ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিতরের নামাজের দোয়া কি বাংলায় পড়া যাবে?

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৪২ পিএম

আরটিভির সরাসরি ইসলাম নিয়ে প্রশ্নোত্তরমূলক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘শরিফ মেটাল প্রশ্ন করুন’। এ অনুষ্ঠানে কোরআন ও হাদিসের আলোকে দর্শক-শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়। এবারের পর্বে উত্তর দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ হাফেজ মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম।

প্রশ্নঃ ইহরামের কাপড় পরিধান করার পরও অনেকে ফ্লাইট মিস করার কারণে অথবা অন্যান্য ঝামেলার কারণে হজে যেতে পারেন না। এক্ষেত্রে হুকুমটা কী?

উত্তরঃ আমাদের দেশে তো হজ শুরু হয় না। হয়তো ইহরাম তিনি বেঁধেছেন, তার হজ তো শুরু হবে মক্কা থেকে। কেউ যদি হজে ঢুকে যায় বা মক্কা পার হয়ে যায় বা সেখানে গিয়ে আটকে যায়, তাহলে সুরা বাকারায় সে সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধান দেয়া আছে। সেখানে বলা আছে, কেউ যদি আটকে যায় তাহলে তোমরা সেখানে কুরবানি করবে, কুরবানির শেষে মাথা মুন্ডিয়ে সেখান থেকে চলে আসবে। কিন্তু আমাদের দেশে যদি আটকে যায় তাহলে কোন সমস্যা হবে না।

প্রশ্নঃ হজে তাওয়াফের সময় যদি ওজু চলে যায়, তাহলে পুনরায় তাওয়াফ কীভাবে শুরু করতে হবে?

উত্তরঃ নামাজ বা তাওয়াফ যেটাই হোক না কেন যেখানে এসে তার ওজু চলে গেছে পুনরায় ওজু করে সেখান থেকে শুরু করতে হবে। আর যদি কোন স্থানে থেকে ওজু চলে গিয়েছিল সেটা ভুলে যান, তাহলে আনুমানিক কাছাকাছি কোনো জায়গা থেকে শুরু করলেই হবে অথবা হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করলেই হবে।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: নবীদের নামে নাম রাখা ভালো না মন্দ
--------------------------------------------------------

প্রশ্নঃ বিতরের নামাজে বাংলায় দোয়া পড়া যাবে কী?

উত্তরঃ ফরজ নামাজ ছাড়া নফল, সুন্নাহ বা বিতরের যেকোন নামাজে বাংলায় বা অন্য যেকোনো ভাষায় দোয়া পড়া যাবে।

প্রশ্নঃ যাকাতের টাকা থেকে মসজিদের ইমামের বেতন দেয়া যাবে কী?

উত্তরঃ সাধারণত যাকাতের টাকা মসজিদের কাজে ব্যবহার করার নিয়ম নেই। কিন্তু যদি যাকাত বহির্ভূত কোনো টাকা না থাকে তাহলে পবিত্র কুরআনের সুরা আত তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে বর্ণিত যাকাতের আটটি খাতের একটি খাত হল আল্লাহর পথে খরচ করা। মসজিদ মাদরাসা যদি অন্যান্য খাত থেকে অর্থ যোগাড় করতে না পারে, সেক্ষেত্রে যাকাত থেকে সহযোগিতা নেয়া যায়। তবে চেষ্টা করতে হবে যতটুকু পারেন যাকাত বহির্ভূত খাত থেকে ইমামের বেতন যোগাড় করার জন্য আর যতটুকু পারবেন না ততটুকু যাকাতের টাকা থেকে দেয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন:

