
বিয়ে সহজ করতে দোয়া, কোরআনের বিশেষ দোয়া পাঠ এবং নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামি আলেমরা। তবে নির্দিষ্ট কোনো আমল করলেই দ্রুত বিয়ে হবে এমন নিশ্চয়তা কোরআন-হাদিসে নেই। বরং ইবাদতের পাশাপাশি বৈধ উপায়ে জীবনসঙ্গী খোঁজা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিয়ে শুধু দুজন মানুষের বন্ধন নয় বরং ভালোবাসা, প্রশান্তি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর পরিবার গড়ে তোলার বৈধ ও পবিত্র মাধ্যম। কিন্তু সামাজিক বাধা, আর্থিক অসচ্ছলতা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা কিংবা উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে না পাওয়ার কারণে অনেকের বিয়ে বিলম্বিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে গিয়ে কেউ কেউ হতাশায়ও ভুগছেন।
ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে উৎসাহিত করেছে। সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)
এ ছাড়া পবিত্র কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আর-রুম, আয়াত: ২১)
কোরআন-হাদিসের আলোকে বিয়ের জন্য আল্লাহর সাহায্য চাইতে পারেন যে তিন আমলে-
১. বেশি বেশি দোয়া করা
জীবনের প্রয়োজন ও সংকটে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিয়ের জন্যও নিজের ভাষায় আন্তরিকভাবে দোয়া করা যায়। আল্লাহর কাছে নেককার, দ্বীনদার ও উত্তম চরিত্রের জীবনসঙ্গী চাওয়ার পাশাপাশি বিয়ের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং হালাল উপার্জনের ব্যবস্থা সহজ করে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা যেতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন আমার বান্দারা তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) আমি তো নিকটেই। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬)
তাই বিয়ের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি পরিবারকে সম্পৃক্ত করা, উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী খোঁজা এবং অযৌক্তিক সামাজিক বাধা দূর করার চেষ্টা করাও জরুরি।
২. কোরআনের এই দোয়া পড়া
নেককার জীবনসঙ্গী ও সুন্দর পরিবার লাভের জন্য পবিত্র কোরআনের একটি দোয়া পড়া যেতে পারে। দোয়াটি সুরা আল-ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতে রয়েছে।
উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিন, ওয়াজ‘আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের চোখের প্রশান্তি দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।
(সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪)
এই দোয়ায় শুধু জীবনসঙ্গী লাভের আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এমন পরিবার গঠনের প্রার্থনাও রয়েছে, যে পরিবার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও নেক আমলের পথে চলতে সহায়ক হবে। ফরজ নামাজের পর কিংবা অন্য যেকোনো সময়ে দোয়াটি পড়া যায়। তবে বিয়ে দ্রুত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যায় বা বিশেষ নিয়মে এটি পড়তে হবে—এমন সহিহ প্রমাণ নেই।
৩. নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া
জীবনের কঠিন সময়ে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া মুমিনের অন্যতম আমল। বিয়ের বিষয়ে দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা কিংবা নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলে নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা যায়।
হজরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কোনো কঠিন বিষয় উপস্থিত হলে তিনি নামাজ আদায় করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)
তাই বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, উপযুক্ত জীবনসঙ্গী পাওয়া কিংবা পারিবারিক জটিলতা দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া এবং সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
বিয়ের জন্য দোয়া করুন, চেষ্টা চালিয়ে যান
বিয়ে বিলম্বিত হলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং নিজের চরিত্র ও জীবনযাপনের মান উন্নত করার চেষ্টা করা উচিত। বিয়ের সামর্থ্য থাকলে অযথা বিলম্ব না করে পরিবার ও সমাজের সহযোগিতায় বৈধ উপায়ে জীবনসঙ্গী খোঁজা প্রয়োজন।
মনে রাখতে হবে, দোয়া ও ইবাদত আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার মাধ্যম; এগুলোকে দ্রুত বিয়ে হওয়ার নিশ্চিত সূত্র হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়। আল্লাহর কাছে কল্যাণকর জীবনসঙ্গী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের প্রার্থনা করার পাশাপাশি ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা এবং বাস্তব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখাই উত্তম।
আরটিভি/এসকে

