ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ভোটের হাওয়া: পঞ্চগড়-১ ও ২

আওয়ামী লীগে প্রার্থী একাধিক, বিএনপিতে কোন্দল

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৫৪ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র পঞ্চগড়-১ ও ২ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর তৎপরতায় সরব হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। বিএনপিতে নিজেদের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জেলা কমিটি না থাকায় দলীয় কর্মসূচিগুলো আলাদাভাবে পালন করছে দুটি পক্ষ।

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা গঠিত পঞ্চগড়-১ আসন। এর ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৭৮ হাজার ৮১৬ জন। স্বাধীনতার পর বেশিরভাগ সময়ই এই আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন মজাহারুল হক প্রধান। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু সুযোগ নিতে পারেনি জাতীয় পার্টি। কারণ ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয় জাসদের নাজমুল হক প্রধান। যিনি এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। আর জাতীয় পার্টি থেকে এবারও প্রার্থী হবেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক।

নাজমুল হক প্রধান বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ মূলোৎপাটন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ গড়ার লক্ষেই মূলত প্রথমে ১৪ দলীয় জোট গঠন হয়। আমরা সেই ১৪ দলে এখনো আছি। আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বাংলাদেশ জাসদের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেটি এখন নির্বাচন কমিশনে যাচাই বাছাই চলছে। আগামী নির্বাচনও জোটবদ্ধভাবেই হবে আশা করি।
তিনি জানান, মহাজোটের শরিক হিসেবে এবং বর্তমান সাংসদ হিসেবে বাংলাদেশ জাসদের হয়ে এই আসনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনিত করবেন বলে আশা করি।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চগড়-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু সালেক বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী হয়েও আমি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার প্রতিহিংসামূলক আচরণে কারণে জাসদের মশাল প্রতীকের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হই। জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে আমি মনোনয়ন পাবো আশা করি। আর মহাজোটে নির্বাচন করলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মহোদয়ের পছন্দের যে আসনগুলি রয়েছে তার মধ্যে আমি অন্যতম। এবার জোট অথবা দলীয় মনোনয়ন পেলে এই আসনে আমি নির্বাচিত হবো।

এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের জনপ্রেক্ষিত কর্মকর্তা নাইমুজ্জামান মুক্তাও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর পঞ্চগড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমি সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যানের পর জনগণের ভোটে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। আমি দলীয় নেতাকর্মীদের ভোটে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পঞ্চগড়-১ আসনে আমি নবীন ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবো বলে আশা করি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিলে সাধারণ মানুষের সমর্থনে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবো।

আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী নাইমুজ্জামান মুক্তা বলেন, তরুণ প্রজন্ম এবং স্থানীয় গণমানুষের ভালোবাসাই আমার ভরসা। আওয়ামী লীগের একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনোনয়ন চাইবো। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা বাস্তবায়নে সারাদেশে যেমন কাজ করেছি, নিজের জেলাতেও এ নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এছাড়া কে মনোনয়ন পেল না পেল সেটা বড় কথা নয় বড় কথা হলো আওয়ামী লীগের তথা নৌকার বিজয়। আমরা পঞ্চগড়-১ আসন থেকেই নৌকার বিজয় আনতে চাই।

পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আমি পঞ্চগড়-১ আসন থেকে মনোনয়ন চাইব। দলীয় কোন্দলের ব্যাপারে তিনি বলেন, আসলে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার এবং তার ছেলের মধ্যে কোন্দলের কারণেই দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর থেকে পঞ্চগড়ে জেলা কমিটি নেই। আমি পঞ্চগড় পৌরসভার চার থেকে পাঁচ বারের মেয়র। দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে জড়িত সেক্ষেত্রে আমি কি জেলা বিএনপির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদ চাইতে পারি না কি ? বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে এই আসনে আমি বিএনপির মনোনয়নের দাবীদার।

এদিকে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অনুসারী জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার ও ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের মধ্যেই যেকোনো একজন নিশ্চিত ভাবে মনোনয়ন পাবেন। তবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করুক এটাই পঞ্চগড়ের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা চায়। কোনও কারণে তিনি যদি নির্বাচন না করেন তাহলে তার ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির মনোনয়ন নিয়ে আসবেন। ইতোমধ্যে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করছেন। কেন্দ্র থেকে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হলে স্থানীয়ভাবে সব কোন্দল মিটে যাবে।

অপরদিকে নির্বাচনী আমেজ বইছে বোদা-দেবীগঞ্জ নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-২ আসনেও। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম সুজন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার শাহজাহান মণ্ডল ও দেবীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতী।

বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং দুই বারের সাংসদ হিসেবে অবশ্যই আশাবাদী যে আমি মনোনয়ন পাবো। যেহেতু আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে এবং দলে গণতান্ত্রিক চর্চা থাকায় অনেকেই মনোনয়ন চাইতেই পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং সর্বোপরি দলীয় সভানেত্রী যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটাই চূড়ান্ত হবে।

এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ ও দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হামিদুর রহমানের নাম। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা’র সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এই আসনটি মূলত বিএনপির ছিল। ২০০৮ সালে এটি আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ নেয় তাহলে আমি মনে করি আমাদের সমস্ত বিভেদ ভুলে সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আমি এই আসনটি বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারবো।
তিনি বলেন, বিএনপি বৃহত্তর দল এখানে অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে পারেন। তবে আমি মনে করি নির্বাচন আসলে আমাদের সকল বিভেদ দূর হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন :

এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
ধানের শীষ প্রার্থীকে মিষ্টি খাওয়ালেন নৌকার বিজয়ী প্রার্থী