কেএইচ/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নামাজে মনোযোগ আসবে যেভাবে
অনেকের নামাজের মধ্যে মনোযোগ বিভিন্ন দিকে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। মনোযোগ স্থির রাখার শত চেষ্টা করেও বারবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মনস্থির ফিরিয়ে আনলেও আবার হারিয়ে যায়। এক্ষেত্রে অনেকের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে নামাজে মনোযোগ স্থির করার বা বাড়ানোর পদ্ধতি কী? নামাজে একাগ্রতা, মনোযোগ, গভীর মনোনিবেশ ও ঐকান্তিকতা তৈরির কিছু পরামর্শ দেয়া হলো। সে অনুযায়ী, অনুশীলন করলে আশা করা যায়, নামাজে অমনোযোগিতা আর থাকবে না। শেষ নামাজ মনে করা নামাজে দাঁড়ানোর সময় আপনি যদি চিন্তা করেন, এটিই আমার শেষ নামাজ। আর কখনো আমি আল্লাহর সামনে নামাজের জন্য দাঁড়ানোর সুযোগ পাবো না। কখনো আল্লাহর কাছে গুনাহের ক্ষমা চাইতে পারবো না। তাহলে এই নামাজ খুবই প্রাণবন্ত হবে। হৃদয় দিয়ে নামাজের স্বাদ অনুভব করা যাবে। প্রতিটি আমল ধীরস্থিরভাবে আদায় নামাজের সবগুলো আমল ধীরে-সুস্থে ও স্থিরতার সঙ্গে আদায় করলে, নামাজের মনোযোগ স্থির থাকে। একাগ্রতার সঙ্গে রুকু, আত্মসমর্পিত হয়ে সিজদা, দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসা ইত্যাদি নামাজের প্রাণ সৃষ্টি করে। তাই যতদূর সম্ভব ধীরে-সুস্থে ও শান্ত-শিষ্টভাবে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করুন। দেখবেন, নামাজে মনোযোগ বাড়ছে। প্রতিটি আমলে সতর্কতা নামাজ শুরু করলে পরিপূর্ণভাবে সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি। প্রতিটি আমল গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা উচিত, কোনটি কী কারণে এবং কোন উদ্দেশ্যে মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর সম্মুখে আপনি দাঁড়িয়েছেন। সম্ভব হলে নামাজের মধ্যে এমন পূর্ণাঙ্গ অনুভব ও ধ্যান রাখুন, আপনি যেনো মহাল আল্লাহকে দেখছেন, তার সামনে নতজানু হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এ রূপ চিন্তা বা অনুভব করতে না পারলে অন্তত এতটুকু ভাবুন যে, তিনি আপনার প্রতিটি কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন। তার কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে। (ইবাদতে এমন ভাব আনার কথা হাদিসে উল্লেখ হয়েছে।) জেনে বুঝে পড়ার চেষ্টা করা নামাজরত অবস্থায় যা কিছু পড়া হয়, সেগুলোর অর্থ শিখে নেয়ার চেষ্টা করা। পঠিত আয়াত ও তাসবিদগুলোর (কেরাত) অর্থ জানলে এবং অর্থের প্রতি খেয়াল রাখলেও নামাজে মনোযোগ বাড়ে। স্থিরতা ও একাগ্রতা সৃষ্টি হয়। ফলে এ রূপ করতে পারলে নামাজে স্বাদ পাওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক অন্তরঙ্গ ও সুনিবিড় হবে।   আরও পড়ুন : সমালোচনা নয়, ইসলাম চায় সংশোধন ঋণ থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়া পড়তে হয় এমকে
নামাজে মনোযোগ আসবে যেভাবে
মানবতার মঙ্গল কামনায় বড়দিন উদযাপন
মানবতার মঙ্গল কামনা আর শান্তি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। আজ মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার গির্জায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে চলে নানা অনুষ্ঠান। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জপমালা রাণীর গির্জায় ভোর সাড়ে ৬টায় প্রথম প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি কাকরাইল, মণিপুরীপাড়া, মিরপুর, সদরঘাট, মহাখালী, বারিধারা, সাভারসহ অন্যান্য গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। ভোর থেকেই প্রার্থনায় যোগ দিতে বিভিন্ন গির্জায় মানুষের ঢল নামে। সকাল ৭টা থেকে রাজধানীর কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথিড্রালে খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় উপাসনার মাধ্যমে দিনটির শুভ সূচনা করছেন। সেন্ট মেরিস ক্যাথিড্রালের ভারপ্রাপ্ত ফাদার নয়ন ঘোষাল সকাল সাতটা থেকে এ প্রার্থনার মাধ্যমে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেন। বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন। এদিকে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা, কাকরাইল সেন্ট মেরি ক্যাথিড্রাল চার্চ, মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সেজেছে রঙিন সাজে। গির্জার প্রবেশপথে সাজানো হয়েছে ক্রস ও শুভেচ্ছা কার্ডসহ উপহারসামগ্রী বিক্রির দোকান। এছাড়া রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, হোটেল কন্টিনেন্টাল, দ্য ওয়েস্টিন ও ঢাকা রিজেন্সি হোটেল সাজানো হয়েছে রঙিন বাতি, বেলুন, ক্রিসমাস ট্রি আর ফুল দিয়ে। আজ দিনভর হোটেলগুলোতে চলবে আনন্দ-উৎসব। এদিকে, বড়দিনের উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর গির্জাগুলোয় পুলিশ-আনসার ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পি
মানবতার মঙ্গল কামনায় বড়দিন উদযাপন
আজ শুভ বড়দিন
আজ শুভ বড়দিন। এই দিনে বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট। দিনটি তাই খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হয়। বাংলাদেশেও এ ধর্মের অনুসারীরা ব্যাপক উৎসাহ ও নানা আয়োজনে উৎসবটি পালন করে। বাংলাদেশে আজ সরকারি ছুটির দিন। যিশুখ্রিষ্টের জন্ম কবে হয়েছিল, তা নিয়ে মতভেদ আছে। তবে চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমা চার্চ ২৫ ডিসেম্বর তার জন্মদিন পালন শুরু করে। পরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোতেও এই প্রথা চালু হয়। সময়ের দিক থেকে ২৫ ডিসেম্বর দিনটি বড় নয়, তবে বড় হিসেবে পরিচিত হয়েছে। যিশুখ্রিষ্ট এদিন জগতে আসার মধ্য দিয়ে ২৫ ডিসেম্বরকে মহৎ করেছেন বা ‘বড়’করেছেন। ‘বড়দিন’ তাই বিশ্বাস-ভালোবাসা ও ক্ষমার চেতনায় ‘বড়’ হওয়ার দিন বলে মনে করেন তার অনুসারীরা। আজ সব খ্রিষ্টান পরিবারে ভালো খাবার রান্না হবে, বিশেষ করে কেক থাকবেই। ধর্মীয় গানের পাশাপাশি হবে প্রার্থনাসভাও। আজ খ্রিষ্টানদের কবরস্থানগুলোতে মোমবাতি জ্বালাবেন স্বজনরা। এদিনে কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো, গির্জা ও বাড়ি সাজানো এবং প্রীতিভোজের আয়োজন করবেন তারা। আগের দিন রাতে শিশুরা সান্তাক্লজের কাছ থেকে পায় বিশেষ উপহার। ক্রিসমাস ট্রি সাজানো এ উৎসবের একটি বড় অনুষঙ্গ। বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন। এ দিকে বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা, কাকরাইল সেন্ট মেরি ক্যাথিড্রাল চার্চ, মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সেজেছে রঙিন সাজে। গির্জার প্রবেশপথে সাজানো হয়েছে ক্রস ও শুভেচ্ছা কার্ডসহ উপহারসামগ্রী বিক্রির দোকান। এ দিকে বড়দিনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, হোটেল কন্টিনেন্টাল, দ্য ওয়েস্টিন ও ঢাকা রিজেন্সি হোটেল সাজানো হয়েছে রঙিন বাতি, বেলুন, ক্রিসমাস ট্রি আর ফুল দিয়ে।  আজ মঙ্গলবার দিনভর হোটেলগুলোতে চলবে আনন্দ-উৎসব। রাতে কেক কাটা ও প্রার্থনার পর সকালে গির্জায় একত্রিত হবেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। সকালের প্রার্থনার পর বাড়িতে ফিরে ছোটরা বড়দের আশীর্বাদ নেবে এবং আনন্দে মেতে উঠবে। এভাবেই বড়দিনের আনন্দ সবাই ভাগাভাগি নেবেন ধনী-গরীব নির্বিশেষে। পি
