ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মদিনায় পৌঁছে নগরবাসীকে মহানবী (সা.)-এর প্রথম বার্তা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা থেকে মদিনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরত ছিল শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাওয়া নয় বরং এর মধ্য দিয়ে একটি আদর্শ, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থার ঐতিহাসিক সূচনা হয়। নানা ধর্ম ও গোত্রের মানুষের বসবাস ছিল মদিনায়। বিশেষ করে আউস ও খাজরাজ গোত্র দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধ-বিগ্রহে ক্লান্ত ছিল।

এমন এক সময়ে মদিনায় পৌঁছে মহানবী (সা.) নগরবাসীর সামনে যে বার্তা তুলে ধরেছিলেন, তাতে সামাজিক শান্তি, মানবিকতা ও আত্মিক উন্নতির চারটি মৌলিক নির্দেশনা উঠে আসে।

মদিনার ইহুদি পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.), যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করেন, বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় পৌঁছানোর পর মানুষ তার দর্শনের জন্য ভিড় জমায়। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারা দেখেই তার অন্তরে বিশ্বাস জন্ম নেয় এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না।

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) সমবেত মানুষের উদ্দেশে বলেন, হে লোকসকল, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, সালামের প্রসার ঘটাও, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো এবং মানুষ যখন গভীর ঘুমে থাকে, তখন নামাজ আদায় করো। তাহলে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৮৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ভিত্তি তুলে ধরা হয়েছে।

ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া

একটি স্থিতিশীল ও মানবিক সমাজের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে খাবার দেওয়া ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সামাজিক কল্যাণকে শুধু ব্যক্তিগত দান-সদকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। সমাজের অসহায় ও অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াকে তিনি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

সালামের প্রসার

সালাম ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সৌজন্য। পরিচিত-অপরিচিত সবার মধ্যে সালামের প্রচলন পারস্পরিক ভালোবাসা, আস্থা ও সম্প্রীতি বাড়ায়।

আসসালামু আলাইকুম’ শুধু একটি সম্ভাষণ নয় এর মাধ্যমে অন্যের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার দোয়া করা হয়। ফলে নিয়মিত সালামের চর্চা মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে।

আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা

পরিবার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক একটি সুস্থ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আত্মীয়তার বন্ধন দুর্বল হলে মানুষের সামাজিক নিরাপত্তাবোধও কমে যায়।

ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, স্বজনদের খোঁজখবর নেওয়া এবং বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সা.)-এর প্রথম দিকের এই নির্দেশনাতেও সামাজিক ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাতে নামাজ আদায়

সামাজিক দায়িত্বের পাশাপাশি মহানবী (সা.) মানুষের আত্মিক উন্নতির দিকটিও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এমন সময়ে নামাজ আদায়ের কথা বলেছেন, যখন অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে থাকে।

রাতের ইবাদত বা তাহাজ্জুদ মানুষের অন্তরে আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করে। আত্মিক শক্তি ও আল্লাহভীতি মানুষের নৈতিক চরিত্রকে দৃঢ় করে এবং তাকে অন্যের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের চার ভিত্তি

মদিনায় মহানবী (সা.)-এর প্রথম বার্তার দিকে তাকালে দেখা যায়, এর একদিকে রয়েছে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ ও সামাজিক সম্প্রীতি, অন্যদিকে রয়েছে পারিবারিক বন্ধন এবং আত্মিক উন্নয়ন।

ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, সালামের প্রসার ঘটানো, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাতের ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা এই চার নির্দেশনার মধ্য দিয়ে মহানবী (সা.) ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণের একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ দেখিয়েছেন।

