ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ভোটের হাওয়া: ফেনী-১

খালেদার আসনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক তোড়জোড়

আজাদ মালদার, ফেনী

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:২৯ পিএম

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ফেনী-১ (পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া) আসনে সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাশী, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ছাড়াও সাধারণ মানুষের মাঝে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে।ফেনী জেলার তিনটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসন ফেনী-১। কারা প্রার্থী হতে পারেন, কোন কোন দল অংশ নেবে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে কার সম্ভাবনা বেশি এসবই এখন আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে সব জায়গাতে।

আওয়ামী লীগের দলীয় পরিমণ্ডলে প্রার্থিতা পাওয়ার জন্য চলছে জোর লবিং ও তদবির। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক, দলীয় ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে পাঁচবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে ফেনী-১ থেকে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

ফেনী জেলা বেগম জিয়ার জন্মভূমি হওয়ার কারণে ফেনীবাসীর কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বরাবরই একটু বেশি। তাইতো সবসময় নাড়ির টানে নিজের জন্মস্থান থেকে বারবার প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। কিন্তু তাকে কারাগারে রেখে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যাবে কিনা কিংবা কারাবন্দী খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কিনা এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছে দলের নেতাকর্মীরা।

এদিকে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহের বলেন, নেত্রীর কারামুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার , বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে পদত্যাগ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন, মেরুদণ্ডহীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সরিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে।

পরশুরাম বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আবু তালেব বলেন, নেত্রীর কারামুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে না।আর ফেনী-১ আসনে নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন আমরা তার পক্ষে কাজ করব।

অন্যদিকে বর্তমানে আসনটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) দখলে আছে। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী পরিবর্তন চায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা এই আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চায়। অন্যদিকে সংসদ সদস্য শিরীন আক্তার বলেন, মহাজোট থেকে আমি আবার মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবো।

এদিকে জেলা জাসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী আবদুল বারী জানান, শিরীন আক্তার ১৪ দলীয় জোটের এমপি হিসেবে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন।

এমপি গ্রামে অবকাঠামো উন্নয়নসহ মুহুরী ও মহামায়া ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলমান অবস্থায় মুহুরী ও কহুয়া নদীর বাঁধ ভাঙনের স্থায়ীভাবে নির্মাণের প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছেন। এছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক করে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে এ আসন থেকে খালেদা জিয়া একটানা এমপি নির্বাচিত হন।তবে ২০০১ সালের উপ-নির্বাচনে তিনি এ আসনটি তার ছোট ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারকে ছেড়ে দেন। পরে ২০০৮ সালেও খালেদা জিয়া এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জাসদ (ইনু) নেত্রী শিরীন আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান দলের জেলা শাখার সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার তপন। কিন্তু পরে জোটের শরিকদের আসন ছেড়ে দিলে তাকে বাদ দিয়ে জাসদের কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরীন আক্তারকে মনোনয়ন দেয়া হয়।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : অন্তর্জ্বালা মেটাতে এসব বলছেন সিনহা, মাথা ঘামাবে না সরকার: কাদের
-------------------------------------------------------

ফুলগাজীর ছয় ইউনিয়ন, পরশুরামের এক পৌরসভা ও পাঁচ ইউনিয়ন, ছাগলনাইয়ার এক পৌরসভা ও পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি গঠিত। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী, ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট শিল্পপতি ও দানবীর আলহাজ শেখ আবদুল্লাহ। জানা যায়, পেশাদারিত্বের শীর্ষ পর্যায়ে উন্নতির কারণে স্ব-পেশার লোকদের অনুরোধে ব্যবসায়ী সংগঠনে নাম লেখান তিনি। অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেলস এজেন্সি বাংলাদেশ (আটাবের) পরপর দু'বার মহাসচিবের দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন শেখ আবদুল্লাহ। এরই ধারাবাহিকতায় হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( হাব'র) সফল মহাসচিব'র দায়িত্ব পালন করেছেন দু'বার। একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবে শেখ আবদুল্লাহ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হন। তিনি ঢাকাস্থ ফেনীবাসীর ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ফেনী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকাস্থ ফুলগাজী সমিতিরও সভাপতি'র দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানান, আলহাজ শেখ আবদুল্লা'র উছিলায় সক্রিয় আছে বহু এতিমখানা, মাদরাসা ও মসজিদ। ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য শেখ আবদুল্লাহ কর্মী বান্ধব ব্যক্তি হিসাবে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ আবদুল্লাহ। শেখ আবদুল্লাহ আরও বলেন, আমাদের নেতা আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিম প্রার্থী হলে আমি তার পক্ষে কাজ করবো।

আওয়ামী লীগের সূত্র মতে, জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও জাসদ (ইনুর) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তারের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের দূরত্ব রয়েছে। ছাগলনাইয়ায় দলের একাধিক অনুষ্ঠানে- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, এমপি আমাদের দলের কারও সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেন না। তিনি আমাদের কোনও খোঁজখবরও নেন না। এসব সমাবেশে দলের নেতারা এবার শিরীন আক্তারের পরিবর্তে মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান। ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুদ্দিন ভুলু মজুমদার বলেন, আমাদের দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্থানীয় এমপির অসহযোগিতার কথা তুলে ধরেছেন বলে সোহেল চৌধুরী জানান । তিনি আরও বলেন, সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে একদিকে যেমন মানুষের মহাজোটের প্রতি আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে সরকারেরও সুনাম বাড়বে। তিনি এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি করেন।

সোহেল বলেন, ফেনীর আওয়ামী লীগের অভিভাবক আলাউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিম ও আধুনিক ফেনীর রূপকার নিজাম উদ্দিন হাজারীর নেতৃত্বে যাকে ফেনী-১ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে তিনি তার পক্ষে কাজ করবেন। সেক্ষেত্রে আলাউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিমের পর তিনি নিজেকে প্রার্থী হিসেবে যোগ্য মনে করেন। তবে এ আসনে যদি মহাজোট থেকেও প্রার্থী দেয়া হয় তাহলেও দলীয় নির্দেশে তার পক্ষে কাজ করবেন তিনি। তবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ আসনে দলীয় প্রার্থী চায়।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ফেনী আওয়ামী লীগে প্রভাবশালী ভূমিকায় আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিম। দলের একটি অংশ চায় তিনি এই আসনে প্রার্থী হন। তবে তিনি নির্বাচন করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোথাও কিছু বলেননি। জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা নাজমা আক্তার প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগী কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমানে ট্রুথ পার্টির কেন্দ্রীয় মহাসচিব এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরীও এই আসনে নির্বাচন করতে চান বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন :

জেবি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
ভোটের ফলাফল যেভাবে জানলেন খালেদা
খালেদা জিয়ার এলাকায় জয়ী জাসদের শিরীন আখতার
ভোট দিতে পারছেন না যেসব কারাবন্দি প্রার্থী
ক্ষমতায় গেলে জামায়াতকে সরকারে রাখা হবে না: ফখরুল