আজ শুভ বড়দিন
সমালোচনা নয়, ইসলাম চায় সংশোধন
কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ বর্ণনা করাই হলো পরনিন্দা বা পরসমালোচনা। পরনিন্দা ও অপরের সমালোচনা নিকৃষ্ট অভ্যাস। শরিয়তের পরিভাষায় এমন অনৈতিক চর্চাকে ‘গিবত’ বলা হয়। যার দোষ বর্ণনা করা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে যদি সেই দোষ তার মধ্যে থাকে তাহলে তা গিবত হবে। আর যদি না থাকে, তাহলে তা অপবাদ হিসেবে গণ্য হবে। অপবাদ গিবতের চেয়েও নিকৃষ্ট ও ঘৃণীত। গিবত শুধু মুখে বলার দ্বারা হয় তা নয়, বরং ইশারা-ইঙ্গিত ও অঙ্গভঙ্গির দ্বারাও গিবত হয়। গিবত শ্রবণ করা গিবত করার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। দুটিই সমান অপরাধ। জীবিত ও মৃত উভয় ধরনের মানুষের গিবত করা হারাম। গিবত শুধু একটি জঘন্যতম গুনাহ নয়। বরং এটি মানুষের ঈমান-আমলকে ধ্বংস করে দেয়। দুনিয়া ও আখিরাতকে বরবাদ করে দেয়। কুরআন ও হাদিসে এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা অনুমান ও ধারণা (করে কথা বলা) থেকে বেঁচে থাকো। কেননা অনুমান করে কথা বলা সবচেয়ে বড় মিথ্যা।’ (বুখারি, হাদিস নং: ২২৮৭) আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘পেছনে ও সামনে প্রত্যেক পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ-ধ্বংস।’ (সুরা হুমাজাহ, আয়াত : ০১) আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের অন্য জায়গায় ইরশাদ করেন, ‘তোমরা একে অন্যের দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করো না এবং পরস্পর গিবত করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? বস্তুত, তোমরা তা ঘৃণাই কর। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)। দুঃখের কথা হলো, আমাদের সমাজের সিংহভাগ মানুষ এ জঘন্য কাজে জড়িত। এমন লোক খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য যে গিবতের সাথে জড়িত নয়। ঘরবাড়ি, অফিস-কারখানা, রাস্তাঘাট সবখানে গিবত বা পরনিন্দার চর্চা হচ্ছে জোরেশোরে। আল্লাহ তায়ালা এ ধরনের লোক থেকে দূরে থাকতে আদেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর তুমি আনুগত্য করো না এমন প্রত্যেক ব্যক্তির, যে অধিক কসমকারী, লাঞ্ছনা, পেছনে নিন্দাকারী ও যে চোগলখোরি করে বেড়ায়, ভালো কাজে বাধাদানকারী, সীমা লঙ্ঘনকারী, পাপিষ্ঠ।’ (সুরা ক্বালাম : ১০-১৩) রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন দুনিয়ায়ই তার নিকট ক্ষমা চেয়ে নেয়- ওই দিন আসার আগে, যেদিন তার কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। সেদিন তার কোনো নেক আমল থাকলে সেখান থেকে জুলুমের সমপরিমাণ তার থেকে কর্তন করে নেওয়া হবে। আর তার কোনো নেক আমল না থাকলে মজলুমের গুনাহের কিছু অংশ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। (বোখারি, হাদিস নং: ২২৮৭) কখনো অহংকার, ক্রোধ ও সম্মানের মোহ থেকে গিবত সৃষ্টি হয়। আবার কখনো হিংসা থেকে গিবতের সূত্র তৈরি হয়। যেভাবেই হোক গিবত চরম নিকৃষ্ট ও ঘৃণীত অপরাধ। ইসলামের শিক্ষা হলো, কারো কোনো দোষ-ত্রুটি নজরে পড়লে আপোষে জানিয়ে দেয়া। শুধরে দেয়ার চেষ্টা করা। গিবত থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক। কারো দোষ বর্ণনা না করে, শুধরে দেয়াই বাঞ্চনীয়। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আরও পড়ুন : শপথ ভঙ্গকারীকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে ঋণ থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়া পড়তে হয় এমকে
