ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোট বর্জন করলেন যারা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:০১ পিএম

সারাদেশে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বেশ কয়েকজন প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। আরটিভি অনলাইনের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ঢাকা-১: ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম ভোট জালিয়াতির অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন। রোববার দুপুর ১২টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার কামারখোলায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
এসময় সালমা ইসলাম তার কর্মীদের ওপর হামলা, পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, জাল ভোট প্রদানসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

ঢাকা-১৭: ভোট বর্জন করেছেন ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আন্দালিভ রহমান পার্থ। পোলিং এজেন্টদের মারধর, ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, কোনো কোনো কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন তিনি। রোববার দুপুরে গণমাধ্যমকে ভোট বর্জনের কথা জানান তিনি। পার্থ বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভোট বর্জন করছি। ৬০-৭০ কেন্দ্র ঘুরেছেন দাবি করে বলেন, সব কেন্দ্রেই আমার এজেন্ট ও সমর্থক ও ভোটারদের বাধা দেয়া হচ্ছে। এটাই প্রমাণ করে দলীয় সরকারে অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। তবে তিনি সকালে ভোট দিয়েছেন বলে জানান। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক)।

চট্টগ্রাম-১৫: চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) সংসদীয় আসনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের মনোনীত ধানের শীষের কারাবন্দি প্রার্থী আ.ন.ম শামসুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জাফর সাদেক। দুপুর একটার কিছুটা আগে তিনি ভোট বর্জন করে নেতাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশাল আয়োজন করে আজ ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। রাতেই মহাজোটের প্রার্থী ড. আবু রেজা নদভীর ক্যাডার বাহিনী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সত্তর শতাংশ ভোট নিয়ে নিয়েছে। সকাল থেকে সাধারণ ভোটারদেরকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি সকালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী এজেন্টরা কেন্দ্রে গেলেও তাদেরকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সকালে কেন্দ্রেগুলোতে লোক দেখানো কিছু ভোটারকে লাইনে দাঁড় করিয়ে পরে বের করে দেয়া হয়। বেলা ১০টার মধ্যে এ আসনের সবগুলো কেন্দ্রে শতভাগ ভোট হয়ে গেছে বলে প্রিজাইডিং অফিসাররা জানান।
এ উপজেলায় সাধারণ কোনো ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে তার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি। ভোট হলে শেষ পর্যন্ত থাকতাম। কিন্তু ভোটতো হয়নি, মহা আয়োজন করে ভোট ডাকাতির মহোৎসব হয়েছে। এখন মাঠে থাকার আর প্রয়োজন মনে করছি না।

খুলনা ১, ৫, ৬: খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে ভোট বর্জন করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি কেন্দ্রীয় জামায়াতের নায়েবে আমির।

রোববার সকাল ১০টায় তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটগ্রহণ শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। এমনকি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশও ভোটারদের মুখ চিনে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন।এ অবস্থায় নির্বাচন করা অসম্ভব।

প্রসঙ্গত, খুলনা-৫ আসনে গোলাম পরওয়ার ছাড়াও আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (নৌকা), ইসলামী আন্দোলনের শেখ মুজিবুর রহমান (হাতপাখা), সিপিবির চিত্তরঞ্জন গোলদার (কাস্তে) ও জাতীয় পার্টির শহীদ আলম (লাঙল) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনের ১৩৩টি ভোট কেন্দ্রের ৬৯৯টি ভোট কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

খুলনা-১ আসনে ভোট বর্জন করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সুনীল শুভ রায়। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, এরকম কলঙ্কিত ভোট আমি কোনও দিন দেখিনি। সকাল থেকেই আমার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। কাউকে গাছের সঙ্গে বেঁধেও রাখা হয়েছে। যারা ভোট দিতে যাচ্ছেন তাদের ব্যালট পেপার টেবিলের ওপর রেখে নৌকায় সিল দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এখানে কোনও সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে না। আমি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি।

এদিকে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইতগাছা) আসনের ধানের শীষ প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বলেন, ‘আমাদের লোকদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশকে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। তাই ভোট বর্জন করলাম।

বাগেরহাট ৩ ও ৪: বাগেরহাট ৩ ও ৪ আসনের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত দুই প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। বেলা ১২টার দিকে এ ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তারা। প্রার্থীরা হলেন— বাগেরহাট-৩ আসনের অ্যাডভোকেট আব্দুর ওয়াদুদ ও বাগেরহাট-৪ আসনের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম তাহের।
সংবাদ সম্মেলনে দুই প্রার্থী দাবি করেন, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব ও জালিয়াতির কারণে তারা ভোট বর্জন করেছেন।

কুমিল্লা-১১: কুমিল্লা-১১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ভোট বর্জন করেছেন। তার নির্বাচন পরিচালক আব্দুস সাত্তার এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা রাতের বেলা ভোট দিয়ে দেওয়ায় সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ভোট বর্জন করেছেন|

ফরিদপুর-২: ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–শালথা) আসনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
শামা ওবায়েদ ইসলাম অভিযোগ করেন, এই আসনের ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রে গতকাল রাতেই ভোট দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে যেসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সেসব কেন্দ্রে বিএনপির কোনো পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে নিজেও ভোট দেননি শামা ওবায়েদ ইসলাম।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী): কক্সবাজার-২ (মহেশখালী)কেন্দ্র দখল, এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী) আসনের ২০ দলীয় জোটের ধানের শীষের প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদের পক্ষে তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জাবের হোসেন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। জামায়াতের এ প্রার্থী বর্তমানে কারাগারে আছেন।

পাবনা-৫: পাবনা-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেন ভোট বর্জন করেছেন। প্রার্থী নিজেই সাংবাদিকদের ফোন করে এই তথ্য জানান।
ভোট জালিয়াতি, তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনি ভোট বর্জন করেছেন বলে জানান।

বাগেরহাট-৩: বাগেরহাট-৩ ( মংলা ও রামপাল) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং জামায়াত জেলা নায়েবে আমির মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধিকে ফোন করে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ‘আমি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা করলাম। দুপুর দেড়টায় আমি সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবো।’ এসময় তিনি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।

সাতক্ষীরা-৪: সাতক্ষীরা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের গাজী নজরুল ইসলাম ভোট বর্জন করেছেন। তিনি কারাবন্দি থাকায় তার পক্ষে এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী অধ্যাপক আবদুল জলিল। তিনি বলেন, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোটে অনিয়ম, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, জালভোট, ভোটারদের হুমকি-ধমকি, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধাদানসহ নানা কারণে ভোট বর্জন করেছেন। এ বিষয়ে জানতে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান জানান, গাজী নজরুলের পক্ষে এমন কোনো ঘোষণা সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। এ খবর মুখে শুনেছি, তবে কেউ এখন পর্যন্ত লিখিতভাবে জানাননি।

সিরাজগঞ্জ-১, ২: সিরাজগঞ্জ ১ ও ২ আসনের বিএপি প্রার্থী রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা ও ২ আসনের জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি প্রার্থী রোমানা মাহমুদ ভোট প্রত্যাখান করেছেন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা বর্জনের এ ঘোষণা দেন।

তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ বিএনপি মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক হারুন অর রশিদ খান হাসান।

সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী রোমানার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, নেতা-কর্মীদের মারপিট ও এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগে এ দুই প্রার্থী ভোট প্রত্যাখান করেছেন।

জেবি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
ধানের শীষ প্রার্থীকে মিষ্টি খাওয়ালেন নৌকার বিজয়ী প্রার্থী