
২০২৩ সালের মধ্যে দেশে হাঁস-মুরগির সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষের প্রয়োজন মেটানো, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী মেয়াদের জন্য আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নির্বাচনী ইশতেহার থেকে জানা যায়, বিপুল জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিসম্পদ খাতে জড়িত আছে। আওয়ামী লীগ সরকার গত ১০ বছরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী মেয়াদেও সরকার এ খাতে বড় অবদান রাখতে চায়।
১০ বছরে সরকারের সাফল্য ও অর্জনের মধ্যে রয়েছে:
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গবাদি প্রাণি ও হাঁস-মুরগির রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা উৎপাদন, বিতরণ ও প্রয়োগ করে আসছে।
২০১০-১১ অর্থবছরে দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন যথাক্রমে ২৯.৫০ লাখ মেট্রিক টন, ১৯.৯০ লাখ মেট্রিক টন ও ৬০৭.৮৫ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যথাক্রমে ৯৪.০৬ লাখ মেট্রিক টন, ৭২.৬০ লাখ মেট্রিক টন ও ১,৫৫২.০০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।
মৎস্য খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক অগ্রসর হয়েছে। বিগত ৯ বছরে মাছের উৎপাদন ২৭.০১ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪১.৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।
হাঁস-মুরগি, গাভী পালন ও দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ ও কর মওকুফ সুবিধা দিয়ে এসবের লাভজনক বাণিজ্যিক প্রসারে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী ইশতেহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের মধ্যে হাঁস-মুরগির সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রাণী খাদ্য, গবাদি পশুর ঔষধপত্র ও চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস ও সহজপ্রাপ্য করার ওপর জোর দেয়া হবে। সেই সঙ্গে এগুলোর জন্য যাতে ভালো দাম পাওয়া যায়, তার জন্য বাজার-ব্যবস্থা ও বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার আরও উন্নয়ন করা হবে।
ছোট ও মাঝারি আকারের দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠা এবং মৎস্য চাষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনমতো ভর্তুকি, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও নীতি-সহায়তা বৃদ্ধি করে তা অব্যাহত রাখা হবে।
পুকুরে মাছ চাষ ও যেখানে সব ধানক্ষেতে মাছ চাষের আরও প্রসারের জন্য উন্নত জাতের পোনা, খাবার, রোগব্যাধির চিকিৎসা, পুঁজিসংস্থান ও সুলভে বিদ্যুৎ সংযোগসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে।
মৎস্য খাতের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গবেষণার ব্যাপক মানোন্নয়ন, কৃষকদের সম্পৃক্ত করে মাছ চাষের ব্যবস্থাপনাগত উন্নতি সাধন ও ধৃত মাছের অপচয় ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সার্বিক কৃষি খাতে প্রাণিসম্পদ উপখাতের অবদান ১৪.৩১ শতাংশ। এটাকে আরও বৃদ্ধি করা হবে।
এসআর




