ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

মদিনায় পৌঁছে নগরবাসীকে মহানবী (সা.)-এর প্রথম বার্তা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা থেকে মদিনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরত ছিল শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাওয়া নয় বরং এর মধ্য দিয়ে একটি আদর্শ, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থার ঐতিহাসিক সূচনা হয়। নানা ধর্ম ও গোত্রের মানুষের বসবাস ছিল মদিনায়। বিশেষ করে আউস ও খাজরাজ গোত্র দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধ-বিগ্রহে ক্লান্ত ছিল।

এমন এক সময়ে মদিনায় পৌঁছে মহানবী (সা.) নগরবাসীর সামনে যে বার্তা তুলে ধরেছিলেন, তাতে সামাজিক শান্তি, মানবিকতা ও আত্মিক উন্নতির চারটি মৌলিক নির্দেশনা উঠে আসে।

মদিনার ইহুদি পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.), যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করেন, বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় পৌঁছানোর পর মানুষ তার দর্শনের জন্য ভিড় জমায়। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারা দেখেই তার অন্তরে বিশ্বাস জন্ম নেয় এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না।

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) সমবেত মানুষের উদ্দেশে বলেন, হে লোকসকল, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, সালামের প্রসার ঘটাও, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো এবং মানুষ যখন গভীর ঘুমে থাকে, তখন নামাজ আদায় করো। তাহলে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৮৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ভিত্তি তুলে ধরা হয়েছে।

ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া

একটি স্থিতিশীল ও মানবিক সমাজের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে খাবার দেওয়া ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সামাজিক কল্যাণকে শুধু ব্যক্তিগত দান-সদকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। সমাজের অসহায় ও অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াকে তিনি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

সালামের প্রসার

সালাম ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সৌজন্য। পরিচিত-অপরিচিত সবার মধ্যে সালামের প্রচলন পারস্পরিক ভালোবাসা, আস্থা ও সম্প্রীতি বাড়ায়।

আসসালামু আলাইকুম’ শুধু একটি সম্ভাষণ নয় এর মাধ্যমে অন্যের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার দোয়া করা হয়। ফলে নিয়মিত সালামের চর্চা মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে।

আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা

পরিবার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক একটি সুস্থ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আত্মীয়তার বন্ধন দুর্বল হলে মানুষের সামাজিক নিরাপত্তাবোধও কমে যায়।

ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, স্বজনদের খোঁজখবর নেওয়া এবং বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সা.)-এর প্রথম দিকের এই নির্দেশনাতেও সামাজিক ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাতে নামাজ আদায়

সামাজিক দায়িত্বের পাশাপাশি মহানবী (সা.) মানুষের আত্মিক উন্নতির দিকটিও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এমন সময়ে নামাজ আদায়ের কথা বলেছেন, যখন অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে থাকে।

রাতের ইবাদত বা তাহাজ্জুদ মানুষের অন্তরে আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করে। আত্মিক শক্তি ও আল্লাহভীতি মানুষের নৈতিক চরিত্রকে দৃঢ় করে এবং তাকে অন্যের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের চার ভিত্তি

মদিনায় মহানবী (সা.)-এর প্রথম বার্তার দিকে তাকালে দেখা যায়, এর একদিকে রয়েছে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ ও সামাজিক সম্প্রীতি, অন্যদিকে রয়েছে পারিবারিক বন্ধন এবং আত্মিক উন্নয়ন।

ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, সালামের প্রসার ঘটানো, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাতের ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা এই চার নির্দেশনার মধ্য দিয়ে মহানবী (সা.) ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণের একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ দেখিয়েছেন।

মদিনায় ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে দেওয়া এই বার্তা তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়; মানবিকতা, সম্প্রীতি ও নৈতিক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
রাসূলের শিক্ষায় পরিচালিত হলে পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
শত্রুকেও ক্ষমা করতেন রাসুল (সা.)
মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি, নেই থাকা-খাওয়ার টাকা