ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

মাশরাফির সঙ্গে নড়াইলের পথে পথে

মেহেদী হাসান, নড়াইল থেকে

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৫১ পিএম

অচেনা পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয় সেটার দৃষ্টান্ত উদাহরণ হতে পারেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ক্রিকেটের কল্যাণে বহু দেশ ঘুরেছেন, বহু দেশের ভৌগলিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে খেলতে হয়েছে দেশের জন্য।

এবারের পরিবেশটা একেবারেই ভিন্ন! ক্রিকেটের বাইশ গজ এখনও ছাড়েননি তিনি কিন্তু, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে নেমেছেন রাজনীতির মাঠে। এই মাঠের পরিবেশটা তো একেবারেই নতুন তার জন্য।

খেলার মাঠ আর রাজনীতির মাঠ, দুটোর সঙ্গেই মাঠ জুড়ে দেয়া হলেও মাশরাফির কাছে রাজনীতির মাঠ তো একদমই অচেনা! এই মাঠের উইকেটে কখন বাউন্স দিতে হবে কিংবা স্লোয়ার বল ছাড়তে হবে এ নিয়ে তো কখনোই অনুশীলন করেননি মাশরাফি।

তবুও দিব্যি মানিয়ে নিচ্ছেন নিজেকে প্রতিটা মুহূর্তে। কি আশ্চর্য! এ যেন যুগ যুগ ধরে অনুশীলন করে তবেই নেমেছেন রাজনীতিতে।

সকাল ১০টায় বের হচ্ছেন বাসা থেকে, ফিরছেন রাত ১টায়। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে মিটিং তো আছেই। তা শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাতের ঘুম শেষ।

নড়াইল-২ আসনের বিভিন্ন ইউনিয়নের পথে পথে করছেন পথ-সভা, তাতে দুপুরের খাবারটাও খেতে পারছেন না ঠিকঠাক।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে নিজের নির্বাচনী এলাকায় আসতে একটু দেরিই হয়ে গেছে। দেরি হবার কারণটা ইনজুরি। সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচেই পড়েছিলেন হ্যামষ্ট্রিং ইনজুরিতে। যার জন্য দৌড়াতে হয়েছে ডাক্তারের কাছে।

২২ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে রওয়ানা করেন নড়াইলের উদ্দেশে। আসার পথে মাওয়া ফেরী ঘাট থেকেই শুরু হয় নির্বাচনী কার্যক্রম। এরপর কালনা ঘাট থেকে শুরু হয় পথ-সভা।

কালনা থেকে নড়াইল সদর। রাস্তার দু’পাশে উৎসুক জনতার ভিড়। প্রিয় নেতাকে একবার দেখার অপেক্ষা। মাশরাফির গাড়ির বহরে সব মিলে গাড়ি ছিল সাতটা। কোন গাড়িতে আছেন মাশরাফি?

রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ প্রতিটা গাড়িতেই উঁকি দিয়ে দেখছেন মাশরাফি কোন গাড়িতে আছেন?

এদিন পাঁচটা পথ-সভা শেষে জনতার ঢল ঠেলে উঠলেন মামার বাড়িতে। এখানেও নিস্তার মিলল না। এসেই বের হতে হলো পরের দিনের কর্মসূচী ঠিক করার কাজে।

চার দিনের কর্মসূচীতে মোট ৯২টি পথ-সভা। গোটা ৬০টি মোটরসাইকেল নিয়ে মাশরাফি বের হলেন অচেনা পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে।

গত ১৭ বছর ধরে যিনি সামলেছেন বাইশ গজ আর ক্রিকেটের প্রেস-কনফারেন্স, তাকে আজ থেকে কথা বলতে হবে হাজারো জনতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে!

