ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটের হাওয়া- ফেনী- ২ ও ৩

আওয়ামী লীগ চাঙ্গা, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থেকে নীরব বিএনপি

আজাদ মালদার, ফেনী

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০৫ পিএম

ফেনী ২ ও ৩ আসনে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে ছুটছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা। তারা বলছেন, এলাকায় নিজ জনপ্রিয়তা আর যোগ্যতা দিয়েই দলকে আশ্বস্ত করতে চান। অন্যদিকে, নিজেদের লাভ-ক্ষতি নিয়ে চুল-চেরা বিশ্লেষণ করছেন ভোটাররাও।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে দেশের রাজনীতির হাওয়া উত্তপ্ত। এ বছরের শেষের দিকে যেহেতু নির্বাচন হওয়ায় কথা রয়েছে তাই মত পার্থক্য থাকার পরেও ফেনী-২ সদর আসনে সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন।

জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করলেও দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি নীরব। তবে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের নিশ্চয়তা পেলেই প্রচার-প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবে দলটি।

এদিকে, আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সূত্র মতে, টানা তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় আসতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে দলটি। তারা প্রচারণায় বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ ও বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনকে প্রচারণার অংশ হিসেবে নেবে।

বর্তমানে ফেনী-২ সদর আসনে সংসদ সদস্য হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। একসময় বিএনপির ভিপি জয়নাল আর আওয়ামী লীগের জয়নাল হাজারীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল সমানে সমান। বর্তমানে তাদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হলেন ফেনী তরুণ সমাজের অহংকার এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী।

১৯৯৬ সালে জাসদ থেকে ফেনী জেলা বিএনপিতে যোগ দেন ফেনী সরকারি কলেজের ভিপি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। এর আগে ১৯৮৮ সালে জাসদ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তিনি।

২০০১ সালের নির্বাচনেও সদর আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়নাল হাজারীকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি। জয়ের ধারা অব্যাহত রাখেন ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও। এসময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রেক্ষাপট বদলে যায় ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে।

ফেনী সদর আসনে আওয়ামী লীগ থেকে এবার এককভাবে নিজাম উদ্দিন হাজারী ও বিএনপি থেকে জয়নাল আবেদিন (ভিপি জয়নাল), সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি রেহানা আক্তার রানু, ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু প্রার্থী হবেন বলে জানা যায়।

এদিকে জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব খন্দকার নজরুল ইসলামকে দল থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে দলীয় একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগে নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিপরীতে হয়তো প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভার পত্রিকার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী নমিনেশন পেতে পারেন। আর বিএনপিতে ভিপি জয়নালের বিপরীতে মজনুকে শক্ত প্রার্থী হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

ফেনী-২ সদর নির্বাচনী এলাকাটি এক পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৪ জন। এই আসনে আওয়ামী লীগের মরহুম খাজা আহাম্মদ ছাড়াও জয়নাল হাজারী তিনবার, অধ্যাপক ভিপি জয়নাল তিনবার, সর্বশেষ বর্তমান এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী একবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আওয়ামী লীগ ফেনী জেলার সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি ও আওয়ামী লীগ থেকে তিনবার নির্বাচিত এমপি জয়নাল হাজারী মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ব্যাপক তৎপর রয়েছে বলে জানা যায়।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী আশাবাদী তাকে দল থেকে এবারও মনোনয়ন দেবে। তিনি আশা করেন নেত্রী এবার তাকে মনোনয়ন দিলে নৌকা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন হাজারী জানান, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দীন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের সমর্থন রয়েছে বর্তমান ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রতি। ফেনীকে সন্ত্রাসমুক্ত করার ক্ষেত্রে নিজাম হাজারীর বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

জানা যায়, নিজাম হাজারী নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। ফেনীর সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ফেনীর মানুষ বর্তমানে শান্তিতে আছে তাই তারা আগামীতে এমপি হিসেবে নিজাম উদ্দিন হাজারীকে দেখতে চায়।

নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, তা আপনারা চোখের সামনে দেখছেন। ফেনীতে দেশের প্রথম ছয় লেনের ফ্লাইওভার হয়েছে। সোনাগাজী ও মিরসরাইতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে।

সরেজমিনে খবর নিয়ে জানা যায়, দলের স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে নিজাম হাজারীর যে জনপ্রিয়তা তাতে তার কোনও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হৃদয়ে লালন করে ফেনীর গণমানুষের নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারী সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজাম উদ্দিন হাজারীর কোনও বিকল্প নেই।

ফেনী জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজি বলেন, ফেনী জেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলো আজ নিজাম উদ্দিন হাজারীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। গণমানুষের নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি হওয়ার পর ফেনী এখন শান্তির জনপদে রূপান্তরিত হয়েছে।

এদিকে এ আসনে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে থাকার ব্যাপারে আশা করছে স্থানীয় বিএনপির নেতারা। আসনটি পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছেন দলের নেতারা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ভিপি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি প্রতিনিয়ত বেগম জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে জেলাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিবাদ, মিছিল, মিটিং করে যাচ্ছেন।

অধ্যাপক ভিপি জয়নাল বলেন, বিএনপি যদি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। তাহলে নেত্রী দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দিবেন আমি তার পক্ষে কাজ করব।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি রেহানা আক্তার রানু।

রফিকুল আলম মজনু বলেন, আমি ফেনীর সন্তান। যদিও ঢাকায় থাকি দীর্ঘদিন ধরে। আমি এলাকার সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে দলীয় কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছি। আমি আশা করি দল থেকে চেয়ারপারসন বেগম জিয়া আমাকে মনোনয়ন দিবেন।

ফেনী জেলা যুবদলের সভাপতি গাজী মানিক ফেনী-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি সবসময় দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন বলে জানা যায়। ক্ষমতাসীন দলের মিথ্যা মামলায় তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে। তিনিও মনোনয়নের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে মহাজোটের আরেক শরিক দল জাতীয় পার্টি থেকে এরই মধ্যে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মাঠে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার নজরুল ইসলাম। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

ফেনী-৩

ফেনী-৩ নির্বাচনী এলাকাটি দাগনভূঞা উপজেলা ও সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে সোনাগাজীতে এক লাখ ৪৩ হাজার ১৬ জন ও দাগনভূঞায় এক লাখ ৩৯ হাজার ৬২ জন ভোটার রয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় পরিমণ্ডলে প্রার্থিতা পাওয়ার জন্য চলছে জোর লবিং ও তদবির। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় আলোচনায় থাকতে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

মনোনয়ন দৌড়ে আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি রহিম উল্লাহ, গেল নির্বাচনে বিএনপির কাছে পরাজিত যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীসহ বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। আর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, ফেনী জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল কবির রতন ও রফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন এগিয়ে আছেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রচার ও প্রকাশনা উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার বর্তমান মাঠে রয়েছেন। অপরদিকে জাসদ (রব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনও সম্ভব্য প্রার্থী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশও এ আসন থেকে তাদের প্রার্থী দিবে বলে জেলা কমিটির সভাপতি গোলাম সরওয়ার জানান।

আরও পরুন :

জেবি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
ধানের শীষ প্রার্থীকে মিষ্টি খাওয়ালেন নৌকার বিজয়ী প্রার্থী