সমালোচনা নয়, ইসলাম চায় সংশোধন
শপথ ভঙ্গকারীকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে
শপথ বা অঙ্গীকার ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে কথা দিলে বা ওয়াদা দিলে তা রক্ষা করতে হবে। ওয়াদা ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামতে কঠোর শাস্তি অপেক্ষা করছে। অনেকে ওয়াদা করেন মাজার বা পীর অথবা সন্তান বা কারো মাথা ছুঁয়ে। এরকম কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে স্বাক্ষী বা হাজির নাজির রেখে কোনও শপথ, ওয়াদা বা অঙ্গীকার করা যাবে না। কেউ তা করলে তা শিরক হবে। এবিষয়ে হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করে, সে অবশ্যই কুফরি বা শিরক করল।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ১৫৩৫) শপথ আল্লাহ তাআলার নামে করতে হয়। কিন্তু কেউ কুরআন স্পর্শ করে শপথ করলে, সে শপথ রক্ষা করতে হবে। কারণ কুরআন আল্লাহর তাআলার পবিত্র কালাম। তাই এভাবে শপথ করাও এক ধরনের কসম। কেউ যদি এভাবে কসম করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা পূরণ করতে হবে। কুরআন আল্লাহ তাআলার পবিত্র কালাম হওয়ার কারণে কুরআনের মর্যাদা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করা যাবে না। আল্লাহর নামে কসম করলে যেমন তার মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি, তেমনি কুরআন ছুঁয়ে শপথ করলেও এর মর্যাদা রক্ষা করা আবশ্যক। কোনো ব্যক্তি আল্লাহর নামে করা শপথ ভঙ্গ করলে ‘কাফফারা’ স্বরূপ তিনটি কাজের যেকোনো একটি করতে হবে। এক. ১০ জন দরিদ্রকে মধ্যম শ্রেণির খাদ্য সকাল-বিকেল দুই বেলা খাওয়াতে হবে। এটি অর্থমূল্যে দিতে চাইলে প্রত্যেককে পৌনে দুই কেজি গম বা তার অর্থমূল্য দিতে হবে। দুই. ১০ জন দরিদ্রকে ন্যূনতম ‘সতর ঢাকা’ (শরীরের যতটুকু অংশ ঢাকতে হয়) পরিমাণ পোশাক-পরিচ্ছদ দান করতে হবে। তিন. ক্রীতদাস থাকলে একজনকে মুক্ত করে দিতে হবে। কেউ যদি এ আর্থিক কাফফারা দিতে সমর্থ্য না হয়, তার জন্য কাফফারা হলো তিনটি রোজা রাখা। হানাফি মাজহাব মতে, ওই রোজা ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে। কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে কসম করে, তাহলে তার কাফফারা হলো কালেমা ত্বাইয়েবা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি শপথ করতে গিয়ে লাত ও উজজার (আরবের মূর্তির) নামে শপথ করে বসে, সে যেন বলে, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস : ৩৪০৯) অহেতুক ও অপ্রয়োজনে শপথ করা ইসলাম সমর্থন করে না। আবার শপথ ভঙ্গ করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। শপথ ভঙ্গ করলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। তাই শপথ করার ক্ষেত্রে অত্যধিক শতর্ক থাকা জরুরি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ওয়াদা পালনকারী। তিনি তার উম্মতদের এ ব্যাপারে শিক্ষা দিয়েছেন। বুখারি শরিফের হাদিসে বর্ণিত, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার মধ্যে চারটি দোষ থাকবে সে মুনাফিক আর যার মধ্যে এর কোনো একটি দোষ থাকবে সেও মুনাফিক- যতক্ষণ সে তা বর্জন না করে। ১. যখন কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, ২. তার কাছে আমানত রাখলে খিয়ানত করে, ৩. কোনো ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, ৪. কারও সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লে সীমা লঙ্ঘন করে। এমকে
শপথ ভঙ্গকারীকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে