ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

‘জনগণ শান্তিতে ঘুমাতে না পারলে সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন নেই’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের নাগরিকরা যদি নিজেদের জানমালের নিরাপত্তায় শান্তিতে ঘুমাতে না পারেন তবে সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মধুবাগ মাঠে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে দেশ পরিচালনার ভার এমন নেতৃত্বের হাতেই তুলে দেওয়া হবে, যারা তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা রাখে।

জামায়াত আমির বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আজ মারাত্মক অবনতির শিকার। জনগণের মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে একে একে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সরকার নিজেরাও জনস্বার্থে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, আবার বিরোধী কোনো পক্ষকেও ভালো কাজ করতে দিচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিমানবন্দরে দলীয় সংসদ সদস্যদের হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’। তিনি কারও ওপর চড়াও হননি উল্লেখ করে জামায়াত আমির দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ ‘হাজার ভাগ মিথ্যা’। মেজর আখতারুজ্জামান কেবল জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি নন, তিনি বর্তমানে সারা দেশের নির্যাতিত ও ভুক্তভোগী মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। এই নিপীড়নের ঘটনাকে হালকাভাবে না নেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান।

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণের চোখে ধুলা দেওয়ার জন্য একজনকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করানো হয়েছে; কিন্তু তিনি তো দল ছাড়েননি কিংবা তার হাতে হাতকড়াও পরানো হয়নি। অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি নির্মম আচরণ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেজর আখতারুজ্জামান নিজেই ডিবিকে বলেছিলেন তাকে যেন হাতকড়া পরিয়ে সালাহউদ্দিন সাহেবের ইচ্ছা শতভাগ পূরণ করা হয়।

সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের করের টাকা ঘাটে ঘাটে চুরি ও লুটপাট হতে থাকলে সাধারণ মানুষ আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। একটি দায়িত্বশীল মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে সাধারণ নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না হলে সেই জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘মহামারির সমতুল্য’ বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবং মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে জামায়াত মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করেছে। সরকারের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকলে ‘ধাক্কা দিয়ে সরকারের ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়া হবে’। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও শান্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিকল্প নেতৃত্ব সামনে আসবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন: রাশেদ খাঁন
‘গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।  বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের বিবৃতি ও গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের সমালোচনা করে এ মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জামায়াতের এই বিবৃতির ভাষা কি প্রমাণ করে না যে, মিয়া গোলাম পরওয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেছেন? বিবৃতিতে কোথাও বৈঠক না হওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে নাই এবং বিবৃতিতে কোথাও ভারত শব্দটা পর্যন্ত আনে নাই! কেন?  ‘শোনেন, মিয়া গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছে, জামায়াত তাকে রক্ষা করতে গেলে পুরো দলকে এর দায় নিতে হবে। আর এখন থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দিল্লি না ঢাকা স্লোগান দিলে জনগণ উত্তর দিবে মুনাফেক মুনাফেক! দিল্লি না ঢাকা.... মুনাফেক, মুনাফেক!’ তিনি লেখেন, গতকাল নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, সাংবাদিক যে সময় বলছিলো মিয়া গোলাম পরওয়ার ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন করতে চাইলো, তিনি বা পাশ থেকে কেউ বললেন, না আজকে অন্য প্রশ্ন না! আবার তিনি তড়িঘড়ি করে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অন্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য চলে গেলেন! তিনি যদি ঐদিন অন্য প্রশ্ম না নিবেন, তবে কেনো প্রথম প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না দিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিলেন? তিনি আরও লেখেন, এর মূল কারণ হলো, প্রথম প্রশ্নে তিনি ইতস্তত অনুভব করছিলেন যে, টুপি মাথায় দিয়ে আর কতো মিথ্যা বলা যায়! আমিও অবাক হলাম, জামায়াত যে ইসলামের কথা বলে! তাদের ইসলাম মানে কি টুপি মাথায় দিয়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো? আরটিভি/এসআর
গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন: রাশেদ খাঁন
ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশ করলেন রাশেদ খাঁন
ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।  এ অভিযোগের পক্ষে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে এবং এতে থাকা গাড়িতে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন। ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ওই গাড়িতে করে বেরিয়ে আসেন। পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক শেষে এই গাড়ি করে বের হয়ে আসে মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের প্রতিনিধি দল। আমি আবারও বলছি, মিয়া গোলাম পরওয়ার চাইলে আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন। এর আগে সোমবার (২৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসেও একই অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, গত ১৬ অক্টোবর মাগরিবের পর রাজধানীর বারিধারার একটি বাড়িতে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াত নেতা এটিএম মাছুমসহ তিনজন। যারা প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন, তারা কোন স্বার্থে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন- এমন প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তার ভাষ্য, ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করা এবং দেশটির উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করা এক বিষয় নয়। জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে রাশেদ খাঁন বলেন, মিয়া গোলাম পরওয়ার নৈতিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করলে কথিত বৈঠকের বিষয়টি স্পষ্ট করবেন বলে তিনি আশা করেন। তা না হলে জামায়াত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত- এমন ধারণা তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। আরটিভি/এসআর
ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশ করলেন রাশেদ খাঁন
আ.লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা নেই: জামায়াত আমির
আওয়ামী লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।  
আ.লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা নেই: জামায়াত আমির
১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক চলছে
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে এ বৈঠক শুরু হয়। 
১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক চলছে
সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি, বিস্ফোরক মন্তব্য মাসুদ সাঈদীর
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেছেন, তার লাশ দাফনে বা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না, জনগণের আপত্তি ছিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে, যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবমাননা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।  মাসুদ সাঈদী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পোষ্য ও সুবিধাভোগী দালাল কুখ্যাত মানিক পশারী আজ (শনিবার) দিনের কোনো এক সময় গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মারা যায়। মৃত্যুর পর তাকে পিরোজপুরে আনা হয় এবং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের চেষ্টা করা হয়।  ‘জনগণ বিষয়টি জানতে পেরে তাকে কথিত ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে বাধা প্রদান করে এবং কুখ্যাত মানিক পশারী যে মুক্তিযোদ্ধা নন তা প্রশাসনকে অবহিত করেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি ‘গেজেটপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা!’ এরপরও জনগণ একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা প্রদান করে। আমরা জনগণকে শান্ত করেছি, ধৈর্য ধারণ করতে বলেছি। অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব অন্যায় করেছে, সেসব অন্যায় কোনোভাবেই যেন আমাদের দ্বারা না হয় সে বিষয়ে জনগণকে বুঝিয়েছি।’  তিনি বলেন, আমি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি (বরিশাল রেঞ্জ) থেকে শুরু করে পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলগত অবস্থান থেকে উভয়ে একযোগে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বরাবরই নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে জনগণের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ সত্যিই খুব কঠিন ছিল।’ সাঈদীপুত্র আরও বলেন, ‘কুখ্যাত মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য বা বাধা ছিল না, নেইও। আপত্তি ছিল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে। যদিও প্রশাসন মিথ্যাচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে।’ তিনি বলেন, এ ঘটনাটি দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের অপমান ও মহান স্বাধীনতার অবমাননা এবং দেশের আইনি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি চরম এক উপহাস বলে মনে করছি। যে ব্যক্তি স্বয়ং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরায় স্বীকার করেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন— সেই রকম প্রতারক ব্যক্তিকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া এবং বছরের পর বছর সরকারি ভাতা ভোগ করতে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ডিও লেটার জালিয়াতির বিষয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো যখন মানিক পশারীকে ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী প্রশ্ন করেন যে, ‘আপনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা?’ তখন সে স্পষ্ট করেই বলেছিল- ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করিনি।’  ‘ট্রাইবুনালে তার বক্তব্য আমি এখানে হুবহু তুলে ধরছি— ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই, তবে সহযোগিতা করেছি। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি। এ জন্য বর্তমান এমপি একেএমএ আউয়াল সাহেব আমার নামে একটি ডিও লেটার দিয়েছে, আমার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। আমি পিরোজপুরে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা করার পর না আগে আমার ওই ডিও লেটার দিয়েছে তা আমার স্মরণ নাই।’ মাসুদ সাঈদী বলেন, এখানে মানিক পশারী অকপটে স্বীকার করেছে যে, সে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নয়। তবে এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে আসার আগে তৎকালীন আওয়ামী দোসর কুখ্যাত এমপি আউয়াল তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিল। অর্থাৎ স্রেফ মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল। মানিক পশারী কীভাবে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেন সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাসে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, একটি দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব ও সম্মানের জায়গা হলো ‘মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব। মানিক পশারীর মতো একজন কুখ্যাত ও স্বঘোষিত অ-মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রমাণিত মিথ্যাবাদীকে কারা গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বানাল? কোন কুচক্রী মহল তাকে রাষ্ট্রের করের টাকায় বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার সুযোগ করে দিল? মাসুদ সাঈদী বলেন, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাকে অবৈধভাবে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার পেছনে যে সব কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত ছিল, তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ‘একজন ভুয়া ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন করে ডিও লেটার দেওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষীর বিনিময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম উঠানোর অপরাধে সাবেক অবৈধ এমপি একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’ মানিক পশারীর নাম দ্রুত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল করার দাবি জানান বিরোধী দলের এই এমপি। তিনি বলেন, তাকে দেওয়া সব রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। পোস্টের শেষে মাসুদ সাঈদী বলেন, মিথ্যা ও জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো অপশক্তি চিরদিন সত্যকে ধামাচাপা দিতে পারে না। মানিক পশারী ও তার পৃষ্ঠপোষকদের এই জালিয়াতি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ আরটিভি/এসআর  
সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি, বিস্ফোরক মন্তব্য মাসুদ সাঈদীর
আরও পড়ুন
তুরস্কের স্পিকারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক
তুরস্ক গেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াত আমিরের ক্ষোভ
গরীবের ক্লিনিক ভাঙায় দুষ্কৃতিকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জামায়াত আমিরের