
২০৩০ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার পবিত্র রমজান মাস পেতে যাচ্ছেন বিশ্বের মুসলমানরা। জানুয়ারি ও ডিসেম্বর মাসে রমজান পড়ার সম্ভাবনা থাকায় ওই বছর দুই দফায় রোজা পালনের বিরল পরিস্থিতি তৈরি হবে। ইসলামী ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসাবের পার্থক্যের কারণেই এমনটি ঘটবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ৫ জানুয়ারি ১৪৫১ হিজরি সালের রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর শুরু হতে পারে ১৪৫২ হিজরি সালের রমজান। ফলে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান মাস পাওয়ার ঘটনা ঘটবে।
সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারির রমজানে ৩০ দিন এবং ডিসেম্বরের রমজানে ছয় দিন মিলিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৩৬ দিন রোজা পালিত হতে পারে। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজান শুরুর তারিখে পরিবর্তন আসতে পারে।
এর মূল কারণ হলো সৌর ও চান্দ্র বছরের মধ্যে সময়ের পার্থক্য। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সৌর বছরভিত্তিক, যেখানে এক বছর প্রায় ৩৬৫ দিন। অন্যদিকে, ইসলামী হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের আবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। একটি চান্দ্র বছর সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের হয়।
ফলে গ্রেগরিয়ান বছরের তুলনায় হিজরি বছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট। এ কারণে প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রমজান প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। এভাবে কয়েক দশক পর রমজান বছরের শুরুর দিকে এবং একই বছরের শেষ দিকে ফিরে আসতে পারে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান পড়েছিল। ২০৩০ সালের পর ২০৬৩ সালেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রমজান মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও নির্দিষ্ট কিছু কাজ থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন। বছরের কোন সময়ে রমজান পড়ছে, তার ওপর রোজার দৈর্ঘ্যও নির্ভর করে। শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য কম থাকায় অনেক অঞ্চলে রোজার সময় তুলনামূলক কম হয়। অন্যদিকে, গ্রীষ্মকালে কিছু অঞ্চলে দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হয়।
তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের মাধ্যমে রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানা গেলেও এর আনুষ্ঠানিক সূচনা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। দেশভেদে চাঁদ দেখার নিয়ম ও অনুসৃত পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে রমজান শুরুর তারিখ এক দিন এদিক-সেদিক হতে পারে।
আরটিভি/এসকে
