ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক মুহাম্মদ (স.)

মাওলানা নাসির উদ্দিন

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:৩৭ পিএম

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠার জন্য যেমন একজন সুদক্ষ ও নীতিবান পরিচালকের প্রয়োজন তেমনি এ সমাজ পাঠশালাটিকে নৈতিক বিচারে উৎকৃষ্টতার মডেল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন ছিল একজন সুদক্ষ, বিচক্ষণ, উৎকৃষ্ট নীতি নৈতিকতার অধিকারী হৃদয়বান অভিভাবকের ও একজন আদর্শ শিক্ষকের। মহান আল্লাহ তায়ালা এ গুরুদায়িত্ব দিয়েই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন।

সাধারণত একজন শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য হল, শিষ্যের প্রতি তার দয়া ও স্নেহ, আন্তরিকতা, কল্যাণকামিতা ও নম্র ব্যবহার।

তাই পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘‘ এটা আল্লাহরই রহমত যে আপনি মানুষের সঙ্গে নম্র ব্যবহার করে থাকেন। যদি আপনি কঠোর হৃদয়ের হতেন তবে তারা আপনার নিকট হতে ছিটকে পড়ত।’’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৫৯)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যদের মতো এমন শিক্ষক ছিলেন না যে, কেবল একটি বই পড়িয়ে দিয়ে বা নির্ধারিত কোনো বিষয়ে পাঠদান করেই নিজ দায়িত্ব পূর্ণ করেছেন মনে করে বসে থাকবেন, বরং তিনি নিজের শিষ্যদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি স্তরে প্রবেশ করতেন এবং তাদের সকল দুঃখ-বেদনায় শরিক হতেন। প্রতিটি মুহূর্তে তাদের কল্যাণ কামনায় চিন্তিত থাকতেন।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘‘ তোমাদের মধ্য হতে এমন একজন রাসূল আগমন করেছেন যাকে তোমাদের দুঃখ-কষ্ট ব্যথিত করে এবং যিনি তোমাদের জন্য অনেক বেশি হিতাকাঙ্ক্ষী এবং তিনি মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহশীল। ( সুরা তাওবা, আয়াত: ১২৮)

এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘ আমাকে (উম্মতের) একজন শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে ।’’ ( সুনানে ইবনে মজা শরীফ)

অন্য এক হাদিসে তিনি উম্মতদেরকে বলেন, ‘‘ তোমরা ছয়টি কাজ করার দায়িত্ব নাও, আমি তোমাদের জান্নাতের দায়িত্ব নেব। তোমারা যখন কথা বল তখন সত্য বলবে, যখন কোনো ওয়াদা কর , তা পূর্ণ করবে। তোমাদের কাছে আমানত রাখা হলে তা যথাযথভাবে আদায় করবে, অবৈধ কর্ম থেকে তোমাদের লজ্জাস্থানকে হেফাজত করবে, তোমাদের দৃষ্টিকে অবনমিত রাখবে, তোমাদের হাতকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে।’’ ( মুসনাদে আহমদ শরীফ)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষিপ্ত সময়ে যে বিস্ময়কর বিপ্লব সাধন করেছেন তার অপ্রতিরোধ্য গতি ও ব্যাপকতা দেখে ওই সকল লোকও বিস্মিত ও চিন্তিত হয়েছে যারা তার ও তার এই কল্যাণময় মিশনের ঘোরে বিরোধী ছিলে। এটা তার শিক্ষারই আশ্চর্যজনক প্রভাব ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল ক্ষেত্রেই মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন। তারা শিক্ষার যে পরিপূর্ণ ফলাফল জগৎবাসী প্রত্যক্ষ করল, দুনিয়ার ইতিহাসে এর কোনো দৃষ্টান্ত নেই।

আল্লাহ আমাদের তওফিক দান করুন। ( আমিন)

