসাবে খ্যাত এই আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া দলটি। তবে বর্তমানের ন্যায় আগামীতেও হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এছাড়াও বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছে। তবে বড় সবকয়টি দলের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন একাধিক নেতা।

রামগতি-কমলনগর উপজেলা নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন গঠিত। নদী ভাঙন আর প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই প্রতিদিন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন তারা। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও সবকয়টি দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও ধরনা দিচ্ছেন।

ক্ষমতায় থাকলেও রামগতি ও কমলনগরে সাংগঠনিকভাবে পাকাপোক্ত নয় আওয়ামীলীগ। দীর্ঘদিন ধরে রামগতি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন হচ্ছে না। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ২৩ এপ্রিল উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি হয়েছিল। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকিরা সব রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। যারা সক্রিয় রয়েছেন তাঁরাও বিভক্ত ব্যক্তিগত কার্যালয় কেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এজন্য সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

তবে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় না থাকলেও রয়েছে কমলনগরে। সেখানেই তাঁরা মাঝে মধ্যে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে থাকেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। তারপরেও সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভোটারদের নিকট তুলে ধরছেন। আর আগামী নির্বাচনে বিজয়ের জন্য সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকেই বিজয়ের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চান তারা।

বর্তমান সংসদ সদস্য মো. অবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এলাকায় প্রায় এক হাজার ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। এর মধ্যে কিছু কাজ চলমান রয়েছে। রামগতি ও কমলনগর মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়ণ প্রকল্প, স্বাস্থসহ অবকাঠামোর উন্নয়নের সুফল এখানকার জনগণ ভোগ করছে। এতে করে আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে। এছাড়াও আগামী নির্বচনে মনোনয়ন পেলে শেখ হাসিনাকে আসনটি উপহার দিতে পারবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

বর্তমানে এখানে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই দাবি করে বলেন, বর্তমানে দল সংগঠিত ও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি শক্তিশালী।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক ও রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুজ্জাহের সাজু বলেন, ‘ব্যাপক উন্নয়নের কারণে আমাদের সরকারের জনসমর্থন বেড়েছে। এখানে আমরা সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত। আগামী নির্বাচনে এই আসনটি থেকে বিপুল ভোটে নৌকা প্রতীক জয়লাভ করবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না পুলিশের হয়রানি ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের হামলা-মামলার কারণে বলে দাবি করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা ও পুলিশি হয়রানির কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ড করতে পারেননি সেভাবে। চাপের মুখেও বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজান এলাকায় এসে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন।

বিএনপি নেতা গোলাম কাদের বলেন, এ আসনটি পূর্বের ন্যায় এখনো বিএনপির শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া যাকে মনোনয়ন দিবেন সবাই এক হয়ে তাকে নির্বাচিত করবেন।

একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও এলাকায় আসা-যাওয়া বাড়িয়েছেন। ফলে দলটির অনুসারীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে জেএসডি। কারণ এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন না করে উল্টো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, লুট ও সন্ত্রাস করার কারণে জনগণ আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

আরও পড়ুন :

এসজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ধানের শীষ প্রার্থীকে মিষ্টি খাওয়ালেন নৌকার বিজয়ী প্রার্থী
নির্বাচনে ১৯ নারী প্রার্থী বিজয়ী
ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের দোষে সাতটি আসন পেয়েছে: শেখ হাসিনা