ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ভ্রমণের সময় যে দোয়া পড়বেন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি

মানুষ আল্লাহ তাআলার একাত্মবাদের নিদর্শন পরিদর্শনে পৃথিবীর সৌন্দর্য অবলোকনে বের হলে যেন নিরাপদে সুন্দরভাবে সফর বা ভ্রমণ সম্পন্ন করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা যেন সুন্দরভাবে মানুষকে সফর সম্পন্ন করার তাওফিক দেন, সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম উম্মাহকে সফরের দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘(হে রাসুল!) আপনি বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখ, কীভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। (সুরা আনকাবুত : আয়াত ২০)

দোয়াটি তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইলাইকা তাওয়াঝ্ঝাহতু ওয়া বিকা ই’তাসামতু; আল্লাহুম্মাকফিনি মা আহাম্মানি ওয়া মা লা আহতাম্মু বিহি; আল্লাহুম্মা যাওয়্যেদনিত তাক্বওয়া ওয়াগফিরলি জামবি; ওয়া ওয়াঝ্ঝিহনি লিলখাইরি আইনামা তাওয়াঝ্ঝাহতু।

অর্থ : হে আল্লাহ! তোমার দিকেই দৃষ্টি ফিরাই। তোমার নিকটই আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমার গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ কাজকর্মে সাহায্যকারী হিসাবে তুমিই যথেষ্ট। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তাকওয়ার ভূষণে ভূষিত কর। আমার গোনাহকে ক্ষমা কর। আমি যেখানেই যাই তুমি আমাকে কল্যাণের দিকে ধাবিত কর।

বাহনে চড়ার পর রাসুল (সা.) ভ্রমণের দোয়া পড়তেন, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সুবহানাল্লাজি ছাখ্‌খারালানা হা-যা ওয়া-মা-কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুন কালিবুন।’

অর্থ : আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি অত্যন্ত দয়ালু ও অশেষ করুণাময়। তিনি পূতপবিত্র ওই সত্তা যিনি বাহনকে আমার অধীন করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে তাকে আয়ত্তে আনার ক্ষমতা ছিল না। অবশ্যই আমরা আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

রাসুল (সা.) আরেকটি দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা হাওয়িন আলাইনা সাফারনা হা-যা, ওয়াতওই আন্না বু’দাহু, আল্লাহুম্মা আনতাস্‌-সাহিবু ফিস্‌-সাফার, ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি ওয়াল মাল। আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন ওয়া-ছা-ইস সাফারি ওয়া-কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল আহলি ওয়াল মাল।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের এ সফর সহজ করে দাও। রাস্তার দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের সফরের সঙ্গী এবং আমাদের পরিবারের কাছে তুমি আমাদের স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ! তোমার কাছে সফরের কষ্ট-ক্লান্তি ও ভয়ানক দৃশ্য দেখা থেকে এবং পরিবার, সম্পদ-বিত্ত ও অধীনস্তদের কাছে খারাপ অবস্থায় ফেরত আসা থেকে তোমার কাছে রক্ষা চাই। (মুসলিম, হাদিস : ৯৭৮/২)

ভ্রমণের মাঝপথে কোথাও অবস্থান করতে হলে এ দোয়া পড়ার নির্দেশ দিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এই দোয়াটি পড়লে, ঘরে ফেরা পর্যন্ত কোনও কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। দোয়াটি- ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক’ (মুসলিম, হাদিস : ২৭০৮)

অর্থ : আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমার মাধ্যমে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চাচ্ছি।

এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যে কারণে মদ নিষিদ্ধ
মানব সমাজে মদের প্রচলন বহুকাল থেকেই। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা মদকে হারাম অর্থাৎ নিষিদ্ধ করেছেন। কারণ ইতিহাসে আছে বহু কীর্তিমান জাতির বিপর্যয় ডেকে এনেছে মদ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, উভয়ের মধ্যে আছে মহাপাপ ও মানুষের জন্য উপকার। কিন্তু তাদের পাপ উপকার অপেক্ষা  বেশি।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২১৯) মুসলমানদের জন্য মদ ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের একাধিক বর্ণনায় মদপান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! মদ, জুয়া, পূজার বেদি ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর হচ্ছে শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৯০) মদপানকারী ও মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর অভিশাপ মদের ওপর, তা পানকারীর ওপর, যে পান করায় তার ওপর, যে বিক্রি করে তার ওপর, যে তা নিষ্কাশন করে এবং যার আদেশে নিষ্কাশন করে তার ওপর আর যে ব্যক্তি তা বহন করে এবং যার কাছে পৌঁছে দেয়, সবার ওপর।’ (সুনানে আবি দাউদ) এ ছাড়া মদপানে রয়েছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। তার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত মদপানে ফুসফুসের স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য নষ্ট হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যেমন নাইট্রিক অক্সাইড শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া থেকে শ্বাসতন্ত্রকে রক্ষা করে। কিন্তু মদ পান করলে শরীরে এই বর্ণহীন গ্যাস নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদনের পরিমাণ কমে যায়।  ‘চেস্ট’ জার্নালে প্রকাশিত হয় গবেষণা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গবেষণার প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের লোয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগো স্ট্রিটচ স্কুল অফ মেডিসিন’য়ের সহকারী অধ্যাপক মাজিদ আফসার বলেন, মদ ফুসফুসের মধ্যকার স্বাস্থ্যকর ভারসাম্যকে নষ্ট করে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সংগ্রহ করা ১২ হাজার ৫৯ জন ব্যক্তির তথ্য পর্যালোচনা করেন গবেষকরা। এছাড়া মদ পানের পর ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত একজনের রক্তে এর উপস্থিতি থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাস ও মুত্রে ১২-২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং চুলে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত এর উপস্থিতি থাকে। (তথ্যসূত্র: রয়টার্স) গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ নামের বৈশ্বিক উদ্যোগের গবেষণা থেকে জানা গেছে, মদ মানেই ক্ষতি। মদের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। মদ পান করলে ক্ষতি হবেই। গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ নামের বৈশ্বিক উদ্যোগের গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে। আমেরিকার ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিকস এই বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রধান কার্যালয় হিসেবে কাজ করেছে। গবেষণায় অর্থায়ন করেছে আমেরিকার বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। (তথ্যসূত্র: পার্সটুডে) এনএইচ/টিআই
যে কারণে মদ নিষিদ্ধ
নববর্ষে যে দোয়া পড়বেন
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এরপরই বিদায় নেবে ২০২১ সাল। বিশ্ববাসী বরণ করে নেবে নতুন বছর ২০২২ সাল। করোনা মহামারি থেকে মুক্তি প্রার্থনা, সবার জীবনে সফলতা, সমৃদ্ধি এবং বিগত বছরের পাপ মোচনে দোয়া প্রার্থনা করে শুরু করতে পারেন নতুন বছর। কারণ, একমাত্র আল্লাহই পারেন আমাদের মনোবাসনা পূরণ করতে।  সারাবছরের কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর সাহায্য চেয়ে যে দোয়াটি বেশি বেশি পড়বেন, তা হলো- اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালঅমাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি।’ (আল-মুঝাম আল আওসাত) অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের ঈমান ও ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবিলায় আমাদের সাহায্য করুন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। (মু’জামুস সাহাবাহ : ০৩/৫৪৩; আল-ইসাবাহ : ০৬/৪০৭-৪০৮)   এনএইচ /টিআই  
নববর্ষে যে দোয়া পড়বেন
জুমার দিন যখন দোয়া কবুল হয়
ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র জুমা ও জুমাবারের রাত-দিন অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়েছে।  জুমার দিনের সওয়াব ও মর্যাদা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতোই। মুসলমানদের জন্য এই দিন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনের কিছু সময়ে আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন বলে হাদিসে এসেছে। তবে জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় কোনটি— সেটা নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। নিম্নে সংক্ষেপে কয়েকটি সময় তুলে ধরা হলো— জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, জুমার দিনে এমন একটা সময়ে রয়েছে, যাতে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায় আল্লাহ তাই দেন। অতএব তোমরা আছরের শেষ সময়ে তা তালাস করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮, নাসাঈ, হাদিস : ১৩৮৯) আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন—  জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনও মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৪০০) আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, শুক্রবারে আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মাআ’দ-এ বর্ণিত আছে, জুমার দিন আছরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। (যাদুল মাআ’দ : ২/৩৯৪) আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে বলেছেন, ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৯) আসরের শেষ সময় অর্থাৎ সূর্য ডোবার আগমুহূর্তে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন—  জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনও মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮) আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, জুমাবারে এমন একটি সময় আছে, যেটাতে বান্দা আল্লাহর কাছে কোনও দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন। (মুসান্নাফ, হাদিস : ৫৫৮৮) এসএস/টিআই
জুমার দিন যখন দোয়া কবুল হয়
ক্ষমা চাওয়ার দোয়া ও দোয়া কবুলের কয়েকটি মুহূর্ত
আল্লাহ চান বান্দা প্রতিটি বিষয়ে তার কাছে প্রার্থনা করুক। বান্দা আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি খুশি হন। বান্দা প্রতিনিয়তই ভুল করে থাকে, তাই ভুলে থেকে ক্ষমা লাভের শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে দোয়া। এটি বান্দার জন্য স্রষ্টার একটি নেয়ামতও। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অনেক স্থানে বলেছেন তিনি ক্ষমাশীল। আর তিনি ক্ষমা করে দেওয়াকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার অনেক দোয়া রয়েছে। কয়েকটি দোয়া তুলে ধরা হলো। হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয়ই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করতেন- رَبِّ اغْفِرْلِىْ خَطَايَاىَ وَجَهْلِىْ উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফিরলি খাত্বাইয়ায়া ওয়া ঝাহলি।’ অর্থ : ‘হে প্রভু! আমাকে ক্ষমা করুন। আমার ভুল ও অজ্ঞতাগুলোও ক্ষমা করুন।’ (বুখার, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ) প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব গোনাহ থেকে মুক্তির দোয়া- رَبِّ اغْفِرْلِىْ مَا أَسْرَارْتُ وَ مَا أَلَنْتُ উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফিরলি মা আসরারতু ওয়া মা আলানতু’ অর্থ : ‘হে প্রভু! গোপনে ও প্রকাশ্যে আমি যা করেছি; আপনি তা ক্ষমা করে দিন।’ (মুসনাদে আহমাদ) হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু ক্ষমা প্রার্থনায় বললেন- سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ উচ্চারণ : ‘সুবহানাকা ইন্নি কাদ জালামতু নাফসি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।’ অর্থ : (হে আল্লাহ!) তুমি অত্যন্ত পবিত্র সত্তা। আমার উপর আমি অত্যাচার করেছি। অতএব তুমি আমাকে মাফ কর, কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না।’ (তিরমিজি) দোয়া কবুলের কয়েকটি মুহূর্ত দোয়া কবুলের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও আদব আছে, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে দোয়া করলে আশা করা যায় আল্লাহ তা কবুল করবেন।  * রাতের শেষ তৃতীয়াংশের যদি দোয়া করা হয়, তাহলে তা কবুল হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ মহান সবচেয়ে কাছের আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকছো? আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে চাইছো? আমি তাকে তা দেব। কে আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী’ আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। (মুসলিম) * জুমার দিনের দোয়া কবুল করা হয়। হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) আমাদের একদিন শুক্রবারে ফজিলত নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনায় সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যে সময়টায় যদি কোনও মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় পায় এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ মহান অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসূল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টা সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। ’ (বুখারি) * আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কবুল হয়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া করা হলে তা ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ’ (তিরমিজি) * সেজদারত অবস্থায় দোয়া করা হলে তা কবুল হয়- রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটতম অবস্থায় থাকে তা হলো সেজদারত অবস্থা। সুতরাং তোমরা সে সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাও বা প্রার্থনা করো।’ (মুসলিম) এসএস