আরকে/ এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বাধীনতা মানে শুধু ভূখণ্ড নয়, সাংস্কৃতিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়া
স্বাধীনতা একটি অমূল্য সম্পদ। স্বাধীনতা যার নেই সে শৃঙ্খলাবদ্ধ। একটি পিঞ্জিরাবদ্ধ পাখি যেমন পেটপুরে খেয়েও মুক্ত আকাশে ডানা ঝাপটাতে না পেরে ব্যাকুল, বৃক্ষ শাখায় বসে কলকাকলিতে মেতে উঠতে না পারার বেদনায় কাতর, তেমনি একজন মানুষের জন্যও স্বাধীনতা না থাকা অতি যন্ত্রণাদায়ক, অস্বস্তিকর ও অসহনীয়। স্বাধীনতা মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার অমূল্য দান। এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। স্বাধীনতা মানে হচ্ছে অপর কোন শক্তির অধীনে না থাকা। মানুষ যেহেতু বিবেকবান, হৃদয় ও সুমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রাণী তাই স্বাধীনতার চেতনা তার স্বভাবগত। অপর কোন সৃষ্টির কাছে সে নতি স্বীকার করবে না, অপর কোন সৃষ্টির অধীনে তার জীবন ও অস্তিত্ব বাঁধা পড়বে না এটাই তার স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ত আকাঙ্খা হওয়ার কথা।  মানুষকে আল্লাহ তায়ালা স্বাধীন করেই সৃষ্টি করেছেন। মানুষের আসল স্বভাবগত অবস্থা হচ্ছে তার স্বাধীন থাকা। এজন্য মানুষের ওপর একটি করনীয় বা দায়িত্ব অর্পিত হয়। সেটি হচ্ছে এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা, এই মস্ত দানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আর তার রূপ হলো, স্বাধীনতা দানকারী মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা, কাজে কর্মে কথায় জীবনের সব ক্ষেত্রে। মানুষ যখন তার এই দায়িত্ব ও করনীয় ভুলে যায়, কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কৃপণ হয়ে পড়ে তখনই তার উপর আসে পরাধীনতার শাস্তি। আল্লাহ তায়ালা যখন কোন ভূখণ্ড কাউকে বা কোন জাতিকে দান করেন, তখন সে ভূখণ্ড প্রাপকদের উচিৎ শুকরিয়া আদায় করা। আর শুকরিয়া আদায়ের রূপ হলো, ক. সমাজের সর্বস্তরে ইনসাফ কায়েম করা। খ. সমাজে দ্বীন ও শরীয়ত কায়েম করা। এ সম্পর্কে  আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা নামাজ কায়েম করবে, যাকাত দিবে, এবং সৎকাজের আদেশ দিবে – অসৎকাজের নিষেধ করবে, আর সকল কাজের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।“ (সুরা হজ্জ, আয়াত: ৪১)   স্বাধীনতা একটি ভূখণ্ডের প্রাপক হিসেবে এ আয়াত থেকে আমরাও আমাদের দায়িত্ব ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ধরন জেনে নিতে পারি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাধীনতার এই নেয়ামতের কদর, মূল্যায়ন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কীভাবে মানুষের পক্ষে সহজে সম্ভব হবে? এ প্রশ্নের উত্তর হলো, যারা স্বাধীনতার তাৎপর্য ও বাস্তবতা বুঝে, স্বাধীনতা-পরাধীনতার পার্থক্য বুঝে, স্বাধীনতা নেয়ামত হওয়ার জন্য যেসব নীতিমালার অনুসরণ অপরিহার্য সেগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে তাদের পক্ষেই স্বাধীনতার মূল্য দেওয়া এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সম্ভব। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তিনটি ধাপ হতে পারে। প্রথম ধাপ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করা। মানুষ যখন আল্লাহর খাঁটি বান্দা হবে, যখন আল্লাহর আহকামের সে গোলামী করবে তখনই সে সঠিক অর্থে স্বাধীন হবে। এবং সার্বিক স্বাধীনতা লাভের যোগ্য হবে। দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে, বিজাতিদের গোলামী থেকে স্বাধীন থাকা। এ গোলামী কেবল ভৌগলিক দখল বেদখলেরই নয়, বরং এর মধ্যে সাংস্কৃতিক দাসত্বও অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম সে সাংস্কৃতিক দাসত্বকেও ঘৃণা করে। এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহিওাসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং ৪০২৭) তৃতীয় ধাপ হচ্ছে, অমূলক রুসম-রেওয়াজ ও বিদআত থেকে মুক্ত থাকা, স্বাধীন থাকা। মূলত আল্লাহর আনুগত্যের পাশাপাশি দেহের ও চিত্তের সব ধরণের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি ও আজাদীর নামেই স্বাধীনতা। ইসলাম স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেছে। ইসলাম মূলত স্বাধীনতারই ঝান্ডাবাহী। এন/এমকে 
স্বাধীনতা মানে শুধু ভূখণ্ড নয়, সাংস্কৃতিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়া
দেশের প্রথম কুরআন ভাস্কর্যের উদ্বোধন ৩১ ডিসেম্বর
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা পৌরসভায় দেশের প্রথম কুরআন ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। বছরের শেষদিন ৩১ ডিসেম্বর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ভাস্কর্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।   ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন ঢাকার চারুকলা ইনস্টিটিউটের  ছাত্র ভাস্কর কামরুল হাসান শিপন।কসবা পৌরসভার মেয়র এমরানুদ্দীন জুয়েলের তত্ত্বাবধানে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে।   সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে নেমে পবিত্র নগরী মক্কার প্রবেশদ্বারে কুরআনের আদলে তৈরি যে বিশাল তোরণ রয়েছে। সে তোরণের ডিজাইনের আলোকেই কসবা উপজেলা সদরের ব্যস্ততম কদমতলা মোড়ে তৈরি করা হয়েছে এ ভাস্কর্যটি। ভাস্কর্যের উচ্চতা ১৬ ফিট এবং প্রস্থ ৮ ফিট। ভাস্কর্য নির্মাণকারী ঠিকাদার রতন সরকার জানান, এটি তৈরিতে ২ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম কুরআনের ভাস্কর্যটি দেখতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় করছে স্থানীয় ও দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আগত কুরআন প্রেমিক জনতা। কুরআনের আদলে তৈরি এ ভাস্কর্যটি যেন কুরআন প্রেমিক জনতার হৃদয়ের তাজমহল। ব্যতিক্রমধর্মী এ অসামান্য ভাস্কর্য নির্মাণের সাথে জড়িতরা জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। দেশের আলেম সমাজও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। পাশাপাশি কুরআনের এ ভাস্কর্যের প্রতি যেন অবমাননা না হয় সেদিকেও নজর রাখার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে আলেম সমাজ।                                                                     সৌদি আরবের জেদ্দায় কুরআন ভাস্কর্য এমকে 
দেশের প্রথম কুরআন ভাস্কর্যের উদ্বোধন ৩১ ডিসেম্বর
আজ শুভ বড় দিন
আজ ২৫ ডিসেম্বর শুভ বড়দিন। বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট এই দিনে বেথেলহেম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। শত শত বছর ধরে বিশ্বের খ্রিষ্টান সম্প্রদায় উৎসবমুখর পরিবেশে বড়দিন পালন করে আসছে। যিশুখ্রিষ্ট সারাজীবন আর্তমানবতার সেবা, ত্যাগ ও শান্তির আদর্শ প্রচার করেছেন। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবাইকে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শাসকের অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পক্ষ নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি শাসকের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে ক্রুশবিদ্ধ হন। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও বড়দিন উদযাপন করা হচ্ছে আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। বড়দিন উপলক্ষে দেশের গির্জাগুলোতে আজ বিশেষ প্রার্থনা করা হচ্ছে। আর আনন্দ-উৎসবের মধ্যে রয়েছে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো, সান্তাক্লজের উপহার, স্বজনদের বাড়িতে ও বিনোদনকেন্দ্রে বেড়াতে যাওয়া, আর মজার মজার খাবার খাওয়া। রাতে কেক কাটা ও প্রার্থনার পর সকালে গির্জায় একত্রিত হবেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। সকালের প্রার্থনার পর বাড়িতে ফিরে ছোটরা বড়দের আশীর্বাদ নেবে এবং আনন্দে মেতে উঠবে। বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। আবহমানকাল ধরে এ দেশে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। বিদ্যমান সম্প্রীতির এই সুমহান ঐতিহ্যকে আরো সুদৃঢ় করতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে মানবতার মহান ব্রতে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণ ও উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বড়দিন দেশের খ্রিস্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিরাজমান সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিকে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ দিকে বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা, কাকরাইল সেন্ট মেরি ক্যাথিড্রাল চার্চ, মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সেজেছে রঙিন সাজে। গির্জার প্রবেশপথে সাজানো হয়েছে ক্রস এবং শুভেচ্ছা কার্ডসহ উপহারসামগ্রী বিক্রির দোকান। এ দিকে বড়দিনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, দ্য ওয়েস্টিন ও ঢাকা রিজেন্সি হোটেল সাজানো হয়েছে রঙিন বাতি, বেলুন, ক্রিসমাস-ট্রি আর ফুল দিয়ে। সোমবার দিনভর হোটেলগুলোতে চলবে আনন্দ-উৎসব। পি
আজ শুভ বড় দিন
আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন ২৬ জানুয়ারি
আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থা (ইক্বরা)আয়োজিত ১৮তম আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন আগামী বছরের ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্বারীদের নিয়ে আয়োজন করা হবে এবারের আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন। অন্যান্য বছরের মতো বিকেল ৩টা থেকে এ সম্মেলন শুরু হবে। ১৮তম আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থার সভাপতি শায়খুল কুর্রা ক্বারী মুহাম্মাদ আবু ইউসুফ হাফিজাহুল্লাহ। উল্লেখ্য, পিএইচপি ফ্যামেলির পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশসহ মিশর, ইরান, সিরিয়া, আলজেরিয়া, ভারত, ফিলিস্তিন ও ব্রনাই দারুস সালামের বিশ্বসেরা শীর্ষস্থানীয় ক্বারীগণ অংশগ্রহণ করবেন। বিশেষ করে এ ক্বিরাত সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্বারীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থার (ইকরা) সহ-সভাপতি, মা’হাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশের পরিচালক ক্বারী শায়খ আহমদ বিন ইউসুফসহ দেশবরেণ্য ক্বারীগণ উপস্থিত থেকে ক্বিরাত পরিবেশন করবেন। পি
আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন ২৬ জানুয়ারি