মদিনায় ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে দেওয়া এই বার্তা তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়; মানবিকতা, সম্প্রীতি ও নৈতিক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এআই দিয়ে ভিডিও তৈরির বিষয়ে মুসলিমদের সতর্ক করলেন মক্কার ইমাম
মানুষকে প্রতারিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি ও কণ্ঠ নকল করা হারাম বলে সতর্ক করেছেন পবিত্র মক্কার মসজিদ আল-হারামের ইমাম শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার খুতবায় এ বিষয়ে সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করেন তিনি। একইসঙ্গে প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি। ভুয়া তথ্য ছড়ানো, ভিডিও জালিয়াতি এবং মানুষের কণ্ঠ নকলের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করে শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস বলেন, এ ধরনের প্রতারণামূলক কাজকে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী নিষিদ্ধ ও মিথ্যাচারের অন্তর্ভুক্ত। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যকে প্রতারিত করা, কারো রূপ ধারণ করা অথবা কেউ দেয়নি— এমন মিথ্যা বক্তব্য তার ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে কঠিনভাবে সতর্ক করেন তিনি। শায়খ সুদাইস অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সরাসরি নিন্দা করেননি। বরং তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়াকে মহান আল্লাহর নিয়ামত। এগুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং ভালো বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা উচিত। পবিত্র মক্কার এই ইমাম একইসঙ্গে বলেন, যাচাইহীন তথ্য গুজবকে উসকে দেয়, পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ করে এবং জনসাধারণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন আরটিভি/এসএইচএম
এআই দিয়ে ভিডিও তৈরির বিষয়ে মুসলিমদের সতর্ক করলেন মক্কার ইমাম
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
‘বাপের বাড়িতে চলে যাও’ বললে কি তালাক হয়ে যায়?
প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন, আমি তালাকসংক্রান্ত একটি মাসআলা জানতে চাই। কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে বলেন, ‘তুই তোর বাবার বাড়িতে চলে যা, তোর সঙ্গে সংসার করব না’, তাহলে কি তালাক হয়ে যাবে? জবাবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম বলেন, স্বামী যদি ‘তুই তোর বাবার বাড়িতে চলে যা’—এই কথাটি তালাকের নিয়তে বলে থাকেন, তাহলে এর মাধ্যমে এক তালাকে বায়েন সংঘটিত হবে এবং বিবাহের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে তারা আবার একসঙ্গে সংসার করতে চাইলে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন মহর নির্ধারণ করে নতুনভাবে বিবাহ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এর আগে কোনো তালাক না দিয়ে থাকলে নতুন বিবাহের পর স্বামীর কাছে আরও দুই তালাকের অধিকার অবশিষ্ট থাকবে। অন্যদিকে, স্বামী যদি তালাকের নিয়ত ছাড়া কথাটি বলে থাকেন, তাহলে কোনো তালাক সংঘটিত হবে না এবং বিবাহ বহাল থাকবে। তবে তালাকের নিয়ত ছিল কি না, সে বিষয়ে কসমসহ স্বামীর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে। الأدلة الشرعية البحر الرائق(৩/৩২৬):  ’’(قوله: اخرجي اذهبي قومي) لحاجة أو لأني طلقتك، قيد باقتصاره على اذهبي؛ لأنه لو قال: اذهبي فبيعي ثوبك لا يقع، وإن نوى، ولو قال: اذهبي إلى جهنم يقع إن نوى،كذا في الخلاصة، ولو قال: اذهبي فتزوجي، وقال: لم أنو الطلاق لم يقع شيء؛ لأن معناه تزوجي إن أمكنك وحل لك، كذا في شرح الجامع الصغير لقاضي خان‘‘. (فتاوی عالمگیری: ج:১، ص:৩৭৬) ولو قال لها اذهبي أي طريق شئت لا يقع بدون النية وإن كان في حال مذاكرة الطلاق …  (فتاوی عالمگیری: ج:1، ص: ৩৮৫) ولو قال لها مرا باتو كاري نيست وترا با من ني أعطيني ما كان لي عندك واذهبي حيث شئت لا يقع بدون النية كذا في الخلاصة… সূত্র: মুসলিম বাংলা আরটিভি/এসআর
‘বাপের বাড়িতে চলে যাও’ বললে কি তালাক হয়ে যায়?
২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র ১২১ দিন বাকি। এর মধ্যেই রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুসারে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার রমজান মাস শুরু হতে পারে। এবার রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে, যার ফলে আগামী ৯ মার্চ মঙ্গলবার কিংবা ১০ মার্চ বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। শনিবার (১০ অক্টোবর) আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ১১ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় খালি চোখে চাঁদের নতুন কলা দৃশ্যমান হতে পারে। এর ফলে ১২ অক্টোবর সোমবার থেকে ১৪৪৮ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এই হিজরি মাস শুরুর অর্থ হলো, পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র চার চন্দ্রমাস বাকি রইল। সরকারিভাবে চাঁদ দেখার সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার ফলে আগামী ৯ মার্চ মঙ্গলবার কিংবা ১০ মার্চ বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। আল জারওয়ান ব্যাখ্যা করে বলেন, ইসলামিক চন্দ্রবর্ষের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি বা জটিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ ছাড়াই এর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। চাঁদের অবয়বের পরিবর্তন লক্ষ্য করে মানুষ চাঁদের প্রথম কোলা, প্রথম চতুর্থাংশ এবং পূর্ণিমাসহ চন্দ্র মাসের বিভিন্ন পর্যায়গুলো চিহ্নিত করতে পারে। পরবর্তীতে চাঁদ ধীরে ধীরে ক্ষীয়মান হয়ে একপর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। দৃশ্যমান এই পর্যায়গুলো চন্দ্র মাসগুলোর হিসাব রাখার একটি প্রাকৃতিক উপায় সরবরাহ করে, যা ইসলামী ক্যালেন্ডারের ভিত্তি তৈরি করে। আরটিভি/এসআর
২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হিরা
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় পুরুষদের হিফজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা।
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হিরা
আরও পড়ুন
রাসূলের শিক্ষায় পরিচালিত হলে পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
শত্রুকেও ক্ষমা করতেন রাসুল (সা.)
মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি, নেই থাকা-খাওয়ার টাকা
মক্কা-মদিনার পবিত্র মসজিদের ইমামদের রমজান প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত