ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা কি পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক, জানুন ইসলামের বিধান

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা করছেন পুত্রবধূ । ছবি: কাল্পনিক

আমাদের সমাজে বিয়ের পর পুত্রবধূর ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা ও সংসারের নানা দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা করা হয়। অনেক পরিবারে ছেলের বিয়ের অন্যতম কারণ হিসেবেও মা-বাবার সেবা করানোর বিষয়টি দেখা যায়। কিন্তু ইসলামের বিধান কী? শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা কি পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক?

ইসলামিক আইন ও ফিকহের মৌলিক নীতির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জন্মদাতা মা-বাবার দেখাশোনা ও প্রয়োজনীয় খেদমত করার একক ও অপরিহার্য দায়িত্ব সন্তানের, কোনোভাবেই পুত্রবধূর নয় (আল-বাহরুর রায়েক : ৪/১৯৩; কিফায়াতুল মুফতি : ৫/২৩০)।

শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা করা পুত্রবধূর সদিচ্ছা ও মানবিকতার বিষয়। তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের সেবা করলে তা প্রশংসনীয় কাজ। তবে সেবা না করলেই তাকে ধর্মীয়ভাবে অপরাধী বলা যায় না।

মা-বাবার সেবার দায়িত্ব কার?

ইসলামে মা-বাবার প্রতি সদাচরণ ও তাদের দেখাশোনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সন্তানের মা-বাবার সেবার দায়িত্ব মূলত তাদের নিজের সন্তানের। ছেলের মা-বাবার প্রয়োজন হলে ছেলেকেই নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্ত্রীর ওপর জোর করে সেই দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

অবশ্য পুত্রবধূ যদি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির খোঁজখবর নেন, তাদের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করেন, তবে তা পরিবারের সম্পর্ককে সুন্দর করে। এমন আচরণ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা বাড়ায়।

স্ত্রীর আলাদা থাকার অধিকার আছে কি?

বিয়ের পর স্ত্রীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপদে বসবাসের অধিকার রয়েছে। হানাফি ফিকহের বহু আলেমের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্বামীর সামর্থ্য ও স্ত্রীর প্রয়োজন বিবেচনায় তার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিগত আবাসনের ব্যবস্থা করা স্বামীর দায়িত্ব। এর অর্থ সব পরিস্থিতিতে আলাদা বাড়ি দিতে হবে—এমন নয়; তবে স্ত্রীর ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

আর্থিক সামর্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি ও প্রচলিত রীতির ভিত্তিতে আবাসনের ধরন ভিন্ন হতে পারে। একই বাড়িতে থাকলেও স্ত্রীর ব্যক্তিগত পরিসর যেন অক্ষুণ্ন থাকে এবং তার ন্যায্য অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে স্বামীকে সচেতন থাকতে হবে।

শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে এক বাড়িতে থাকা নিজে থেকে অন্যায় নয়। বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস সুন্দর হতে পারে। তবে কারও ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করা পারিবারিক অশান্তির কারণ হতে পারে।

পুত্রবধূর প্রতি শ্বশুর-শাশুড়ির আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

ইসলাম শুধু দায়িত্ব ও অধিকারের কথাই বলে না; পারস্পরিক সদাচরণ, দয়া ও সম্মানের শিক্ষাও দেয়। তাই শ্বশুর-শাশুড়ির উচিত পুত্রবধূকে পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে সম্মান করা, তার ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও অনুভূতির প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করার চেষ্টা করা।

একইভাবে পুত্রবধূরও উচিত শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে ভদ্রতা ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করা। তবে সম্মান দেখানো আর সব ধরনের সেবার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া এক বিষয় নয়। পরিবারের সবার উচিত দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং একে অন্যের সীমাবদ্ধতা বোঝা।

সাহাবিদের জীবনেও রয়েছে আন্তরিকতার দৃষ্টান্ত

ইতিহাসে সাহাবিদের জীবনে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার বহু নিদর্শন পাওয়া যায়। সুনানে আবু দাউদের ৭৫ নম্বর হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, কাবশা বিনতে কাব বিন মালেক (রা.) ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু কাতাদা (রা.)-এর পুত্রবধূ। আবু কাতাদা (রা.) ঘরে প্রবেশ করে ওজুর পানি খুঁজলে কাবশা (রা.) স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে নিজ হাতে পানি ঢেলে দিয়েছিলেন।

এ বর্ণনায় কাবশা (রা.)-এর সহযোগিতার একটি ঘটনা পাওয়া যায়; তবে এটি পুত্রবধূর ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা বাধ্যতামূলক হওয়ার প্রমাণ নয়।

বাধ্যবাধকতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক শ্রদ্ধা

একটি সুন্দর পরিবার গড়ে ওঠে শুধু নিয়ম বা দায়িত্বের ওপর নয়, বরং ভালোবাসা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। বৃদ্ধ মা-বাবার যত্ন নেওয়া যেমন সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তেমনি পুত্রবধূর অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষা করাও জরুরি।