ছোটদের প্রতি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
শিশুরা নিষ্পাপ, তাদের কোনো পাপ নেই। তাদের মনে হিংসা বিদ্বেষ নেই, কুটিলতা নেই, তাই তারা হচ্ছে ফুলের মতো। শিশুরা যাতে বড় হয়ে ভালো মানুষ হতে পারে এবং আল্লাহর প্রিয়পাত্র হতে পারে, এ দিকে নবীজীর ছিল সজাগ দৃষ্টি। নবীজীর ভালোবাসা পেয়ে মদিনার শিশুরাও নবীজীকে ভালোবাসতো এবং তাঁর কাছে আদর নিতে আসত। নবীজী যখন আনসারি সাহাবিদের পল্লিতে যেতেন তখন তাঁদের শিশুদের সালাম দিতেন, তাঁদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করতেন। হাদিস শরিফে আছে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শিশুরা হলো আল্লাহ তায়ালার ফুল। (তিরমিজি শরিফ) হজরত হাসান, হোসাইন নবীজীর অতি আদরের নাতি।  তাঁরা বড় হয়ে অনেক মহান ব্যক্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা যখন ছোট ছিলেন তখন কি করতেন একটু জেনে নেই। নবীজী সেজদায় গেলে তাঁরা তাঁর পিঠে চড়ে বসতেন। নবীজীও পরম স্নেহে তাদের পিঠে চড়িয়ে রাখতেন। তাঁরা নেমে গেলে সেজদা থেকে মাথা তুলতেন। কখনো বা তাঁদের পিঠের সাথে জড়িয়ে নিয়েই দাঁড়িয়ে যেতেন। আবার কখনো কখনো বড় নাতি হাসানকে কাঁধে চড়িয়ে বাইরে বেরুতেন। (বুখারী শরীফ) নবীজীর একজন মহান সাহাবি হলেন, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) নবীজী তাঁকে খুব ভালোবাসতেন এবং তাঁর স্মৃতি শক্তির জন্য দয়া করেছেন। নবীজীর সবচেয়ে বেশি হাদিস তিনিই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার এই চোখে দেখেছি এবং এই দুই কানে শুনেছি যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান বা হোসাইনের দুই হাত ধরে তাঁর পায়ে দাঁড় করিয়ে দিতেন এবং বলতেন ছোটমনি, ছোটমনি উঠে এস; ও আমার ছোট চোখের ছোট সোনা। নবীজীর এই কথা শুনে তাঁর শরীর বেয়ে উঠতে থাকত এবং তাঁর পবিত্র বুকের উপর উঠে আসত। নবীজী তখন তাঁকে চুমু খেতেন এবং বলতেন হে আল্লাহ, আমি তাকে ভালোবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালোবেসো। ( আল মুজামুল কাবীর, তবারানী) নবীজী কখনো কখনো শিশুদের নিয়ে খেলায় মেতে উঠতেন। কুরাইশ বংশের ছোট বালক আব্দুল্লাহ, উবাইদুল্লাহ ও কাসীরকে এক সারিতে দাঁড় করিয়ে নবীজী বলতেন, যে সবার আগে আমার কাছে আসতে পারবে তাকে এই পুরষ্কার দেব। সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা নবীজীর কাছে ছুটে আসত এবং তাঁর কোলে পিঠে ঝাঁপিয়ে পড়ত। নবীজী সবাইকে দুহাতে জড়িয়ে ধরতেন এবং আদর করে চুমু খেতেন। (মুসনাদে আহমদ) শিশুদের দুঃখ তিনি সইতে পারতেন না। কোনো শিশুকে দুঃখিত দেখলে মিষ্টি-মধুর কথা বলে তাঁর মন খুশি করে দিতেন। সুন্দর সুন্দর কথা বলে তাঁকে হাসিয়ে দিতেন। তিনি সকল পিতা মাতাকে আদেশ করে গেছেন, তাঁরা যেন শিশুদের সুন্দর নাম রাখেন এবং তাদেরকে আদব-কায়দা শিক্ষা দেন। শিশু যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে তখন সে যাতে সহজেই নামাজে অভ্যস্ত হয়, এদিকে খেয়াল রাখাও পিতা-মাতর কর্তব্য। সর্বদা সত্য কথা বলা, অন্যের মনে কষ্ট না দেওয়া, গরীব-দুঃখকে সাহায্য করা, পিতা-মাতার কথা মেনে চলা, বড়দের সম্মান করা। এসবই নবীজীর শিক্ষা। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের, শিক্ষা অনুসরণ করে তাঁর সাহাবিগণ কতো মহান ও মর্যাদাবান হয়েছেন। আরকে/এমকে 
ছোটদের প্রতি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আরও পড়ুন
নবীর প্রতি ভালোবাসা কিভাবে প্রকাশ করতে হবে