
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালীর চারটি নির্বাচনী আসনে এবার ভোটের ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে তরুণ ভোটাররা। এ চারটি আসনে ১১ লাখ ৯২ হাজার ৫৪৭ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮১ জন ভোটার হচ্ছে তরুণ ভোটার বা তারা এবারই প্রথম ভোট দিবেন। তাই এই তরুণ ভোটাররা যেদিকে ভোট দিবেন, মূলত সেই দলের বা জোটের বিজয় নিশ্চিত হবে। তবে, এসব তরুণ ভোটাররা যাচ্ছেন যে দল সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলসহ সুষ্ঠু সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে পারবে, সেই দল বা প্রার্থী বা জোটকে তারা ভোট দিবে।
সরেজমিনে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তারা এ প্রতিবেদককে এমনটাই আভাস দিয়েছেন।
পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি) আসনে ৫৯ হাজার ১৫০ জন, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ৩২ জাহার ৯০৯ জন, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে ৪৬ হাজার ৬৬১ জন এবং পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে ২৯ হাজার ৭৬১ জন ভোটার রয়েছেন। এরা সবাই তরুণ ভোটার এবং তারা জীবনে এই প্রথম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের মূল্যবান ভোট প্রয়োগ করবেন।
এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) এর ব্যবসায় ও প্রশাসন অনুষদের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী রেজওয়ানা হিমেল বলেন, আমার জীবনে এই প্রথম ভোট দিবো। আমাদের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ, প্রতিজ্ঞায় বাংলাদেশ। তাই যে দল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখবে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ নির্মূল, দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে নিতে এবং বিশ্বের দরবারে এ দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে পারবে, সেই দলকেই আমার জীবনের প্রথম ভোটটি দিবো।
একই অনুষদের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. মহসিন বলেন, এবারই আমি প্রথম ভোট দিবো। যে দল সন্ত্রাস নির্মূল করে শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি এবং সুষ্ঠু সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে, সেই দল বা জোটকেই আমার প্রথম ভোটটি দিবো।
কৃষি অনুষদের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার প্রথম ভোটটি তাদেরকেই দিবো, যারা জনগণের বাক-স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে দেবে এবং মানুষকে শান্তির পথে রাখবেন।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে মহাজোট মনোনীত আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী এসএম শাহজাদা সাজুর সঙ্গে। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে এবং এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের কাছে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখতে হলে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও তরুণ সমাজকে ডিজিটালিস্টের আওতায় নেয়ার জন্য বর্তমান সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে তরুণরা তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারবেন।
এ ব্যাপারে প্রার্থী পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে মনোনীত বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এই নির্বাচনে তরুণদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটছে না। বরং এ নির্বাচনের ধরণ দেখে তরুণরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কারণ এ ধরণের নির্বাচন তরুণ চায় না। তরুণরা চায় বাক-স্বাধীনতা ও জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, তারা চায় সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন। কিন্তু এখন যে অবস্থা চলছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামীতে তরুণরা বিদেশমুখি হয়ে পড়বেন। তাই আমাদের সবার উচিৎ এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা। তাতে দেশেরও মঙ্গল এবং আমাদের সবারও মঙ্গল।
আরও পড়ুন :
এসএস