ক্ষমা চাওয়ার দোয়া ও দোয়া কবুলের কয়েকটি মুহূর্ত
কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির অজানা তথ্য
পবিত্র কাবা শরিফের কালো গিলাফ। যাকে কিসওয়া বলা হয়। কালো গিলাফে আবৃত কাবা শরিফ মুসলিম উম্মাহর আবেগ-অনুভূতির সর্বোচ্চ স্থান। পবিত্র কাবা শরিফকে ঘিরে রাখা এ গিলাফের আর্ট ও সোনার সুতায় বোনা ক্যালিওগ্রাফি মুমিন মুসলমানের হৃদয়ে তৈরি হয় ভালোলাগা, ভালোবাসা ও অনুভূত হয় অন্যরকম এক মায়াবি আকর্ষণ;  যা দিয়ে তৈরি হয় কাবার গিলাফ: প্রায় ৭০০ কেজি প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে তৈরি করা হয় কাবার পবিত্র গিলাফ। মোট পাঁচ টুকরা গিলাফ বানানো হয়। চার টুকরা চারদিকে এবং পঞ্চম টুকরাটি কাবাঘরের দরজায় লাগানো হয়। ১৪ মিটার উঁচু কালো রঙের এই গিলাফ সর্বমোট ১৬টি ছোট টুকরা দিয়ে সুবিন্যস্ত। কাবা শরিফের দরজায় ঝোলানোর জন্য আলাদাভাবে এতে সাড়ে ছয় মিটার উঁচু এবং সাড়ে তিন মিটার প্রস্থ পর্দা রয়েছে। টুকরাগুলো মজবুতভাবে সেলাইযুক্ত। প্রতি বছর দুইটি করে (একটি সতর্কতামূলক) গিলাফ তৈরি করা হয়। হাতে তৈরি করতে সময় লাগে আট থেকে নয় মাস। অন্যটি মেশিনে মাত্র এক মাসে তৈরি করা হয়। এতে খরচ পড়ে প্রায় ২৫ মিলিয়ন রিয়াল বা ৫৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সমমূল্য। যা লেখা থাকে কাবার গিলাফে: গিলাফের এক-তৃতীয়াংশের ওপর দিকে ৯৫ সেন্টিমিটার প্রস্থের বন্ধনীতে সোনার প্রলেপকৃত রুপার সুতা দিয়ে কারুকার্যশোভিত আল্লাহর নাম এবং কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ক্যালিগ্রাফি খচিত করা হয়। আরো লেখা থাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’, ‘আল্লাহ জাল্লা জালালুহু’, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম’, ‘ইয়া হান্নান, ইয়া মান্নান’ ইত্যাদি। এ ছাড়াও উত্তর দিকের অংশে লেখা থাকে, ‘খাদেমুল হারামাইন শরিফাইনের বাদশাহ সালমান ইবনে আবদুর রহমান আল সাউদের নির্দেশে এই গিলাফ পবিত্র নগরী মক্কায় তৈরি করা হয়েছে’। যেখান থেকে আসত কাবার গিলাফ: ইতিহাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কাবাঘরের গিলাফ মিসর থেকে আসত। মাঝে ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ব্যবহূত কাবার গিলাফ সৌদি আরবের মক্কায় তৈরি হয়েছিল। ১৯৩৯ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত মিসর ফের সেই দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমানে সৌদি আরবে তৈরি হওয়া এই গিলাফও মিসরের অনুকরণে তৈরি হচ্ছে। যেখানে তৈরি করা হয় গিলাফ: ১৯৭৭ সালে নতুনভাবে স্থাপিত মক্কা নগরীর উম্মে জাওদ নামের জায়গায় অবস্থিত অত্যাধুনিক কারখানায় কাবাঘরের বাইরের ও ভেতরের গিলাফ তৈরি হয়। মদিনায় রাসুল (সা.)-এর রওজা মোবারকে ব্যবহৃত অভ্যন্তরীণ গিলাফও এখানে তৈরি করা হয়। কারখানাটি ছয়টি অংশে বিভক্ত- বেল্ট, হস্তশিল্প, যান্ত্রিক, ছাপা, রং ও অভ্যন্তরীণ পর্দা বিভাগ। বর্তমানে এতে ২৫০ জনের বেশি শিল্পী নিয়োজিত আছেন। যখন থেকে কাবায় গিলাফ পরানো হয়: হিজরতের পূর্বে কে গিলাফ পরিয়েছিল তাতে মতবিরোধ থাকলেও সকলে ঐকমত্য যে, হিজরতের ২২০ বছর আগে বাদশাহ তুব্বা আবি কারব আসাদ এ গিলাফের প্রথম প্রচলন করেছিলেন। মক্কা বিজয়ের পর ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সা.) এবং হজরত আবু বকর (রা.) কাবা শরিফে গিলাফ পরিয়ে দেন। এরপর থেকে মুসলিম খলিফা এবং শাসকেরা এ ধারা অব্যাহত রেখেছেন। এ ছাড়াও নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম কাবা শরিফের গিলাফ পরানোর সৌভাগ্য অর্জন করেন আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের জননী নুতাইলা। যে সময় গিলাফ পরিবর্তন করা হয়: গিলাফ তৈরি করার পর তা কাবা শরিফের চাবিরক্ষক বনি শাইবা গোত্রের মনোনীত খাদেমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ১০ জিলহজ সবার সহযোগিতায় কাবা শরিফের নতুন গিলাফ গায়ে জড়ানো হয়। গিলাফ পরিবর্তনের কাজে মসজিদুল হারার ও মসজিদে নববির কার্যপরিচালনা পরিষদের তত্ত্বাবধায়ক নেতৃত্ব দেন। এ সময় সৌদি বাদশার প্রতিনিধিসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন। পুরাতন গিলাফ ঠিকভাবে টুকরো টুকরো করে প্রতি বছর বিভিন্ন মুসলিম সরকারপ্রধান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপহার দেওয়া হয়। এনএস/টিআই
কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির অজানা তথ্য
আরও পড়ুন
নববর্ষে যে দোয়া পড়বেন
বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, ২ লাখ টাকা জরিমানা
জুমার দিন যখন দোয়া কবুল হয়
ক্ষমা চাওয়ার দোয়া ও দোয়া কবুলের কয়েকটি মুহূর্ত