
সৌদি আরবের আবহা শহরে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজ বাসায় ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মৃত্যু হয়েছে মো. সোহাগ নামে এক বাংলাদেশির। এক সপ্তাহ ধরে তার মরদেহ পড়ে রয়েছে সেখানকার একটি হাসপাতালের হিমঘরে। এখন সোহাগের মরদেহ দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা চাইছে তার পরিবার।
সৌদিতে মারা যাওয়া মো. সোহাগের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায়। তার বাবা রফিক উদ্দিনও সৌদিপ্রবাসী ছিলেন। ২০০৩ সালে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহ দেশে আনতে পারায় সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছিল রফিক উদ্দিনকে। এবার সোহাগের ক্ষেত্রেও একই পরিণতির আশঙ্কা করছে পরিবার।
সেই আশঙ্কার কথা তুলে ধরতে গিয়েই তার বোন রোকসানা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বাবা ২৩ বছর আগে সৌদি আরবে মারা গিয়েছিলেন। তার লাশ দেশে আনতে পারিনি। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়েছে। এখন আবার আমার ভাইয়েরও সৌদি আরবে মৃত্যু হয়েছে। তার লাশটাও কি দেশে আনতে পারব না?’
রোকসানা আকুতিতে এ সময় বারবার উঠে আসছিল নিজের ছোট ভাতিজির কথা। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরের মেয়েটি বাবাকে কখনো সামনাসামনি দেখেনি, লাশটাও কি দেখবে না?’
রফিক উদ্দিনের একমাত্র ছেলে মো. সোহাগ সৌদি আরবে যান ২০১৮ সালে। ২০২১ সালে সর্বশেষ তিনি দেশে আসেন। ওই বছরেই তিনি আবার সৌদি আরবে ফিরে যান। সোহাগের দুটি মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ের নাম ফাতেমা জাহান ইকরা। তার বয়স ১০ বছর। ছোট মেয়েটি পাঁচ বছর বয়সী। তার নাম উম্মে জামিলা ঈশা। সোহাগ যখন সর্বশেষ সৌদি আরবে ফেরেন, তখন ঈশা ছিল তার মায়ের গর্ভে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহাগ ছিলেন ঘরের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। ঘরে তার স্ত্রী আমেনা বেগম, দুই সন্তান ও মা রৌশন আরা বেগম রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোহাগের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যদের দিন কাটছে কান্নাকাটি করেই। আহাজারি করতে করতে প্রায়ই সংজ্ঞা হারাচ্ছেন তার স্ত্রী।
সোহাগের বোন রোকসানা আক্তার জানান, কয়েক মাস আগে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় সোহাগের। এরপর পাসপোর্টও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এসব নবায়ন করতে না পারায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন সোহাগ। এর মধ্যেই তার মৃত্যু হলো।
রোকসানা বলেন, ‘আমরা চাই, আমার ভাইয়ের লাশটা যেন সরকার দেশে আনার ব্যবস্থা করে। আমরা যেন তাকে শেষবারের মতো একটু দেখতে পারি, এলাকার কবরস্থানে দাফন করতে পারি। তার দুই মেয়ে যেন বাবার লাশটা অন্তত দেখতে পারে। এতটুকুই শুধু চাই সরকারের কাছে।’
আরটিভি/এসএইচএম




