
বিএনপির কোনো শাসনামলেই সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। এমন দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের সময় বরাবরই বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন ছিল। এমনকি বাবরি মসজিদ সংকট ও গুজরাট-দাঙ্গার সময় এবং খালেদা জিয়ার আমলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অটুট বাঁধনে কোনো চিড় ধরেনি। এককথায় বলতে গেলে বিএনপির সরকারের সময় সংখ্যালঘুদের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষিত হয়েছে। কেউ নির্যাতনের শিকার হয়ে কোথাও যায়নি।
তিনি বলেন, আর ঠিক বিপরীত হলো আওয়ামী লীগ। সংখ্যালঘুদের ওপর আওয়ামী লীগ আমলে যত নিপীড়ন হয়েছে, তা আর কখনও হয়নি। আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের লেখাতেই তার ভুরিভুরি প্রমাণ রয়েছে। এখনও প্রায় প্রতিদিনই সংবাদপত্রে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর দখল, উচ্ছেদ বা মূর্তি ভাঙার যত খবর প্রকাশিত হচ্ছে সব ঘটাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীরা। সবকিছু জেনে দেখেও মিথ্যাপ্রচারের ফেরিওয়ালা সত্যভ্রষ্ট ওবায়দুল কাদের সাহেবদের ডাহা মিথ্যা বলতে লজ্জা করে না।
রিজভী আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমার যেমন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে, একইভাবে নাগরিকত্ব আইন এবং নাগরিকপঞ্জি জটিলতায় সংখ্যালঘু ভারতীয় মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন ঘোষণা করে জোর করে বাংলাদেশে পুশইন করার প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এনআরসি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার তাদের ব্যর্থ পররাষ্ট্রনীতির প্রমাণ হিসেবে যেভাবে নির্বিকার রয়েছে, তা স্পষ্টতই আমাদের জনগণ, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান। এখন আবার বিজেপির সঙ্গে একমত হয়েছে বাংলাদেশের দখলদার সরকার। এরা গদির ক্ষার জন্যই প্রয়োজনে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ বিসর্জন ও দেশবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রস্তুত থাকে।
এসজে