শুরুটা নিজের জন্মস্থান মাইজপাড়া ইউনিয়ন দিয়ে। দুপুরের নিজের চাচার বাসায় খেলেন, খেয়েই মাইজপাড়া স্কুল মাঠে চলে গেলেন জনসভায়।

মাঠে অপেক্ষায় থাকা হাজারো জনতার সামনে এদিনও নিজেকে উপস্থাপন করলেন ‘ক্রিকেটার মাশরাফি’ পরিচয়ে।

‘আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই ভাই। এই মাঠে আমি কত খেলতে এসেছি। জাতীয় দলে খেলার জন্য অনেকদিন এখানে আর আসা হয়নি। কিন্তু সেসব স্মৃতি আমি কখনোই ভুলিনি। এবার আমি আপনাদের কাছে এসেছি আপনাদের একজন হয়ে সমৃদ্ধ নড়াইল গড়তে যদি আপনারা চান। প্রধানমন্ত্রী আমাকে আপনাদের সেবা করার জন্য সুযোগ দিয়েছেন, যার জন্য নৌকা প্রতীক দিয়ে পাঠিয়েছেন আপনাদের কাছে। আপনার সবাই আমাকে ভোট দিয়ে সেই সুযোগটা করে দিবেন। জয় বাংলা’

মাশরাফির নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন থেকে শেষ দিন মিলে মোট চারদিন তার মোটরসাইকেলের বহরে থাকার সুযোগ হয়েছে। তাতে একটা ব্যাপার স্পষ্ট, মাশরাফি কাউকে স্বপ্ন দেখাননি। বলেছেন, আমাকে যদি আপনারা সুযোগ করে দেন তাহলে আমি আমার জান দিয়ে হলেও চেষ্টা করবো আপনাদের জন্য কিছু করার।

নড়াইলের মানুষ যেন চাঁদ হাতে পেয়েছে। পথ-সভা যেন প্রাণের সভা। রাস্তার দু’পাশে মানুষের অপেক্ষা যেন তারই প্রতিফলন। কেউ ফুলের মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন প্রিয় মানুষটিকে পরিয়ে দিতে। কেউবা কাগজ-কলম হাতে দাঁড়িয়ে থামিয়ে দিয়েছেন মোটর-সাইকেলের বহর অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য।

সে কি উন্মাদনা পথে-পথে। টিভির পর্দায় দেখা মাশরাফিকে একবার দেখার, ছুঁয়ে দেখার প্রত্যাশায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোকেও হতাশ করেননি মাশরাফি।

এমনও দেখা গেছে, মাশরাফিকে জড়িয়ে ধরে সত্তরোর্ধ বৃদ্ধাও কেঁদে ফেলেছেন। কেউ ছুটে এসেছেন পিঠা নিয়ে। মাশরাফিও সেটি না খেয়ে থাকেননি।

জনতার কাছে মাশরাফি বিন মুর্তজা ছুটে গেছেন সাধারণ একজন হয়ে। পাঞ্জাবী, ট্রাউজার, স্যান্ডেল আর একটা পাতলা চাদর তার নিত্য পোষাক।

জনতার মঞ্চে দাঁড়িয়েও তিনি নির্ভার। মন খুলে কথা বলছেন মাইক হাতে তবে রাজনীতির কথা নয়। শুনছেন অবহেলিত নড়াইলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথাগুলো। ঘুরে দেখেছেন নদী ভাঙনে খতিগ্রস্থ এলাকা।

এতকিছুর ভিড়েও মাশরাফি ভুলে যাননি প্রতিপক্ষের কথা। নিজের সঙ্গে থাকা সবাইকে সাবধান করে দিয়েছেন, আমার প্রতিপক্ষ দল যেন কোনও কারণে হেয় না হয়। প্রতিটা ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যেও একই কথা, তারাও কারো ভাই-বন্ধু। তাদের দিকে খেয়াল রাখবেন যেন, তাদের কোনও ক্ষতি না হয়।

এমআর/

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ধানের শীষ প্রার্থীকে মিষ্টি খাওয়ালেন নৌকার বিজয়ী প্রার্থী
নির্বাচনে ১৯ নারী প্রার্থী বিজয়ী
ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের দোষে সাতটি আসন পেয়েছে: শেখ হাসিনা