তাই শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাকে পুত্রবধূর ওপর জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত। পুত্রবধূ স্বেচ্ছায় সেবা করলে সেটিকে মূল্যায়ন করতে হবে, আর তিনি তা করতে না পারলে তার অধিকার ও মর্যাদার প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাই পারে পরিবারে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এবার যে কারণে সপ্তমী তিথি দুইদিন
পঞ্চমীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। তবে, এবছর সপ্তমী তিথি নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন অনেক ভক্ত। কারণ, পঞ্জিকা অনুযায়ী এবার সপ্তমী পড়েছে দুই দিন। 
এবার যে কারণে সপ্তমী তিথি দুইদিন
অন্যের গোপন তথ্য ফাঁস করলে যে শাস্তি দেবেন আল্লাহ
ব্যক্তি, সমাজ জীবনে সবারই গোপনীয়তা থাকে। গোপনীয়তার বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত। গোপনীয়তা ছাড়া কোনও মানুষই নেই বলতে গেলে। একান্ত আপনজনের কাছেও মানুষ অনেক কিছুই গোপন করে। আল্লাহ তায়ালাই মানুষকে এই অধিকার দিয়েছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অন্য কারো ব্যক্তিগত গোপন বিষয় ও দোষ খোঁজা নিন্দনীয়। অকারণে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় বিষয় নিয়ে গুপ্তচরের ভূমিকা পালন করা গুনাহ। অনুমতি ছাড়া কারো কথা শোনা এবং তথ্য ফাঁস করা এবং কারো বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করলে ভয়াবহ শাস্তি ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের কথা গুপ্তভাবে শুনল; অথচ সে তাদের কথাগুলো শুনুক তারা তা পছন্দ করছে না অথবা তারা তার অবস্থান টের পেয়ে তার থেকে দূরে পালিয়ে যাচ্ছে, কিয়ামতের দিন এ জন্য তার কানে সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৭০৪২) আরেকটি হাদিসে কথাটি আরো সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে, ‘হে লোকেরা, তোমরা যারা মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছ; অথচ ঈমান তোমাদের অন্তরে ঢোকেনি, তোমরা মুসলমানদের কষ্ট দিয়ো না। তাদের দোষ অনুসন্ধান করো না। কারণ যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের দোষ অনুসন্ধান করল, আল্লাহ তাআলা তার দোষ অনুসন্ধান করবেন। আর যার দোষ আল্লাহ তায়ালা অনুসন্ধান করবেন তাকে অবশ্যই তিনি লাঞ্ছিত করে ছাড়বেন, যদিও সে নিজ ঘরের অভ্যন্তরেই অবস্থান করুক না কেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০৩২) মানুষের কল্যাণার্থে মানুষের দোষ-ত্রুটি এবং গোপন বিষয় প্রকাশ না করা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপনকারীর দোষ গোপন করেন। তাকে উভয় জগতে পুরস্কৃত করেন। মানবতার নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৯৪৫) হজরত আলি (রা.) বর্ণনা করেন, ব্যতিব্যস্ত হয়ো না এবং কারো গোপন তথ্য ফাঁস করো না। কেননা তোমাদের পেছনে রয়েছে কেয়ামতের) ভীষণ কষ্টদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী বিপদসমূহ’ (আদাবুল মুফরাদ)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যখন তোমার সঙ্গীর দোষ চর্চা করতে ইচ্ছা করে, তখন তোমার নিজের দোষ স্মরণ করো।’ (আদাবুল মুফরাদ) আরটিভি/এসআর
অন্যের গোপন তথ্য ফাঁস করলে যে শাস্তি দেবেন আল্লাহ
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
‘আরটিভি জিপিএইচ ইস্পাত আলোকিত কোরআন ২০২৭’-এর ঢাকা অডিশন সম্পন্ন
আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ‘আরটিভি জিপিএইচ ইস্পাত আলোকিত কোরআন ২০২৭’-এর ঢাকা অডিশন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘আরটিভি জিপিএইচ ইস্পাত আলোকিত কোরআন ২০২৭’-এর ঢাকা অডিশন সম্পন্ন
অজু ছাড়া মোবাইল স্ক্রিনে কোরআনের আয়াত স্পর্শ করা যাবে?
প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় এখন মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের মাধ্যমে সহজেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা যায়। তবে অজু ছাড়া মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা কোরআনের আয়াত স্পর্শ করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
অজু ছাড়া মোবাইল স্ক্রিনে কোরআনের আয়াত স্পর্শ করা যাবে?
আরও পড়ুন
ক্ষমতার জন্য বিএনপির সঙ্গে থাকলেও জামায়াতের মনের মধ্যে আ. লীগ: রিজভী
‘কোনো সরকার বা বিশেষ ব্যক্তির জন্য নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে তথ্য কমিশন’
অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্গাপূজার মূল দর্শন: রাষ্ট্রপতি
অন্যের গোপন তথ্য ফাঁস করলে যে শাস্তি দেবেন আল্লাহ