ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বিক্রয়ের জন্য নহে’ লেখা পণ্য কেনাবেচা করা কি বৈধ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ছবি: পেক্সেলস

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মালামাল কখনও কখনও ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি হতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার বা পাবলিক হাসপাতালের ওষুধও বিক্রি হয়ে যায়। অথচ এগুলোর গায়ে লেখা থাকে ‘নট ফর সেল অর এক্সচেঞ্জ’ বা ‘বিক্রয়ের জন্য নহে’।

বাজারদরের তুলনায় কম দামে পাওয়া গেলে অনেকে সেটিকে ভালো সুযোগ মনে করে কিনে ফেলেন। প্রশ্ন হলো, বিক্রেতা কি শরিয়তসম্মতভাবে সেটি বিক্রি করার অধিকার রাখেন? আর ক্রেতার জন্যও কি তা কেনা বৈধ?

সরকারি মাল ব্যক্তিগত সম্পদ নয়
সরকারি সম্পদ রাষ্ট্রের অধীন ও জনস্বার্থমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সেগুলোর দেখভাল কিংবা বিতরণের দায়িত্ব পেলেই মালিক হয়ে যান না। তিনি মূলত দায়িত্বশীল ও আমানতদার।

ইসলাম আমানতের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা আমানতগুলো তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮)

ইসলামি আইন শাস্ত্রে প্রতিনিধিত্বের একটি মূলনীতি হলো, যে পরিমাণ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে, প্রতিনিধি তার সীমার মধ্যেই তা প্রয়োগ করতে পারেন। কর্তৃত্ব যতটুকু, বৈধ অধিকার ততটুকুই। (আলাউদ্দিন কাসানি, বাদায়েউস সানায়ে ফি তারতিব আশ–শারায়ে, ৭/৪২৪, দারুল হাদিস, কায়রো, ২০০৫)

রাষ্ট্রীয় পণ্য কেনাবেচার বিধান
শরিয়তসম্মত কেনাবেচার মৌলিক শর্ত হলো, বিক্রেতার বস্তুটির ওপর বৈধ মালিকানা বা মালিকের অনুমতি থাকা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যা তোমার কাছে (মালিকানায়) নেই, তা বিক্রি করো না।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫০৩)

উপরোক্ত হাদিস ও শর্তের আলোকেই রাষ্ট্রীয় সামগ্রী কেনাবেচার বিধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারের বরাদ্দকৃত মালামাল ব্যক্তিগতভাবে বিক্রির অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নেই। বস্তুটি পুরোনো, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত বা নতুন মাল আসায় অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেলেও একই বিধান প্রযোজ্য।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো অফিসে পড়ে থাকা পুরোনো কম্পিউটার একজন কর্মচারী পরিচিতজনের কাছে কম দামে বিক্রি করলেন। ক্রেতা যদি জানেন যে, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর তা বিক্রি করার অনুমতি নেই, তাহলে শুধু সস্তা দামের কারণে তা কেনা তাঁর জন্য বৈধ হবে না।

শুধু কেনাবেচা নয়, অনুমতি ছাড়া অফিসের সম্পদ বাড়িতে নেওয়া, ব্যক্তিগত কাজে লাগানো বা কাউকে দিয়ে দেওয়াও একই ধরনের আমানতের লঙ্ঘন। (ইবনে নুজাইম মিসরি, আল–বাহরুর রায়েক শারহু কানজ আদ–দাকায়েক, ৬/১১৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৯৭)

বৈধ নিলাম আর গোপন বিক্রি এক নয়
তবে সব রাষ্ট্রীয় সামগ্রী চিরকাল অবিক্রেয়, বিষয়টি এমন নয়। কোনো সম্পদ পুরোনো, অকেজো বা উদ্বৃত্ত হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ বিধিসম্মত পদ্ধতিতে নিলাম, টেন্ডার বা অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় তা বিক্রি করতে পারে। তখন যথাযথ অনুমোদন ও কর্তৃত্ব প্রয়োগ থাকায় বিষয়টি ভিন্ন।

অতএব, নিষেধের কারণ শুধু সম্পদটি সরকারি হওয়া নয়; বরং যার হাতে সম্পদটি রয়েছে, তার বিক্রির বৈধ কর্তৃত্ব আছে কি না, মূল প্রশ্নটি সেখানে। (আলাউদ্দিন কাসানি, বাদায়েউস সানায়ে ফি তারতিব আশ–শারায়ে, ৭/৪২৪, দারুল হাদিস, কায়রো, ২০০৫)

জেনেশুনে কিনলে ক্রেতারও দায় থাকে
ক্রেতা যদি জানেন যে, সম্পদটি অননুমোদিতভাবে বিক্রি হচ্ছে, তবু সস্তার লোভে কিনে নেন, তাহলে তিনি নিছক ক্রেতা হিসেবে দায়মুক্ত থাকতে পারবেন না। তাঁর অর্থ প্রদান বিক্রেতাকে অবৈধভাবে সম্পদ হাতছাড়া করতে সহায়তা করেছে।

সুতরাং জেনেশুনে এমন কেনাবেচায় অংশ নেওয়া পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ২)

পরে জানতে পারলে কী করবেন
কেউ যদি কোনো পণ্য কেনার সময় বিষয়টি না জানেন এবং পরে জানতে পারেন যে, সেটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ছিল এবং বিক্রেতার তা বিক্রি করার বৈধ অনুমতি ছিল না, তাহলে তা নিজের কাছে রাখা বৈধ হবে না।

তাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের কাছে তা ফেরত দিতে হবে এবং বিক্রেতার কাছ থেকে নিজের প্রদত্ত মূল্য ফেরত নিতে হবে।

কারণ, জনসাধারণের সম্পদের অধিকার জনসাধারণের জন্যই প্রতিষ্ঠিত, কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ নিজের ইচ্ছায় সে অধিকার বাতিল করে অন্য কাউকে তার মালিক বানিয়ে দিতে পারেন না। (শামসুদ্দিন সারাখসি, আল–মাবসুত, ২৩/২০৩, দারুল মারিফাহ, বৈরুত, ১৯৮৯)

যদি ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয়, যেমন তা নষ্ট হয়ে গেছে, ব্যবহার হয়ে গেছে বা অন্য কোনো কারণে ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই, তাহলে তার সমজাতীয় বস্তু ফেরত দিতে হবে। সেটিও সম্ভব না হলে তার মূল্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বৈধ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

আরও পড়ুন

অন্যায়ভাবে দখল করা সম্পদের ক্ষেত্রে মূল বস্তু ফেরত দেওয়াই বিধান; তা সম্ভব না হলে সমজাতীয় বস্তু, আর তা–ও সম্ভব না হলে তার মূল্য দেওয়ার বিধান রয়েছে। (আলাউদ্দিন কাসানি, বাদায়েউস সানায়ে ফি তারতিব আশ–শারায়ে, ১০/২২, দারুল হাদিস, কায়রো, ২০০৫)

লেখক: ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, ঢাকা

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি প্রদেশের দোগুবেয়াজিত জেলায় জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে গবেষণা। অনেকের বিশ্বাস, এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ। সম্প্রতি সেখানে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল। তবে এখনই নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। গবেষক দলের উপপ্রধান ও মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস জানান, অনুসন্ধানের সময় কাঠামোটির বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ভূগর্ভের নমুনা নেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির নিচে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উঠে এসেছে কাঠামোটি কোনো একক পাথরের খণ্ড নয়। আগে ধারণা করা হয়েছিল, শক্ত কোনো পাথর দীর্ঘদিনের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় জাহাজের মতো আকৃতি ধারণ করেছে। কিন্তু কোর ড্রিলিংয়ের সময় বিভিন্ন গভীরতা থেকে ধারাবাহিকভাবে মাটির নমুনা পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ যে কাঠামোটি মানুষের তৈরি, এমন সিদ্ধান্তেও এখনই পৌঁছানো যাচ্ছে না। জোনস বলেন, ভূগর্ভে পাওয়া গাঢ় রঙের মাটি বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি পচে যাওয়া কাঠের অবশেষ কি না, নাকি অন্য কোনো প্রাকৃতিক বা মানবিক কর্মকাণ্ডের ফল ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর তা জানা যাবে। গত আগস্টে পরিচালিত রাডার স্ক্যানেও কাঠামোর নিচে কিছু অস্বাভাবিক বস্তু বা গঠনের সংকেত পাওয়া গেছে। গত মে মাসে শুরু হওয়া সর্বশেষ গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী এতে অংশ নেন। তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় টানা প্রায় ৯০ দিন ধরে চলে মাঠপর্যায়ের কাজ। গবেষকরা ওই এলাকার ভূখণ্ডের বিস্তারিত মডেল তৈরি করতে ড্রোন ব্যবহার করেন। মাটির নিচের গঠন শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় আধুনিক রাডার ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কোর ড্রিলিংও করা হয়। এসব নমুনা ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। নূহ (আ.)-এর নৌকার সঙ্গে এই কাঠামোর সম্পর্কের দাবি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তুরস্কের ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলে বিমান থেকে জরিপ চালানোর সময় প্রথম কাঠামোটির সন্ধান পান। এরপর থেকেই এটি নিয়ে তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের আগ্রহ তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্ড্রু জোনস। তিনি বলেন, গবেষণার কাজ এখনো শেষ হয়নি। রাডার থেকে পাওয়া তথ্য, মাটির নমুনা ও কোর ড্রিলিংয়ের ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে এ গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারে। অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত গবেষকদের হাতে রয়েছে কিছু অস্বাভাবিক ভূগর্ভস্থ গঠন ও মাটির নমুনা কিন্তু এগুলো নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ, এমন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এসকে
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
শেষ রাতে যে আমলে মেলে আল্লাহর নৈকট্য
রাতের নির্জন সময়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হওয়ার অন্যতম উত্তম মাধ্যম তাহাজ্জুদ নামাজ। ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আদায় করা এই নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। একই সঙ্গে গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধিরও সুযোগ রয়েছে।
শেষ রাতে যে আমলে মেলে আল্লাহর নৈকট্য
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
২০২৭ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে। আর ঈদুল ফিতর হতে পারে ১০ মার্চ। তবে রমজান ও ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হবে চাঁদ দেখার ওপর।
২০২৭ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
এবার ঢাকা দখলে নেওয়ার হুমকি অটোরিকশা চালকদের
এবার প্রতারক স্বামীর খোঁজে হবিগঞ্জে ভারতীয় নারী
নওগাঁয় খ্রিষ্টান ধর্ম ছেড়ে একই পরিবারের ৫ জনের ইসলাম গ্রহণ
নওগাঁয় দ্বিতীয় দিনের মতো বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