
সাইবার বুলিংয়ের ফলে সৃষ্ট মানসিক ক্ষত কোনো শারীরিক নির্যাতনের যন্ত্রণার মতোই দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর হতে পারে। ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয় (এফএইউ) ও উইসকনসিন-ইউ ক্লেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২৬০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখেছেন যে, অনলাইন হয়রানি ব্যক্তির আত্মপরিচয় এবং পৃথিবীতে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ধারণাকে বিকৃত করে দেয়।
বিএমসি পাবলিক হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে বিষয়টি।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক মাসে ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনো ধরনের অনলাইন হয়রানির শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই বুলিং সবসময় সরাসরি হুমকির মাধ্যমে ঘটে না; বরং গ্রুপ চ্যাট থেকে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া বা কারও উপস্থিতিতে কথোপকথন থামিয়ে দেওয়ার মতো নীরব বর্জনের মাধ্যমেও মানসিক আঘাত দেওয়া হয়।
গবেষণার প্রধান লেখক অধ্যাপক ড. সামির হিন্দুজা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের অবহেলা বা নীরব নিষ্ঠুরতা যুবকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মানসিক ট্রমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ জানিয়েছে, তারা অবমাননাকর মন্তব্য, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং পরিচয় চুরির মতো ঘটনার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও কিশোর-কিশোরীরা এই সাইবার বুলিংয়ের কারণে তীব্র আতঙ্ক ও অনিদ্রায় ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে এই মানসিক আঘাত দীর্ঘমেয়াদি ছায়ার মতো মানুষের জীবনে রয়ে যায়, যা বড় হওয়ার পরেও তাদের কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষকেরা বলছেন, ফোন বা ইন্টারনেটের সামান্য সংকেতও ভুক্তভোগীদের মনে অতীতের দুঃসহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড. হিন্দুজা আবেগগত ও মানসিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাইবার বুলিং কোনো সাময়িক দুষ্টুমি নয়, বরং এটি একটি বাস্তব এবং গভীর ক্ষত যা সময়ের সঙ্গে সহজে মুছে যায় না। শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সচেতন ও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।
আরটিভি/এএইচ




